রাত ০২:৩৭ ; সোমবার ;  ১৬ জুলাই, ২০১৮  

ডেঙ্গু থেকে সাবধান!

প্রকাশিত:

নাজিয়া লোপা ।।

হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। সম্প্রতি অভিনয় শিল্পী এবং মডেল আলীফ চৌধুরীর নয়মাসের শিশুপুত্র আরীব ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে। ডেঙ্গু জ্বরে সবাই কাবু হয়ে যায় মাত্র কয়েকদিনের মাঝে। শুধু তাই নয়, ছোট-বড় সবার জন্য ডেঙ্গু মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। এজন্য আগে থেকেই সতর্ক থেকে ডেঙ্গু জ্বরকে প্রতিরোধ করাই বাঞ্ছণীয়। বাঙলা ট্রিবিউন লাইফস্টাইলের সঙ্গে জেনে নিন ডেঙ্গু জ্বর হওয়ার কারণ এবং এর প্রতিরোধের সম্ভাব্য উপায়।

ডেঙ্গু কেন হয়?

সাধারণত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত কোনো রোগীকে এডিস মশা কামড়ালে ডেঙ্গু ভাইরাস এডিস মশার দেহে প্রবেশ করে। সেই ভাইরাসবাহী এডিস মশা কোনো সুস্থ ব্যক্তিকে কামড়ালে ডেঙ্গু ভাইরাস তার দেহে ঢুকে পড়ে এবং আক্রান্ত হয় ওই ব্যক্তি। কাজেই ডেঙ্গু ছড়ানোর ক্ষেত্রে প্রারম্ভিক আক্রান্তকারী (যাকে প্রাইমারি বা ইনডেক্স কেস বলা হয়ে থাকে) শনাক্তকরণ ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য খুবই জরুরি। যেহেতু এডিস মশা এ রোগের বাহক, তাই আক্রান্ত ব্যক্তির আশপাশের এলাকাজুড়ে বাড়ি বাড়ি মশা মারার দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস করতে হবে।

 

ডেঙ্গুর লক্ষণ:

  • ·       হঠাৎ করে অধিক তাপমাত্রার জ্বর
  • ·       কপালে, গায়ে ব্যাথা
  • ·       চোখে ব্যাথা। চোখের মণি এদিক-ওদিক তাকালে ব্যাথা।
  • ·       দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া
  • ·       পায়খানার সঙ্গে রক্ত, অথবা কালো কিংবা লালচে-কালো রঙের পায়খানা
  • ·       কোনও কোনও ক্ষেত্রে প্রস্রাবের সঙ্গেও অনেক সময় রক্ত যাওয়া
  • ·       শরীরের অস্থিসন্ধি ও মাংসপেশিতে প্রচণ্ড ব্যাথা
  • ·       শরীরের বিভিন্ন স্থান ফুলে যাওয়া
  • ·       শরীরে র‌্যাশ ওঠা

 

কখন ডেঙ্গু ভয়ঙ্কর:

ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার খুবই মারাত্মক। মস্তিষ্কেও রক্তক্ষরণ হতে পারে। খুব দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে বিশেষ পরীক্ষার পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য।

 

ডেঙ্গু হেমোরেজিক (রক্তক্ষরণী) জ্বর শনাক্তের উপায়:
অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, অস্থিরতা, অবসন্নতা, পেটে তীব্র ব্যথা, হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া, ত্বক কুঁচকে যাওয়া, রক্তচাপ কমে যাওয়া, বেশি বেশি প্রস্রাব হওয়া- এধরনের লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্র রোগীকে হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে। সময়মতো সঠিক ব্যবস্থাপনায় ডেঙ্গু হেমোরেজিক জ্বরও সারিয়ে তোলা যায়। বেশি রক্তক্ষরণ হলে ফ্রেশফ্রোজেন প্লাজমা কিংবা কনসেনট্রেটেড প্লেটলেট, অথবা প্রয়োজনে পূর্ণ রক্ত-পরিসঞ্চালনের মাধ্যমে চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।

 


ডেঙ্গু প্রতিরোধ
ডেঙ্গু ভাইরাস ছড়ায় এডিস মশা। এ মশা সাধারণত প্রবহমান জলাধার ও নদ-নদী বা খালে ডিম পাড়ে না। তার বদলে বাড়ির আশপাশে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতেই এ মশা জন্ম নেয়। তাই এডিস মশা দূর করা হচ্ছে ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। এ জন্য বাড়ির আশপাশে অপ্রয়োজনীয় ও স্বচ্ছ পানি জমে থাকে এমন সব জিনিস সরিয়ে ফেলুন। ভাঙা পাত্র, নারিকেলের খোলা, পুরনো টায়ার কিংবা পানি জমে থাকে-এ ধরনের জিনিষগুলো পরিহার করুন।এছাড়া অপ্রয়োজনীয় পানির ট্যাংক ও চৌবাচ্চা বন্ধ করে দিন কিংবা সম্পূর্ণ খালি করে রাখুন।

এসময়টায় মশারি ব্যবহার করই বাঞ্ছণীয়।

 

তথ্য: সংগ্রহ

 

আরএফ

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।