রাত ১০:৩৬ ; রবিবার ;  ১৮ নভেম্বর, ২০১৮  

বনানীর ‘সত্তরের দশ কবি’ সংখ্যা

প্রকাশিত:

তবে যে ব্যাপারটা আমাদের মানে বাংলাদেশের পাঠকের কাছে সবসময় পীড়াদায়ক, তা হলো, বাংলাদেশের লেখকদের নাম ভুল বানানে লেখা। —এটা ভুল নাকি ইচ্ছাকৃত? তবে গুরুত্বের সাথে লিখলে এই ভুল এড়ানো হয়ত সম্ভব। দীর্ঘদিন কবি শামসুর রাহমানের নামও পশ্চিমবঙ্গের কাগজে ভুল বানানে লেখা হয়েছে

জ্যোতির্ময় সরকার ||

ত্রৈমাসিক বনানীর চলতি সংখ্যাটি পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের সত্তর দশকের দশ কবিকে নিয়ে। এই দশ কবি হলেন— পশ্চিমবঙ্গের অরণি বসু, নির্মল হালদার, মৃদুল দাশগুপ্ত, জয় গোস্বামী, সুবোধ সরকার; এবং বাংলাদেশের— নাসির আহমেদ, জাহাঙ্গীর ফিরোজ, কামাল চৌধুরী, আসাদ মান্নান, মাহমুদ কামাল।
এখানে প্রত্যেক কবির ছবি ও পরিচিতি-সহ দশটি কবিতা এবং তিনটি আলোচনা ছাপা হয়েছে। আলোচক সবাই পশ্চিমবঙ্গের। 
বাংলার উঠোনে মায়ের শুভ্র শাড়ির কাঁপন  শিরোনামে ভূমিকায় সংক্ষেপে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। কে পশ্চিমবঙ্গের কবি আর কে পূর্ববঙ্গ (বাংলাদেশ)-এর কবি সেই ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে এমন করে— ‘৭০ দশকের কবিদের মধ্যে দশজন কবিকে নিয়ে পর্যালোচনার সদিচ্ছা থেকেই বনানীর বর্তমান সংখ্যা। তারা পশ্চিমবঙ্গের কবি, পূর্ববঙ্গ (বাংলাদেশ)-এর কবি। জন্মকাল বা জন্মস্থান ধরেই যদি কবিদের অবস্থান ধরা হয় তাহলে কোন্ কবি কোন্ বাংলার তা বলা মুশকিল। কারণ অবিভক্ত বাংলায় বহু কবি আছেন যাদের জন্মস্থান পূর্ববঙ্গে। অথচ তারা পড়াশোনার জন্য হোক বা চাকরির সূত্রে হোক বা পারিবারিক ও সামাজিক কারণে হোক কলকাতা বা তার পাশাপাশি এলাকায় বসবাস করছেন বহুদিন। দেশবিভাগের পর পশ্চিমবঙ্গে যারা রয়েই গেলেন তারা বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের কবি এবং যারা পূর্ববঙ্গে আছেন স্বাভাবিকভাবে তারা পূর্ববঙ্গের কবি। অতএব সমস্ত রকম প্রশ্নের ঊর্ধ্বে যদি গভীরভাবে উপলব্ধি করি তাহলে তারা বাংলার কবি বাংলা ভাষার কবি।’
কেনো এই দশজনকে বেছে নেওয়া হয়েছে তার ব্যাখ্যা নেই। সেটা থাকবার কথাও নয়। সেটা সম্পাদক বা তার পর্ষদের অভিরুচি। তবে বাংলাদেশের সত্তর দশকের কবিদের নাম উল্লেখ করলে প্রথমেই আবিদ আজাদ এবং রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর নাম আসে। সম্ভবত তার প্রয়াত হয়েছেন বলে এই তালিকায় নেই— যদিও সেই কথা বলা নেই। অপরদিকে পশ্চিমবঙ্গে রণজিৎ দাশের নামও আসে।
তবে যে ব্যাপারটা আমাদের মানে বাংলাদেশের পাঠকের কাছে সবসময় পীড়াদায়ক, তা হলো, বাংলাদেশের লেখকদের নাম ভুল বানানে লেখা। —এটা ভুল নাকি ইচ্ছাকৃত? তবে গুরুত্বের সাথে লিখলে এই ভুল এড়ানো হয়ত সম্ভব। দীর্ঘদিন কবি শামসুর রাহমানের নামও পশ্চিমবঙ্গের কাগজে ভুল বানানে লেখা হয়েছে। 
বনানীতে যাদের নামের বানান ভুল বা অসম্পূর্ণ রয়েছে তারা হলেন, ফররুক আহমেদ>ফররুখ আহমদ, সৈয়ৎআলি আহসান>সৈয়দ আলী আহসান, রসিক আজাদ>রফিক আজাদ, মান্নান সৈয়দ>আবদুল মান্নান সৈয়দ, সিকদার আমিনুল>সিকদার আমিনুল হক, মুহম্মদ নুরুল হুদা>মুহম্মদ নূরুল হুদা। পশ্চিমবঙ্গের রণজিৎ দাস তালব্য-শ লেখেন। আশা করি বনানী তার পরবর্তী সংখ্যায় এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে। 

                    
বনানী || সম্পাদক : অধীরকৃষ্ণ মণ্ডল || মূল্য ২০০ রুপি।  

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।