রাত ০৯:৪১ ; মঙ্গলবার ;  ১৬ অক্টোবর, ২০১৮  

টবের ভেতর ছোট্ট বাগান!

প্রকাশিত:

নওরিন আক্তার।।

সরু পথের পাশে ঝুরি নামা বটবৃক্ষ। গাছের ছায়ায় বসে চা খাওয়ার জন্য রয়েছে চেয়ার টেবিল। আবার বেড়ার ওপাশে ছোট্ট কুটির। তার ঠিক পাশেই উড়ছে লাল সবুজ পতাকা। জলাশয়ে সাঁতরে বেড়াচ্ছে কাছিম। ভাবছেন ঢাকা শহরে এমন চমৎকার প্রাকৃতিক নিসর্গ আর কোথায় মিলবে? চাইলে এমন একটি বাগান কিন্তু থাকতে পারে আপনার অন্দরেই! কারণ এই ছোট্ট বাগানের জন্ম মাটির টব কিংবা কাচের জারে।
 

কৃত্রিম বাগান তৈরি করতে চাই ইচ্ছাশক্তি আর সৃজনশীলতা। এমনটা মনে করেন ফেসবুক গ্রুপ অর্কিডস, ফ্লাওয়ারস ও বনসাই সোসাইটির অ্যাডমিন এজাজ আহমেদ শুভ। জানালেন পেশায় আইটি এক্সপার্ট হলেও প্রায় ১০ বছর ধরে শখে কাজ করছেন বৃক্ষ নিয়ে। ধীরে ধীরে একই কাজে আগ্রহী কিছু মানুষ নিয়ে শুরু করেছেন ফেসবুকের এ গ্রুপটি। ছাদে কিংবা বারান্দায় এ ধরণের বাগান তৈরির আইডিয়া সর্বপ্রথম তিনিই দিয়েছিলেন। পরে অনেকেই আগ্রহী হয়ে ওঠে ছোট্ট বাগান তৈরিতে।
 

বানিয়ে ফেলুন ছোট্ট পৃথিবী

সবার আগে চিন্তা করুন প্রকৃতিকে আপনি কিভাবে দেখতে চান। গাছের গুঁড়িতে বসে সবুজ কার্পেটে পা রেখে হারিয়ে যেতে চান সুদূরে? নাকি ছোট্ট নীড় ঘেঁষে তরতরিয়ে ওঠা লতানো গাছে খুঁজে ফিরতে চান হারানো শৈশব? ব্যস, আপনার চিন্তাকেই ধারণ করবে ছোট্ট মাটির পাত্র। বাগান তৈরির জন্য বাছাই করুন মাটির চওড়া পাত্র। বনসাইয়ের টবেও বানিয়ে ফেলতে পারেন কৃত্রিম বাগান। শুভ জানালেন এ ধরণের বাগান তৈরিতে ব্যবহৃত হয় প্রচুর পরিমাণে মস। পুরনো বাড়ির আঙ্গিনা, বাড়ির ছাদ কিংবা স্যাঁতস্যাঁতে যেকোনো জায়গা থেকে সংগ্রহ করতে পারেন মস। বাড়ি তৈরি করার জন্য ব্যবহার করতে পারেন কাঠ। আঙিনায় বেড়া দিয়ে দিন দেয়াশলাইয়ের কাঠি দিয়ে। গাছের গুঁড়ির অংশ ভেঙে ফেলে দিন বাড়ির সামনে। কুটিরের পাশে রোপণ করে দিতে পারেন পাতাবাহার কিংবা যেকোনো ইনডোর প্ল্যান্ট। অ্যাকুরিয়ামের পাথর ছড়িয়ে ছিটিতে দিন আশেপাশে। তৈরি হয়ে গেলো আপনার স্বপ্নরাজ্য!
 

জায়গা একটু বড় হলে মাটির পাত্রে পানি দিয়ে ছেড়ে দিতে পারেন কৃত্রিম কাছিম। প্লাস্টিকের ছোট চেয়ার টেবিল বসিয়ে দিতে পারেন বনসাইয়ের নিচে। হয়ে গেলো চমৎকার অবকাশ যাপনের যায়গা!      

বনসাই তৈরি করুন নিজেই

যদি থাকে ধৈর্য ও ইচ্ছা, তবে আপনিও তৈরি করে ফেলতে পারেন চমৎকার বনসাই। এজাজ আহমেদ শুভ মনে করেন বনসাই একটি শিল্প। বনসাই তৈরি করার জন্য প্রথমেই চারা সংগ্রহ করুন। নার্সারি থেকে সংগ্রহ করার চাইতে রাস্তার পাশে কিংবা পুরনো বাড়ির দেয়াল থেকে চারা সংগ্রহ করাটাই ভালো বলে জানালেন শুভ। ১০/১২ ইঞ্চি টবে রোপণ করে দিন চারা। জৈব সার কিংবা পাতা পচা সার দিয়ে তৈরি করুন মাটি। প্রতি মাসে একবার মাটিতে খৈল মেশাতে হবে। তার পেঁচিয়ে ইচ্ছামতো আকৃতি দেওয়া যায় গাছের। তবে নির্দিষ্ট সময় পর তার খুলে দিতে হবে। না হলে কান্ডে বসে যাবে তারের দাগ। অতিরিক্ত খাবার পেলে গাছের পাতা বড় হয়ে যায়। তখন নিয়ম করে ছেটে দিতে হবে সেগুলো। শুভ জানান ইন্টারনেটে বনসাই তৈরি সম্পর্কে অনেক তথ্য আছে। কিন্তু তথ্যগুলো এতোই জটিল যে যারা শখে বনসাই তৈরি করতে চান, তাদের জন্য কাজটা খুবই ভীতিকর মনে হয়। কিন্তু বনসাই তৈরি একদমই কঠিন কিছু নয়। ধৈর্য, ভালোবাসা আর ইচ্ছা থাকলেই মনের মতো বেড়ে উঠবে আপনার আঙিনার পাকুড় কিংবা কৃষ্ণচূড়া গাছটি।

সপ্তাহে দুই দিন অর্কিডস, ফ্লাওয়ারস ও বনসাই সোসাইটির সদস্যদের বনসাই তৈরির ফ্রি ট্রেনিং দেন শুভ। জানালেন কাজটা একদম শখের বশেই করছেন। অনেকেই জানতে চান বনসাই কিংবা কৃত্রিম বাগান বিক্রি করবেন কিনা। কিন্তু এগুলো শখে তৈরি করেন তিনি। তাই শেখানও মনের আনন্দেই। ট্রেনিঙয়ে সাড়া পাচ্ছেন প্রচুর। অনেকেই ট্রেনিং নিয়ে তৈরি করছেন বনসাই কিংবা কৃত্রিম বাগান। সকলের এই প্রচেষ্টাই শিল্পের সার্থকতা। চাইলে আপনিও তৈরি করে ফেলতে পারেন টবের মধ্যে ছোট্ট রূপকথার রাজ্য কিংবা জীবন্ত শিল্পকর্ম বনসাই।  

ফুল এসেছে হিজল বইসাইয়ে


 অর্কিডস, ফ্লাওয়ারস ও বনসাই সোসাইটির ঠিকানা: www.facebook.com/groups/565613346848825

ছবি:  অর্কিডস, ফ্লাওয়ারস ও বনসাই সোসাইটি

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।