সকাল ১০:৫১ ; শুক্রবার ;  ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮  

মাঝি- দ্য মাউন্টেন ম্যান: ২২ বছরের শোকই হল শক্তি

প্রকাশিত:

সাইফ আজাদ।।

ঘটনাটা ১৯৫৯ সালের। ভারতের পূর্ব বিহার রাজ্যের গেহলাউরের একটি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাস করতেন নিচু বর্ণের দশরথ মাঝি দম্পতি। একদিন এক দুর্ঘটনায় মাঝির স্ত্রী ফাল্গুনী মারাত্মক আহত হন। কিন্তু ওই এলাকা থেকে সবচেয়ে কাছের শহরে যেতে হলেও পার হতে হতো ৫৫ কিলোমিটার পাহাড়ি দুর্গম পথ। আর তাই যথাসময়ে মাঝি পারেননি ফাল্গুনীকে চিকিৎসা দিতে। ফলে বিনা চিকিৎসায়ই চিরদিনের জন্য না ফেরার দেশে চলে যায় সে। ফাল্গুনীর এভাবে চলে যাওয়াকে মেনে নিতে পারেনি মাঝি। সঙ্গী হারানোর যন্ত্রণা এবং শোকে পাগলপ্রায় হয়ে যান তিনি। কিন্তু এরপর ধীরে ধীরে নিজের ভেতরের শোককে শক্তিতে পরিণত করেন।

`মাঝি- দ্য মাউন্টেন ম্যান' পরিচালক কেতন মেহতা, অভিনয় শিল্পী নওয়াজ উদ্দিন সিদ্দিকি ও রাধিকা আপতে

সিদ্ধান্ত নেন তার মতো যন্ত্রণা আর কাউকে পেতে দেবেন না, কাউকে আর এভাবে বিনা চিকিৎসায় মারা যেতে দেবেন না। আর তাই পাহাড় কেটে পাহাড়ের বুক চিরেই নতুন রাস্তা করার সিদ্ধান্ত নিলেন। সিদ্ধান্তকে বাস্তবে রুপান্তরিত করতে হাতে তুলে নিলেন হাতুড়ি আর শাবল। এরপর একদিন একদিন করে ২২ বছর ধরে কাটলেন সেই পাহাড়। তৈরি করলেন রাস্তা। ১৯৮২ সালে ৫৫ কিলোমিটারের পথকে মাঝি নামিয়ে আনলেন মাত্র ১৫ কিলোমিটারে। তৈরি করলেন ১১০ মিটার দৈর্ঘ্য ও নয় মিটার প্রস্থ বিশিষ্ট একটি সোজা রস্তা। মাঝি তার কাজ শেষ করার পরেও সরকার রাস্তাটির যথাযথ নির্মাণে তিন দশক সময় পার করেছে।

দশরথ মাঝির আসল ছবি

কাজের বিষয়ে মাঝি জানিয়েছিলেন, প্রথম যখন সে কাজ শুরু করেছিলো তখন মানুষ ভেবেছিল সে হয়তো পাগল হয়ে গিয়েছে। কিন্তু আস্তে আস্তে তারা তাদের ভুল বুঝতে পেরেছিলো।

মাঝির ভালবাসার গভীরতা উপলব্ধি করেই বলিউড চলচ্চিত্র নির্মাতা কেতান মেহতা নির্মাণ করলেন ‘মাঝি- দ্য মাউন্টেন ম্যান’ চলচ্চিত্র। শুক্রবার ভারতে চলচ্চিত্রটি মুক্তি পেয়েছে। এতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন নওয়াজ উদ্দিন সিদ্দিকি।

`মাঝি- দ্য মাউন্টেন ম্যান' ছবিতে নওয়াজ উদ্দিন সিদ্দিকি

কেতন মেহতা  বলেন, ‘প্রথমে ঘটনাটি আমার কাছে পুরোপুরি অবিশ্বাস্য মনে হয়েছিলো। কিন্তু যখন আসল ঘটনাটি জানতে পারলাম তখনই সিদ্ধান্ত নিলাম এ ঘটনা নিয়ে আমি চলচ্চিত্র বানাবো। কারণ ভালবাসার এমন ঘটনা বিরল’।

তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ মাঝির এ কাজকে পাগলামি হিসেবেই মনে করতো। কিন্তু তবুও সে একাই পুরো কাজটি শেষ করেছিলেন। আমি সেখানে গিয়েছি এবং রাস্তাটি দেখেছি। এটা আসলেই অভূতপূর্ব একটি অভিজ্ঞতা’।

অভিনেতা নওয়াজ উদ্দিন সিদ্দিকি বলেন, ‘ঘটনাটি খুবই চমৎকার এবং আবেগের। মাঝি অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন এবং তার কাজের মধ্য দিয়ে হাজার হাজার মানুষের কষ্ট লাঘব করেছেন’।

`মাঝি- দ্য মাউন্টেন ম্যান'-এ নওয়াজ উদ্দিন সিদ্দিকি ও রাধিকা আপতে

তিনি আরও বলেন, ‘তার কাজের মধ্যে যে উন্মাদনা ছিলো সেটা পর্দায় ফুটিয়ে তোলাটা খুবই কষ্টসাধ্য ছিলো। তার এ কাজটি তরুণদের জন্য একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে’।

চলচ্চিত্রটি মুক্তির দিনে মাঝির পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত হয়েছিলেন। সেদিন তারা তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, ‘বিত্তবানরা তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছেন। তারা বলেছিলেন মাঝি পরিবারের দারিদ্র দূর করতে এগিয়ে আসবেন। কথা রাখেননি তারা।’

২০০৭ সালে পিত্তথলির ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে দশরথ মাঝি মারা যান।

‘মাঝি- দ্য মাউন্টেন ম্যান’ ট্রেলার:

সূত্র: ডেইলি মেইল

/এসএ/এমএম/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।