রাত ০৯:৪১ ; মঙ্গলবার ;  ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৮  

নান্দনিক কৃত্রিম ছাদ

প্রকাশিত:

সোহেলী সায়মা সেঁজুতি॥ 

একসময় ঘরের সিলিং থাকতো অনেক উঁচু। সঙ্গে বিশাল বড় জানালা যাতে ক্রস ভেনটিলেশন হয় সহজে। জায়গার অভাবে এখন আর এ ধরনের ইন্টেরিওর করা সম্ভব নয়। ছোট জায়গার মধ্যেই নান্দনিকতা নিয়ে আসতে আধুনিক কৃত্রিম ছাদ এখন বেশ জনপ্রিয়তা তাই। মূল ছাদের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য আরও একটি অতিরিক্ত ছাদই হলো ফলস সিলিং।

ফলস সিলিঙের মূল উদ্দেশ্য সৌন্দর্য বৃদ্ধি। পাশাপাশি এটি ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের কাজও করে। এজন্য বাসাবাড়ি তো বটেই; অফিস, ডিসপ্লে সেন্টার, শো-রুম, রেস্টুরেন্ট বা ইনডোর স্টেডিয়ামে ফলস সিলিঙের জনপ্রিয়তা ব্যাপক। এছাড়াও ঘরকে কৃত্রিম আলোয় আলোকিত করার অন্যতম উপায় ফলস সিলিং। আবার অনেক সময় ত্রুটিপূর্ণ ছাদ ঢাকার জন্যও ফলস সিলিং ব্যবহার করা হয়।
 

যদি ঘরকে তাপ ও শব্দ নিরোধক করতে চান, তাহলে ফলস সিলিংয়ে ব্যবহার করতে হবে মিনারেল বোর্ড। মিনারেল বোর্ড তাপ ও শব্দ দুটোই শুষে নেয়। অবশ্য এ বোর্ড ব্যবহার করলে সিলিং ফ্যান ব্যবহার করা যাবে না। সিলিং ফ্যান ব্যবহার করতে চাইলে ফলস সিলিংয়ে জিপসাম বোর্ড ব্যবহার করুন। এটাও তাপ এবং শব্দ নিরোধক। কাঠ, কাচ ও মেটাল দিয়ে ডিজাইন করা সিলিং অফিসের অভ্যর্থনা কক্ষ, রেস্তোরাঁ, বাসা বা খাবার ঘরে ব্যবহার করা যায় অনায়াসে। এছাড়াও এলকো প্যানেল, মেটালিক সিলিং ও ফলস ডেকোরেটিভ সিলিঙে কাজ করার ক্ষেত্রে কাঠ, কাচ ও মেটাল দিয়ে ডিজাইন করতে পারেন। এটা দেখতে যেমন সুন্দর লাগবে তেমনি প্রকাশ করবে আভিজাত্যও।

ঘরের পর্দা ও ফার্নিচারের সঙ্গে মিলিয়ে ফলস সিলিংয়ের ডিজাইন করা যায়। জিপসাম বোর্ডের মাঝে এনামেল কালার করে সিলিংয়ের সৌন্দর্য বাড়াতে পারেন। চাইলে এনামেল কালারের পরিবর্তে ডেকো পেইন্টও করা যায়। মূল সিলিং থেকে ফলস সিলিঙের রঙ ভিন্ন হতে হবে। একটি হালকা এবং অপরটি গাঢ় রঙে রাঙান।

সাধারণত ফ্লোর থেকে সিলিংয়ের উচ্চতা নয় থেকে দশ ফুট হয়। বাথরুমের মেঝে থেকে ফলস সিলিংয়ের উচ্চতা হয় সাত থেকে সাড়ে সাত ফুট। আর বাসা, অফিস বা অন্যান্য ক্ষেত্রে ফলস সিলিংয়ের উচ্চতা হয় আট ফুট। তবে অনেক সময় ডিজাইনের তারতম্যের কারনে এই মাপের কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে।

ফলস সিলিংয়ে বাহারি লাইট দিয়ে আকর্ষণীয় করে তুলতে পারেন ঘরকে। হিডেন লাইট, স্পট লাইট, টিউব লাইট বা ফলস লাইট নকশা করা ছাদে নিয়ে আসবে চমৎকার আবহ। কিছু লাইট আছে যা সরাসরি মেঝেতে এসে পড়বে কিন্তু উপরের অংশ থাকবে তুলনামূলক অন্ধকার। আবার ডিফিউজ লাইট ছাদকে আলোকিত করলেও ঘরজুড়ে খেলা করবে আলোছায়া। ঘরের কোন জায়গায় বেশি আলো পড়বে আর কোন জায়গায় কম আলো পড়বে তা সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন ফলস সিলিংয়ের সাহায্যে। চাইলে কোনও নির্দিষ্ট জিনিসকে ফোকাস করে লাইটিংয়ের ব্যবস্থা করতে পারেন। আবার যদি চান শুধু বসার ঘরের শোকেসটি অথবা খাবার ঘরের টেবিলটি থাকবে আলোকিত, তবে সে অনুযায়ী নকশা করে লাইট বসিয়ে নিন সিলিংয়ে।  ইচ্ছা করলে কয়েক রঙা আলোয় ঘরে নিয়ে আসতে পারেন মায়াবী আবহ। ঘরের মেঝেতে যদি থাকে রিফ্লেক্টিং টাইলস, তবে আলো-আঁধারির এই খেলা আরও জমে উঠবে।

অফিস কিংবা ডিসপ্লে শোরুমের ক্ষেত্রে সাধারণত বেশি আলো দরকার হয়। তাই ফলস সিলিং ঝালর দিয়ে সাজিয়ে নিতে পারেন। বড় রুম হলে ছাদের দুই প্রান্তের অংশ একসঙ্গে এনে মিলিয়ে দিন। এছাড়া ফলস সিলিংয়ের মাঝে রঙ করা আয়না বসিয়েও ঘরের চাকচিক্য বাড়ানো যায়। আভিজাত্যের ছোঁয়া আনতে বোর্ডের মাঝে মাঝে ব্যবহার করতে পারেন ডেকোরেটিভ গ্লাস বা নকশাদার কাচ, গ্লাস টাইলস ও স্পটলাইট। ছাদে যদি কোনও রকম ত্রুটি না থাকে, তবে ঝকঝকে কাচের ছাদ লাগাতে পারেন। তবে এ ধরনের ছাদ ব্যবহারের আগে এর সাপোর্টিভ এলিমেন্ট মজবুত কিনা তা পরখ করে নিতে হবে। না হলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে যেকোনও সময়।

বাথরুমের ফলস সিলিংয়ে কংক্রিট ঢালাই দিতে পারেন। এতে বাথরুমের মূল সিলিং থেকে ফলস সিলিংয়ের মধ্যে বেশ খানিকটা জায়গা পাওয়া যাবে। এ জায়গাটুকু অনায়াসে ব্যবহার করা যায় স্টোরেজ হিসেবে। বাথরুমের ফলস সিলিংয়ে কাঠের দরজা ব্যবহার করাটাই ভালো । তবে দরজা যেন খাঁজকাটা হয়। এতে ফলস সিলিংয়ে স্টোর করা জিনিসপত্র নষ্ট হবেনা। আর যদি সম্ভব হয় তাহলে ফলস সিলিংয়ের ওপরের স্টোরেজে এগজস্ট ফ্যান ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি অবশ্যই আলোর ব্যবস্থা রাখতে হবে যাতে জিনিসপত্র রাখতে ও বের করতে সুবিধা হয়।

লেখক: ইন্টেরিওর আর্কিটেক্ট
ছবি: আর্কিডেন ইন্টিরিওর

/এনএ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।