দুপুর ০২:৩২ ; শুক্রবার ;  ১৮ অক্টোবর, ২০১৯  

জেলাভিত্তিক ‘ভৌগলিক নির্দেশক’ পণ্য উৎপাদনের উদ্যোগ

প্রকাশিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট।।

জেলা প্রতি একটি বিশেষ পণ্য উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এভাবে প্রত্যেক জেলায় একটি করে বিশেষায়িত পণ্য উৎপাদন করে সেগুলোকে ‘ভৌগলিক নির্দেশক’ পণ্য (জিআই) হিসেবে নিবন্ধন করা গেলে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং হবে। পাশাপাশি ওই পণ্যের মূল্য বাড়বে, অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে দেশ।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার ভবনে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এ অভিমত ব্যক্ত করেন।

‘ভৌগলিক নির্দেশক পণ্যের গুরুত্ব এবং এই পণ্য হিসেবে নিবন্ধন পেতে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।এতে গবেষনা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফটিআইয়ের গবেষক মোহাম্মদ আবু ইউসুফ ও শেখ রুখসানা বোরহান।

আলোচনায় অংশ নেন ডিসিসিআই সভাপতি হোসেন খালেদ, সাবেক বাণিজ্য সচিব সুহেল আহমেদ চৌধুরী, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি শহীদুর রহমান ভূইয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে সহযোগী ড. তৌহিদুল ইসলাম, সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের গবেষক উম্মে শেফা রেজওয়ানা প্রমূখ।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ”ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশে অনেক বিশেষায়িত পণ্য আমরা উৎপাদন করি। আমার মনে হয়, জামদানি শাড়ি, ইলিশ মাছ, মহিষের দই, ফজলি আমের মতো পণ্য আর কোথাও উৎপাদন হয় না।”

এ সব পণ্যকে জিআইয়ের অন্তর্ভুক্ত করতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ গ্রহন প্রয়োজন বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

ঢাকা চেম্বার সভাপতি বলেন, “চেম্বারের পক্ষ থেকে ৭২টি বিশেষায়িত পণ্যের তালিকা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হয়েছিল। জেলাভিত্তিকভাবে বাছাই করে পণ্যগুলোর ব্র্যান্ডিং করতে আমরা সরকারকে অনুরোধ জানাবো।”

সঠিকভাবে ব্র্যান্ডিং করা গেলে এ পণ্যগুলোর জিআই নিবন্ধন পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

গবষেণা প্রবন্ধে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী ভৌগলিক নিদের্শক পণ্যের চাহিদার পাশাপাশি দামও বেশ ভালো। বিভিন্ন দেশে ক্রেতারা ৩০ শতাংশ বেশি দাম দিয়ে এ সব পণ্য কিনে থাকেন। এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, এ সব পণ্যকে কেন্দ্র করে প্রচুর বৈদেশিক বিনিয়োগ বাংলাদেশে আসতে পারে।

প্রবন্ধে আরও বলা হয়, ভারতের অন্ধ প্রদেশ ২০০৯ সালে জামদানিকে তাদরে জিআই পণ্য হিসেবে নিবন্ধন করলেও বাংলাদেশ এখনও তা করতে পারেনি। ভারত তাদের ওই পণ্যের নাম দিয়েছে ‘উপাদ্দা জামদানি’।

জিআই পণ্য নিবন্ধনে বাংলাদেশকে সাফল্য পেতে হলে এ বিষয়ে আরও নিবিড় গবেষণা চালাতে হবে বলে গবেষণা প্রবন্ধটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

/এফএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।