সকাল ১০:৩৯ ; রবিবার ;  ১৮ নভেম্বর, ২০১৮  

এবার তিন ইস্যুতে অডিট মোবাইল অপারেটরগুলোর

প্রথমেই গ্রামীণফোন ও রবি

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

হিটলার এ. হালিম।।

আবারও দেশের সব মোবাইলফোন অপারেটরকে নিরীক্ষা (অডিট) করবে সরকার। এবার তিনটি ইস্যুকে প্রাধান্য দিয়ে নিরীক্ষা কাজ চালানোর জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই হিসেবে ফিনান্সিয়াল, টেকনিক্যাল ও কমপ্লায়েন্স—এই তিনটি ইস্যুতে নিরীক্ষা কার্যক্রম চলবে। দুই-একদিনের মধ্যেই চিঠি দিয়ে অপারেটরগুলোকে এ বিষয়ে জানিয়ে দেওয়া হবে। তবে ৬ অপারেটরের মধ্যে গ্রামীণফোন ও রবির নিরীক্ষা আগে হবে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বড় টেলিকম অপারেটর হিসেবে প্রথমে গ্রামীণফোন এবং রবির নিরীক্ষা আগে শুরু হবে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ অবস্থানগত দিক থেকে রবিকে দ্বিতীয় শীর্ষ অপারেটর হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এ দুটো অপারেটরের নিরীক্ষা শেষ হলে পর্যায়ক্রমে অবশিষ্ট অপারটরগুলোরও নিরীক্ষা হবে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব এম. রায়হান আখতার বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, এবার ফিনান্সিয়াল, টেকনিক্যাল ও কমপ্লায়েন্স এই তিনটি বিষয়েকে প্রাধান্য দিয়ে নিরীক্ষা কার্যক্রম চলবে। তিনি বলেন, এটা করতেই হবে। আমাদের ওপর এটা নিয়ে একটা ‘অবলিগেশন’ আছে। তিনি আরও বলেন, সোমবার সবকিছু চূড়ান্ত হয়ে গেলে মঙ্গলবার থেকেই অপারেটরগুলোকে চিঠি পাঠানো শুরু হবে। 

ফিনান্সিয়াল, টেকনিক্যাল ও কমপ্লায়েন্স—এই তিনটি বিষয়কে আমলে নেওয়ার পেছনে কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, অপারেটরটির আর্থিক সক্ষমতা (রাজস্ব, পরিচলন ব্যয়, মুনাফা, মার্কেট শেয়ার, গ্রাহক প্রতি আয়), কারিগরিভাবে কতটা সক্ষম (যা বলা হচ্ছে বা দাবি করা হচ্ছে তা আসলেই রয়েছে কিনা) এবং কমপ্লায়েন্স (অফিসের কর্ম পরিবেশ, শ্রমিক আইনের চর্চা, কর্মীর নিরাপত্তা ইত্যাদি বিষয়)ঠিকমতো প্রতিপালন হয় কি না, সে সব দেখা হবে।

জানা গেছে, এরই মধ্যে টেন্ডারের মাধ্যমে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসি অডিট ফার্ম (আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান) চূড়ান্ত করেছে। অডিট ফার্মগুলোকে প্রচলিত আইন, বিধি মেনে মোবাইল অপারেটরগুলোকে অডিট করতে বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিরীক্ষা কাজে নিয়োজিত অডিট ফার্মের পেমেন্ট বিটিআরসি পরিশোধ করবে। যদিও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সিদ্ধান্ত ছিল, মোবাইফোন অপারেটররাই অডিট ফার্মের পেমেন্ট দেবে। তবে বিটিআরসির আপত্তির মুখে সিদ্ধান্ত হয়েছে, পেমেন্ট অপারেটররা নয়, বিটিআরসিই পরিশোধ করবে।   

প্রসঙ্গত, প্রথমবারের মতো ২০১১ সালে গ্রামীণফোন এবং বাংলালিংকের নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে বিটিআরসি। তবে সেই নিরীক্ষা নিয়ে আলোচনা, সমালোচনাও কম হয়নি সে সময়। অপারেটররা আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত ও সুপরিচিত অডিট ফার্মকে দিয়ে নিরীক্ষার দাবি জানিয়েছিল বারবার। যদিও সেই দাবি কানে তোলেনি বিটিআরসি। নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান আহমেদ জাকের অ্যান্ড কোম্পানি বাংলালিংকের নিরীক্ষা কাজের দায়িত্ব পায়। তবে দায়িত্ব পাওয়ার কিছুদিন পরে প্রতিষ্ঠানটি তাদের নিরীক্ষা কাজ পরিচালনায় তাদের অপারগতার কথা জানায়।

তবে গ্রামীণফোনের নিরীক্ষা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে শেষ করে ফজল অ্যান্ড কোম্পানি। ওই বছরের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ৬ মাস সময় নিয়ে নিরীক্ষা কাজ শেষ করে প্রতিষ্ঠানটি। পরে নিরীক্ষা প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে ২০১১ সালের ৩ অক্টোবর গ্রামীণফোনের কাছে ৩ হাজার ৩৪ কোটি টাকা দাবি করে চিঠি দেয় বিটিআরসি। ওই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তখন গ্রামীণফোন দেশীয় ওই নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানটির নিরীক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তোলে। বিষয়টির সুরাহা না হওয়ায় তা আদালত পর্যন্ত গড়ায়। অপারেটরটিকে দেওয়া ওই টাকা দাবির চিঠির ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেন হাইকোর্ট।

অন্যদিকে, অন্য একটি নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৩ সালের ৯ ডিসেম্বরে হাইকোর্ট বিভাগ বিটিআরসির অডিট নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে রায় দেন। যদিও প্রথম থেকেই মোবাইল অপারেটরগুলো আন্তর্জাতিক অডিট ফার্ম দিয়ে নিরীক্ষার দাবি করেছিল।

/এমএনএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।