রাত ১১:৩৮ ; শুক্রবার ;  ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮  

বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী আজ

প্রকাশিত:

বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক।।

১৯৭১ সালের ২০ আগস্ট দেশের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করে চিরকালের জন্য বাঙালি জাতির মনে জায়গা করে নেন বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান। আজ তার ৪৪ তম শাহাদাত বার্ষিকী।

রীবশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে।

আজ সকালে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হবে। এছাড়াও এদিন বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

মতিউর রহমান ১৯৪১ সালের ২৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার ১০৯ আগা সাদেক রোডের পৈত্রিক বাড়ি ‘মোবারক লজ’-এ জন্মগ্রহণ করেন। ৯ ভাই ও দুই বোনের মধ্যে মতিউর ষষ্ঠ। তার বাবা মৌলভী আবদুস সামাদ। মা সৈয়দা মোবারকুন্নেসা খাতুন।

ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল থেকে ষষ্ঠ শ্রেণি পাস করার পর তিনি সারগোদায় পাকিস্তান বিমান বাহিনী পাবলিক স্কুলে ভর্তি হন। ডিস্টিংকশনসহ মেট্রিক পরীক্ষায় সাফল্যের সাথে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। ১৯৬১ সালে বিমান বাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৬৩ সালের জুন মাসে রিসালপুর পি,এ,এফ কলেজ থেকে কমিশন লাভ করেন এবং জেনারেল ডিউটি পাইলট হিসাবে নিযুক্ত হন। এরপর করাচির মৌরীপুরে জেট কনভার্সন কোর্স সমাপ্ত করে পেশোয়ারে গিয়ে জেট পাইলট হন। ১৯৬৫ তে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় ফ্লাইং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৬৭ সালে তিনি ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পদে পদোন্নতি লাভ করেন। বিমান চালনায় তার দক্ষতা ও নৈপূণ্যের নানা নিদর্শন পাওয়া যায়। এজন্যে তাকে বাংলার ঈগল বলা হতো। ইরানের রানী ফারাহ দিবার সম্মানে পেশোয়ারে অনুষ্ঠিত বিমান মহড়ায় তিনি ছিলেন একমাত্র বাঙালি পাইলট। রিসালপুরে দু'বছর ফ্লাইং ইন্সট্রাক্টর হিসাবে কাজ করার পর ১৯৭০ এ জেট ফ্লাইং ইন্সট্রাক্টর হন।

১৯৭১ সালের শুরুতে মতিউর সপরিবারে দুই মাসের ছুটিতে ঢাকা আসেন। ২৫ মার্চের কালরাতে মতিউর ছিলেন রায়পুরের রামনগর গ্রামে। পাকিস্তান বিমান বাহিনীর একজন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট হয়েও অসীম ঝুঁকি ও সাহসিকতার সঙ্গে ভৈরবে একটি ট্রেনিং ক্যাম্প খোলেন। যুদ্ধ করতে আসা বাঙালি যুবকদের প্রশিক্ষণ শুরু করেন। মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা অস্ত্র দিয়ে একটি প্রতিরোধ বাহিনী গড়ে তোলেন। ১৯৭১ সালের ১৪ এপ্রিল পাকিস্তানি বিমান বাহিনী এফ-৮৬ স্যাবর জেট থেকে তাঁদের ঘাঁটির উপর বোমাবর্ষণ করে। মতিউর রহমান আগেই এর আশঙ্কা করে সেখান থেকে সরে যান।

এরপর, ১৯৭১ সালের ২৩ এপ্রিল ঢাকা আসেন মতিউর এবং ৯ মে সপরিবারে করাচি ফিরে যান। ১৯৭১ সালের ২০ আগস্ট করাচির মৈরিপুর বিমান ঘাঁটি থেকে মুক্তিযুদ্ধে সাহায্যের জন্য বিমান নিয়ে পালানোর চেষ্টাকালে তিনি শহীদ হন। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তাকে বীরশ্রেষ্ঠ উপাধি দেওয়া হয়।

মৃত্যুর পর তাকে পাকিস্তানে সমাহিত করা হয়। স্বাধীনতার ৩৫ বছর পর ২০০৬ সালে মতিউরের দেহাবশেষ পাকিস্তান থেকে দেশে এনে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে পুনঃসমাহিত করা হয়। সূত্র:বাসস।

/এফএস/

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।