রাত ০৫:০৭ ; রবিবার ;  ১৮ নভেম্বর, ২০১৮  

তিন ধাপে হালনাগাদ হচ্ছে টেলিযোগাযোগ নীতিমালা

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

হিটলার এ. হালিম॥

প্রায় ১৭ বছর পরে হালনাগাদ হতে যাচ্ছে জাতীয় টেলিযোগাযোগ নীতিমালা। 'তিন মেয়াদ' ধরে প্রণীত হচ্ছে নীতিমালার লক্ষ্যগুলো। গণশুনানি, ওয়েবসাইটে মতামত গ্রহণ এবং বিভিন্ন পক্ষের মত নিয়ে চূড়ান্ত করা হচ্ছে নীতিমালা। সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই টেলিযোগাযোগ নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

১৯৯৮ সালে প্রথমবারের মতো জাতীয় টেলিযোগাযোগ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। পুরনো এই নীতিমালা দিয়েই প্রায় দেড় যুগ ধরে টেলিযোগাযোগ খাতে বিভিন্ন ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও হাল আমলে অনেক সমস্যা হচ্ছিল পুরনো নীতিমালা নিয়ে। অনেক কাজই করা যাচ্ছিল না। বিভিন্ন সময় নীতিমালা হালনাগাদ করার দাবি উঠলেও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো উদ্যোগ না নেওয়ায় এই দেরি।

জানা গেছে, এবার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে নীতিমালা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। স্বল্প মেয়াদের (২০১৮ সালের মধ্যে) মধ্যে রয়েছে, টেলি-ঘনত্ব (টেলিফোন ব্যবহারের হার) ৮০ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশে উন্নীতকরণ, ইন্টারনেটে ব্যবহার ২৭ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ শতাংশ করা, মোবাইল বা ফিক্সড ব্রডব্যান্ডের ব্যবহার ৭ থেকে বাড়িয়ে ১২ শতাংশে উন্নীতকরণ, সব জেলা ও উপজেলা সদর এবং ১ হাজার ২০০ ইউনিয়নে অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগ স্থাপন, উপজেলা সদরে তারহীন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবার প্রাপ্যতা নিশ্চিত এবং দেশে ডিজিটাল সম্প্রচার চালু করা।        

মধ্য মেয়াদে (২০২১ সালের মধ্যে) রয়েছে ১০০ শতাংশ টেলি-ঘনত্ব অর্জন, ইন্টারনেট ব্যবহারের হার ৫০ শতাংশে উন্নীত করা, সব ইউনিয়ন অপটিক্যাল ফাইবারের মাধ্যমে ইনফরমেশন হাইওয়ের সঙ্গে যুক্তকরণ, সব ইউনিয়নে তারহীন ব্রডব্যান্ড সেবা বিস্তার এবং দেশের ২০ শতাংশ বাসস্থান এবং প্রতিষ্ঠানের উচ্চগতির ফাইবার নেটওয়ার্কে প্রবেশে সক্ষমতা থাকবে।

আর দীর্ঘ মেয়াদের (২০১৫ সালের মধ্যে) মধ্যে রয়েছে দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারের হার ৯০ শতাংশে উন্নীত করা, মোট জনসংখ্যার ৬০ শতাংশকে ব্রডব্যান্ড সেবার আওতায় আনা এবং দেশের ৫০ শতাংশ বাসস্থান এবং প্রতিষ্ঠানের উচ্চগতির ফাইবার নেটওয়ার্কে একসেস থাকবে। 

এদিকে, গত ১২ আগস্ট টেলিযোগাযোগ খাতে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন টিআরএনবি (টেলিকম রিপোটার্স, বাংলাদেশ) এর সঙ্গে খসড়া নীতিমালা নিয়ে বৈঠক করে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ। ওই বৈঠকে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে বলা মাথা পিছু ডাটার ব্যবহার এবং ফ্রিকোয়েন্সি প্ল্যানের ব্যাপারে কাজ করা যায় কি না, সে বিষয়ে দেখতে। এ ছাড়া মঙ্গলবার মোবাইলফোন অপারেটরগুলোর সংগঠন অ্যামটবের সঙ্গে নীতিমালা নিয়ে বৈঠক করে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ। এরপরে টেলিযোগাযোগ খাতের সব সংগঠনও অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ বৈঠক করবে।

এরও আগে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি তার ওয়েবসাইটে খসড়া নীতিমালা প্রকাশ করে গণশুনানি করে। গত ১২ আগস্ট  ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ তাদের ওয়েবসাইটে এ নীতিমালার ওপর সব পক্ষের মতামত চেয়ে ৭ দিনের জন্য নীতিমালার খসড়া প্রকাশ করে।

জানা গেছে, এ সময়ে ৫০টি মতামত জমা পড়ে। বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব রায়হান আখতার বলেন, ওয়েবসাইট এবং সব পক্ষ থেকে মতামত নিয়েই চূড়ান্ত (হালনাগাদ) করা হবে জাতীয় টেলিযোগাযোগ নীতিমালা। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময় এবং ওই মত বিনিময়ের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পরে সবাই 'ওই মতামতের' ওপর ভিত্তি করেই সবাই মত দিচ্ছে। 

১৭ বছর আগে ১৯৯৮ সালে প্রথম টেলিযোগাযোগ নীতিমালা তৈরি করে সরকার। এতদিন এই পুরনো নীতিমালা দিয়েই কাক করছিল সরকার। যদিও মোবাইলফোন অপারেটররা অনেক দিন আগে থেকে 'টেলিযোগাযোগ নীতিমালা' হালনাগাদ করতে অনুরোধ করলেও সরকার করেনি। ২০১২ সালে থ্রিজির লাইসেন্স দেওয়ার সময় অপারেটরগুলো শর্ত ছিল নীতিমালা হালনাগাদ করতে হবে কিন্তু হালনাগাদ করেনি সরকার।

/এইচএএইচ/এমএনএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।