দুপুর ০২:১০ ; বৃহস্পতিবার ;  ২৭ জুন, ২০১৯  

দেশে মানসিক রোগী বাড়ছে

প্রকাশিত:

নূরে আলম দুর্জয়।।

গত কয়েক বছরে দেশে মানসিক রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বেড়েছে বলে মনে করছেন মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে কর্মরত চিকিৎসকরা। এই বৃদ্ধির হার খুব দ্রুত না হলেও আশঙ্কাজনক বলেই মনে করছেন তারা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মসংস্থানের অভাব, মাদকাসক্তি, পারিবারিক কলহ ও সম্পর্কজনিত সংকটের কারণেই বাড়ছে মানসিক সমস্যা।

ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব মেন্টাল হেলথ-এর পরিচালক মোহাম্মদ ওয়াজিউল আলম চৌধুরী বলেন, ‘সমাজে মানসিক সমস্যা হওয়ার মতো নানা সংকট বাড়ছে বলে রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সমাজের সব স্তরেই শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে বিষণ্নতা দেখা দিচ্ছে। এ ছাড়া মাদকাসক্তির প্রভাবও রয়েছে।’

তিনি জানান, ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব মেন্টাল হেলথ-এর নথি থেকে দেখা যায়, গত বছরের চেয়ে এ বছর মানসিক সমস্যা নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর সংখ্যা বেশি। প্রতিষ্ঠানের নথিরক্ষক পারভিন আক্তার জানান, রোগীদের বেশিরভাগই পুরুষ। গত ৩ বছরে তাদের সংখ্যাই বেশি বেড়েছে। ইন্সটিটিউটের বহির্বিভাগে ২০১২ সালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর সংখ্যা ছিল মাসে গড়ে ১ হাজার ৯৯১ জন এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করা রোগীর সংখ্যা ছিল দেড় শতাধিক।

পরের বছর, ২০১৩ সালে রোগীর গড় সংখ্যা সামান্য বাড়ে। সে বছর বহির্বিভাগের রোগীর গড় সংখ্যা দাঁড়ায় মাসে ২ হাজার ৮২ ও ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় প্রতি মাসে গড়ে ১৭৮ জন।

কিন্তু তার পরের বছর অর্থাৎ ২০১৪ সালে এই সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে যায়। বহির্বিভাগে প্রতি মাসে গড়ে ২ হাজার ৯১৭ জন রোগী আসে ও হাসপাতালে ভর্তি হয় মাসে গড়ে ১৯২ জন করে।

নথি থেকে আরও জানা যায়, এই বছর প্রথম দু’মাসে এই গড় সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ২ হাজার ৯৩৫ ও ১৪৯ জন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট কাউন্সিলিং অ্যান্ড গাইডেন্স সেন্টারে পরামর্শের জন্য আসা শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বাড়ছে। এ বছরের শুরুতে অন্তত ২৪০ জন শিক্ষার্থী এখানে পরামর্শের জন্য এসেছে বলে জানিয়েছেন এই সেন্টারের কর্মকর্তারা।

স্টুডেন্ট কাউন্সিলিং অ্যান্ড গাইডেন্স সেন্টারের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রাশেদ জামান শোভন বলেন, ‘পরামর্শের জন্য আসার এ হার দেখে মনে হয়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে চাপ ও হতাশা ক্রমেই বাড়ছে।’

তিনি আরও জানান, ‘বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই আসে পারিবারিক ও প্রেমঘটিত সমস্যা নিয়ে, কেউ কেউ পড়ালেখা ও অন্যান্য সমস্যা নিয়েও আসে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড আফরোজা হোসেন বলেন, ‘অনেক সময় সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা, নারীদের ক্ষেত্রে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতা ইত্যাদির কারণেও বিষণ্নতা দেখা দেয়।’

ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব মেন্টাল হেলথ-এর পরিচালক মোহাম্মদ ওয়াজিউল আলম চৌধুরী বলেন, ‘ব্যাপক সামাজিক সচেতনতা মানুষের মধ্যে ডিপ্রেশন কমাতে সাহায্য করতে পারে।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)-এর তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীজুড়ে ৩৫ কোটি মানুষ বিষণ্নতায় ভুগছে। এর লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে মন খারাপ ভাব, সব বিষয়ে অনাগ্রহ, অপরাধবোধ, আত্মসম্মানবোধের অভাব, অনিদ্রা ও খাদ্যে অরুচি এবং মনঃসংযোগে অক্ষমতা। এর চরম রূপ হতে পারে আত্মহত্যা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য আরও জানায়, প্রতি বছর অন্তত ১০ লাখ মানুষ বিষণ্নতার কারণে আত্মহত্যা করে।

 

/ইউআর/এফএ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।