রাত ১১:২৪ ; বুধবার ;  ১৫ আগস্ট, ২০১৮  

পড়ুয়াদের গল্প

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট।।

ছোটবেলায় গল্পের বই পড়ার দিনগুলো কি এখনও মনে পড়ে? ক্লাসের বইয়ের ফাঁকে তিন গোয়েন্দা, চাচা চৌধুরী বা ঠাকুরমার ঝুলি। আমার বন্ধু রাশেদ পড়ে হয়তো কোনও শিশুর মনে জন্ম নিয়েছিল স্বাধীনতার চেতনা, ফেলুদা পড়ে হতে চেয়েছে দুর্দান্ত গোয়েন্দা, ইশপের গল্পে সে পেয়েছে নৈতিকতার শিক্ষা। গল্পের বইয়েই বিস্তার হতো আমাদের কল্পনার জগত।

যুগ পাল্টেছে। এখন শিশুরা আর কেবল গল্পের বইয়ে আটকে নেই। কম্পিউটার গেমস, কার্টুনসহ আরও হাজারও উপাদান রয়েছে তাদের বিনোদনের জন্য। কিন্তু এর কোনটাই কি গল্পের বইয়ের বিকল্প হয়ে উঠতে পেরেছে?

এইরকম উপলব্ধি থেকেই স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন  ‘লাইট অব হোপ’ এর কিছু উদ্যমী তরুণদের  হাত ধরে যাত্রা শুরু হয় প্রজেক্ট ‘পড়ুয়া’ (The Reader) এর।  এতে পুরাতন ও নতুন শিশুতোষ গল্পের বই সংগ্রহ করে গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে লাইব্রেরি করে দেওয়া হচ্ছে। স্কুলে নিয়মিত বই ইস্যু করা ও বই পড়াকে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে যেন এর মাধ্যমে শিশুদের সৃজনশীল ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

এইতো কিছুদিন আগেই কুড়িগ্রামের মেধাবী কল্যাণ সংস্থাকে লাইট অফ হোপের 'পড়ুয়া' প্রোজেক্ট থেকে লাইব্রেরির জন্য দেয়া হয়েছিল শিশুতোষ গল্পের বই ও ম্যাগাজিন। এখন সংস্থার সুবিধাবঞ্চিত বাচ্চারা বইগুলো পড়তে পারছে।

লাইট অফ হোপের প্রথম লাইব্রেরি করা হয়েছিল কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়াতে অবস্থিত পরশমনি বিদ্যানিকেতনে। ইতোমধ্যে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় মোট নয়টি লাইব্রেরির কাজ সম্পন্ন হয়ে গেছে।

লাইট অফ হোপ ব্যক্তিগত পর্যায়ে নতুন ও পুরাতন গল্পের বইগুলো সংগ্রহ করে। এছাড়া শিশুদের নিয়ে কাজ করে এমন প্রতিষ্ঠান যেমন ব্র্যাক, রুম টু রিড, সেভ দ্যা চিলড্রেন, ইউনিসেফের কাছ থেকে বই সংগ্রহ করছে, নীলক্ষেতের পুরাতন বইয়ের দোকান, প্রকাশনী ও অনলাইন বুক শপ রকমারি ডট কম থেকে বই কেনা হয়। সেবামূলক কার্যক্রমের জন্য এই বইগুলো বাচ্চাদের বয়স ও শ্রেণি অনুযায়ী আলাদা করে দেওয়া হয় যেন সঠিক বয়সে সঠিক বইটি বাচ্চারা পড়ে।

লাইট অফ হোপের সহ-উদ্যোক্তা ও পড়ুয়া প্রোজেক্টের পরিচালক নাসিমুল ইসলাম মারুফ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানালেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে যেহেতু কেউ লাইব্রেরি করার উদ্যোগ নিচ্ছে না দেশের শিশুদের একটি বড় অংশ বেড়ে উঠছে ক্লাসের বাইরের কোনও বই পড়া ছাড়াই। লাইব্রেরির সঠিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাদের অংশগ্রহণ ছাড়া এটি সম্ভব নয়। আমাদের করে দেওয়া লাইব্রেরিগুলোতে আমরা ধীরে ধীরে লাইব্রেরি কেন্দ্রিক নানা আয়োজন চালু করবো যেমনটি আগে বিশ্ব সাহিত্যকেন্দ্র থেকে করা হতো।

অপর উদ্যোক্তা ওয়ালিউল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, ‘লাইট অব হোপে আমরা শিশুদের পড়াশোনার পাশাপাশি মানসিক উন্নতির কথাও বিবেচনা করি। আর এখন সৃজনশীল পরীক্ষা পদ্ধতি চালু হওয়ার পর তো স্কুলে একটি লাইব্রেরি থাকা বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা শিশুদের সৃজনশীল হতে বলছি কিন্তু তাদের সৃজনশীলতা বৃদ্ধির জন্য সঠিক উপকরণ কিন্তু আমরা স্কুলে দিচ্ছি না। আমি অনেক স্কুলে দেখেছি বাচ্চারা ক্লাস ৪-৫ এ উঠে গেছে কিন্তু এখনও সঠিকভাবে বাংলা পড়তে পারে না। গল্পের বই পড়তে পড়তে যদি একটি বাচ্চার রিডিং স্কিল বাড়ে এবং নিজের মতো করে লেখার ক্ষমতা বাড়ে তাহলে শিক্ষক বা অভিভাবক হিসাবে আর গল্পের বইকে না কেন বলবেন?’  

শিক্ষাক্ষেত্রে যেসব সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে তাদের সহায়তা পেলে এই কার্যক্রমগুলো দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।  

পড়ুয়া এবং ডিজিটাল স্কুল প্রোজেক্ট এর বিস্তারিত জানতে ঘুরে আসতে পারেন লাইট অফ হোপের ফেসবুক পেজ থেকে https://www.facebook.com/lohbd.org

পড়ুয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে আগ্রহীরা যোগাযোগ করতে পারেন ০১৭১৭০৬১৭২১ নাম্বারে। 
 

/এআই/এফএএন/

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।