সন্ধ্যা ০৬:০০ ; বৃহস্পতিবার ;  ১৭ জানুয়ারি, ২০১৯  

শিশুর দাঁতের যত্ন

প্রকাশিত:

লাইফস্টাইল ডেস্ক।।   

গর্ভাবস্থায়ই গঠিত হতে শুরু করে শিশুর দাঁত। সাধারণত ছয় মাস বয়স থেকে শুরু হয় শিশুর দাঁত ওঠা। প্রথম দাঁত ওঠার সময় এক ধরণের শিরশিরে অনুভূতি হয়। তখন সামনে যা পায় সেটাই কামড়ানোর চেষ্টা করে শিশু। ছয় বছর বয়স থেকে শিশুর স্থায়ী দাঁত উঠতে থাকে।

শিশুর দাঁতে নানা ধরণের সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক শিশুর দাঁতে কালো কালো  দাগ দেখা যায়। ধীরে ধীরে দাঁতের এ কালো অংশ নষ্ট হয়ে ভেঙে যায়। কখনো আবার দাঁতের মধ্যে গর্ত দেখা দেয়। একে দাঁতের ক্ষয়রোগ বলে। এক ধরনের আঠালো বর্ণহীন পাতলা প্রলেপ আমাদের দাঁতের সঙ্গে আটকে থাকে। এর নাম ডেন্টাল প্ল্যাক। এটি তৈরি হয় লালা, খাদ্যবস্তু ও জীবাণুর সমন্বয়ে। চকলেট, কেক, আইসক্রিম, কোমলপানীয় ইত্যাদি মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়ার ফলে প্ল্যাকের মধ্যকার জীবাণু এক ধরণের অ্যাসিড তৈরি করে। এই অ্যাসিড তখন দাঁতের শক্ত আবরণ ভেঙে ক্যারিজ বা দাঁত ক্ষয় শুরু করে। এছাড়া অনেক শিশুর দাঁতে কালো ছোপ দেখা দেয় ও মাড়ি গর্ত হয়ে যায়।

শিশুর দাঁত ক্ষয়ে যাওয়া রোধ করতে বাবা মাকে হতে হবে যত্নশীল। পাশাপাশি দাঁতের সঠিক পরিচর্যা করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে শিশুকাল থেকেই। যখন শিশুর দাঁত উঠতে শুরু করে তখন থেকেই চাই পর্যাপ্ত পরিচর্যা। দিনশেষে নরম টুথব্রাশ কিংবা গজ কাপড় দিয়ে শিশুর সদ্য ওঠা দাঁত পরিষ্কার করে দিন। শিশু একটু বড় হলে তাদের জন্য তৈরি বিশেষ টুথব্রাশ ও ফ্লোরাইডসমৃদ্ধ টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করার অভ্যাস করুন। শুরুতে বাবা মা দাঁত ব্রাশ করিয়ে দিলে ধীরে ধীরে শিশু নিজেই উৎসাহী হয়ে উঠবে। শিশুরা অনুকরণপ্রিয়। তাই অভিভাবকরা শিশুর সামনে দুই বেলা দাঁত ব্রাশ করার চেষ্টা করুন যেন শিশুরও সে অভ্যাস হয়ে যায়।  ফিডারে দুধ খাওয়ার অভ্যাস থাকলে শিশু ঘুমিয়ে পরার সঙ্গে সঙ্গে ফিডার সরিয়ে নিন। কারণ দুধ বা জুসজাতীয় খাবার অনেকক্ষণ ধরে দাঁতের সংস্পর্শে থাকলে  বিভিন্ন ধরনের ক্যারিজ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বাইরের দুধ খাওয়ানোর সময় অতিরিক্ত চিনি মেশাবেন না। চকলেট,আইসক্রিম থেকে শিশুদের দূরে রাখতে হবে। খাবারগুলো যদি খেতেই হয় তবে সঙ্গে সঙ্গে দাঁত ব্রাশ করে নেওয়া ভালো। বিভিন্ন ধরণের মচমচে খাবার ও স্ন্যাকস দাঁতের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। চিপস একটি শ্বেতসার খাবার যা খাওয়ার সময় চর্বণযোগ্য আঠালো পদার্থে পরিণত হয়। ফলে সহজেই দাঁতের ফাঁকে ও মাড়িতে আটকে যায়। ডেন্টাল প্ল্যাকের ভেতরকার ব্যাকটেরিয়া অন্যান্য মিষ্টি জাতীয় খাবারের মতো এ খাবারকেও অ্যাসিডে পরিণত করে। এই অ্যাসিড পরবর্তীতে মাড়ির বিভিন্ন রোগ ও দাঁতের ক্ষয়রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই চিপস খাওয়ার পর অবশ্যই দাঁত ভালো করে পরিস্কার করে নিতে হবে। দাঁতের ক্ষয়রোধ করতে শিশুকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং শর্করা জাতীয় খাবার খেতে দিতে হবে।

/এনএ/ আরএফ
 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।