রাত ০২:০১ ; রবিবার ;  ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০  

ফোক আর্টের প্রদর্শনী

প্রকাশিত:

নাজিয়া লোপা।।

শিল্প সংগঠন সন্তরণ ও গ্যালারি চর্যার আয়োজনে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায় কর্ণফুলি ফোক আর্ট ট্রিয়েনাল ঢাকা পর্বের চিত্র প্রদর্শনী উদ্বোধন হয়েছে ১৩ সেপ্টেম্বর। প্রদর্শনী উদ্বোধন করে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডীন অধ্যাপক নিসার হোসেন।

এতে নেপালের প্রাচীন শিল্পকলা থাংকা, পোভা ও মিথিলা, ভারতের পটচিত্র ও মধুবনী শিল্পকলা, বাংলাদেশের রিকশা অ্যাপ্লিক, আলপনা শিল্প এবং সিনেমার ব্যানার পেইন্টিং প্রদর্শিত হচ্ছে।

নেপালের প্রাচীন শিল্পকলা থাংকা, পোভা ও মিথিলা, ভারতের পটচিত্র ও মধুবনী শিল্পকলা, বাংলাদেশের রিকশা অ্যাপ্লিক, আলপনা শিল্প এবং সিনেমার ব্যানার পেইন্টিং প্রদর্শিত হয়েছে উৎসবে।

প্রদর্শনীতে ঢোকার পর চোখে পড়বে, এক হাতে সুতা, অন্য হাতে গোলাপ আর অন্য দুই হাত সামনে করজোড় প্রাথনারত ভঙ্গিতে পদ্মফুলের সুস্বজিত আসনে ধ্যানরত গৌতমবুদ্ধ। পিছনে সমুদ্রের জলরাশি, উপরে গুচ্ছ গুচ্ছ সাদা মেঘ সারি। ক্যানভাস কাপড়ে উপরে লাল, নীল, হলুদ ও সবুজ রঙে এঁকে ঐতিহ্যবাহী কংসাম নামের সিল্কের কাপড়ে বাঁধানো ছবিটির এই রূপ ফুটিয়ে তুলেছিলেন নেপাল থেকে আসা শিল্পী দরজি গুরুং লামা। এ প্রদর্শনীতে নেপালের থাংকা লোকশিল্প উপস্থাপন করেছেন শিল্পী দর্জি গুরুং লামা। বৌদ্ধ ধর্মের দর্শন তুলে ধরার জন্য এই রীতির উদ্ভব। যুগের পর যুগ বংশ পরম্পরা একই নিয়ম ও পদ্ধতি মেনে থাংকা চিত্র এঁকে চলছেন শিল্পীরা। পরিষ্কার ক্যানভাস কাপড়ে ছবি এঁকে বাঁধাই করা হয় ঐতিহ্যবাহী কংসাম নামের সিল্কের কাপড়ে। থাংকা চিত্রকলার প্রধান শর্ত হচ্ছে এটি নিখুঁত হতে হবে। ছবি নিখুঁত না হলে এটি প্রদর্শন করা হয় না। গাছের ছাল, মাটি, পাথর ও ফুল থেকে থাংকার চিত্রের জন্য রং তৈরি করা হয়। থাংকায় রেখাকে প্রাধান্য দিয়ে পরবর্তীতে প্রাকৃতিক রঙের ব্যবহার করা হয়। একটি চিত্রকর্ম করতে দুই মাস থেকে দুই বছর পর্যন্ত সময় লাগে শিল্পীদের। শিল্পী দরজি গুরুং লামা তাঁর শিল্পকর্ম সর্ম্পকে বলেন, ‘থাংকা আমাদের ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্প। থাংকা মূলত প্রাচীন বৌদ্ধধর্মীয় বিশেষ চিত্রকলা। প্রাচীন নেপালে বৌদ্ধধর্ম ও তাঁর দর্শন প্রচারের জন্য নেপালিরা এই চিত্রকলার ব্যবহার করতেন। সেখান থেকেই এই চিত্রকলার উদ্ভব।’

নেপালের আরেকটি ঐতিহ্যবাহী শিল্প হচ্ছে মিথিলা চিত্রকলা। গ্রামীণ জীবনযাপন ও বৃক্ষ এই চিত্রকলার বিষয়। মূলত নারীরা মিথিলা শিল্পকলার শিল্পী। বতর্মানে পুরুষেরাও এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। এই ধারায় কাজ করে খ্যাতি অজর্ন করেছেন নেপালের শিল্পী শ্যামসুন্দর যাদব। তিনি তাঁর দাদীর কাছ থেকে মিথিলার শিক্ষা নিয়ে এখন আধুনিক ধারার সঙ্গে মিলিয়ে ছবি আঁকছেন এবং কাজ সমূহের নাম দিয়েছেন মর্ডান মিথিলা।

এ ছাড়া পটচিত্র নিয়ে কাজ করেন ভারতের শিল্পী মনিমালা চিত্রকর, রিকশা অ্যাপ্লিকে কাজ করেছেন শিল্পী মদন দে, আলপনা শিল্প নিয়ে শিল্পকর্ম করেছেন শিল্পী সাথি চক্রবর্তী, সিনেমার ব্যানার পেইন্টিং নিয়ে শিল্পকর্ম করেছেন শিল্পী হানিফ পাপ্পু। চট্টগ্রামের শিল্পী শতাব্দী সোমা ‘একটি অনাকাঙ্খিত গল্প শিরোনামে স্থাপনা শিল্পকর্ম প্রদর্শন করেন। এখানে তিনি মেঝে থেকে দেয়ালের গায়ে ধান বীজ দিয়ে কোলাজ ছবি তৈরি করেছেন। বারটি ছবিতে দেখিয়েছেন মা ও মেয়ের সম্পর্কের সূত্র।

প্রদর্শনীর শিল্পকর্মসমূহ একই রীতিতে হলেও বৈচিত্র্যময় তাঁর সৃষ্টি। দেখতে একঘেয়েমি লাগে না। লোকশিল্প নিয়ে শিল্পীরা ছবি আঁকতে গিয়ে শুধু যে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছেন তা নয়, নতুন করে অনবরত খুঁজে ফিরেছেন নিজের শেকড়কে।

এ প্রদর্শনী আজ (১৭ সেপ্টেম্বর) চলবে রাত ৮টা পর্যন্ত বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আর্ট গ্যালারিতে।

 

আরএফ 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।