ভোর ০৭:৫০ ; বৃহস্পতিবার ;  ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৮  

যুদ্ধের আখ্যান || জোয়ান লীডম-একারম্যান

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

তর্জমা : হোসনেয়ারা ইয়াসমিন ইতি ||

আফগানিস্তান এবং ইরাকে আমেরিকার শুরু করা যুদ্ধের ১৪ বছর হয়ে গেলেও এই সংঘাত নিয়ে আমেরিকান সাহিত্য খুব সম্প্রতি রচিত হতে শুরু করেছে। আমি সেইসব প্রত্যক্ষ-অভিজ্ঞদের প্রশংসা করি যারা পর্যায়ক্রমে ‘তাদের জীবনের সবচেয়ে খারাপ এবং ভালো দিনগুলি’-কে সাহিত্যে পরিণত করেছেন। তারা সব ফর্মেই কাজ করেছেন তাদের সত্য অন্বেষণে : কবিতা, ছোটগল্প, স্মৃতিকথা এবং উপন্যাসে। (আমি একজন নৌ-সৈনিকের মা যে কিনা উভয় ক্ষেত্রেই আছে– সংঘর্ষ এবং ঔপন্যাসিকদের তালিকায়ও।) আমি এই প্রস্তাবিত লেখাগুলোকে একত্র করেছি– একই সঙ্গে একশ’ বছর আগের মহাযুদ্ধের ইতিহাস এবং গুয়ানতানামোতে একজন যুদ্ধবন্দীর ডায়েরিও। সাহিত্যে সত্য সব সময় আংশিকভাবে নির্ধারিত হয় বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির দ্বারা। এই বইগুলোতে পাঠক বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে একটি যাত্রা শুরু করতে পারেন। 

 

যে যুদ্ধে শান্তির অবসান হয়েছে : দ্যা রোড টু 1914
মার্গারেট ম্যাকমিলান
র‌্যানডম হাউস

এই প্রবন্ধের বইয়ে মার্গারেট ম্যাকমিলান প্রথম বিশ্বযুদ্ধের জন্য দায়ীদের জীবনের গল্প বলে ইতিহাস তুলে ধরেছেন। তবে বর্ণিত চরিত্রগুলো এবং তার চাচাতো-মামাতো ভাইবোনেরা খুব সহজেই একটা কথাসাহিত্যকে জনপ্রিয় করে তুলতে পারত তাদের নাটকীয়তা, কল্পনা আর উদ্ভট কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে। ম্যাকমিলান একটি অভ্যন্তরীণ দৃষ্টিভঙ্গিতে তুলে ধরেছেন রাজনীতি আর বহু ঘটনাবলী, যা কিনা একটা যুদ্ধের জন্ম দিয়েছে বলে অনেকে মনে করেন এবং সেই সাথে তারা মনে করত যা হওয়া উচিত ছিল না।

 

আমার জীবন একটি পরদেশ : আ মেমোয়ের
ব্রায়ান টার্নার
ডব্লিউ ডব্লিউ নরটন

লেখক একজন আর্মি সার্জন। তিনি আমেরিকায় তার শিক্ষাজীবনের শুরুতে শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নির্ণয় করতে শেখা এবং টেলিভিশনে যুদ্ধকৌশল দেখেছেন। তারপর ইরাকে পৌঁছে সত্যিকারের যুদ্ধের মুখোমুখি হন। ১৯ টনের ট্যাঙ্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা স্টিলের একটি যুদ্ধ-হাতিতে চড়লাম।’ তিনি তার অভিজ্ঞতা আর ঘরে ফিরে যাওয়ার বর্ণনা করেছেন কবির ভাষায়। যাতে পাওয়া যায় কঠোরতম পরিস্থিতিগুলো, যা ছিলো– সিক্ত, ঝড়ে ধ্বস্ত খড়কুটা– যা তার লেখায় রূপান্তরিত হয়েছে সোনা এবং শিল্পে।

 

পুনঃসংস্থাপন
ফিল ক্লে  
পেঙ্গুইন

আমেরিকার মেরিন কর্পসের এক যোদ্ধা ডজনখানেক ছোটগল্পের সংকলন করেছেন উত্তম পুরুষের বক্তাদের নিয়ে– যেমন : সামনে ও পেছনের লাইনের সৈনিকরা, বিভাগীয় দপ্তরের লোকজন, দেশে তাদের পরিবার, বন্ধুবান্ধব, স্ত্রী, প্রেমিকা– তাদের বক্তব্য একত্র করেছেন। বক্তাদের কথাবার্তা রসাত্মক, অপ্রতিহত, স্মৃতিকাতর এবং গল্পগুলো পাঠকদের একইসাথে হাসায়, কাঁদায় এবং বিস্মিত করে যে, কীভাবে একটা যুদ্ধাক্রান্ত প্রজন্ম আবার তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যায়, ঠিক আগের মতই।

 

গ্রিন অন ব্লু
এলিয়ট একারম্যান
স্ক্রিবনার

এই উপন্যাসটি একজন আফগান এতিমের দৃষ্টিতে তুলে ধরেছে আফগানিস্তানের যুদ্ধ– যে কিনা সংঘর্ষে আমেরিকানদের দিকে ফেঁসে যায় তার ভাইকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য। সে খুব তাড়াতাড়ি শিখে যায় যে একটা যুদ্ধের অনেকগুলো দিক থাকে এবং অনেক ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি– যার কারণে সত্যের চমক থাকে শুধুমাত্র দ্রষ্টার চোখে।

 

গুয়ানতানামোর ডায়েরি
মোহামেদোউ অউল্ড স্লাহি (সম্পাদনা : ল্যারি সিমস)
লিটল, ব্রাউন

‘গুয়ানতানামোর ডায়েরি’ এমন একজনের চোখ দিয়ে যুদ্ধের ভয়াবহতার গল্প বলে যে কিনা বন্দী হয়েছে, অমানুষিক নির্যাতন সয়েছে এবং তারপরেও নিজের নির্দোষ থাকার কথা ঘোষণা করে গেছে। সিমসের সম্পাদনায় আর সেন্সর-সহ লিপিবদ্ধ হয়ে মোহামেদোউ অউল্ড স্লাহি সাহিত্যানুগ এবং খুব মানবিক কন্ঠে শুনিয়েছেন এই যুদ্ধের বিভীষিকা আর মানবিকতার কথা, যা কখনও শেষ হবে না।

 

 

জোয়ান লীডম-একারম্যান 

জোয়ান লীডম-একারম্যান একজন আমেরিকান ঔপন্যাসিক, কথাসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক। তার রচিত কথাসাহিত্যের মধ্যে রয়েছে– দ্যা ডার্ক পাথ টু দ্যা রিভার ও নো মার্বেল আঞ্জেলস। তিনি পিইএন ইন্টারন্যাশনালের ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের সাথেই কাজ করছেন ‘পিইএন/ফকনার ফাউন্ডেশন’, ‘পোয়েটস এবং রাইটার্স’, ‘দ্যা ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফোর জার্নালিস্টস’ এবং ‘ওয়ার্ডস উয়িদাউট বর্ডারস’ বোর্ডে।  

 

 

 

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।