রাত ১১:০৫ ; শুক্রবার ;  ২২ জুন, ২০১৮  

পুরনোতেই নতুন!

প্রকাশিত:

সোহেলী সায়মা সেঁজুতি॥ 

দীর্ঘদিন একইভাবে সাজানো অন্দর একঘেয়ে লাগে। তাই মাঝে মধ্যে অন্দরসজ্জায় নিয়ে আসা চাই খানিক পরিবর্তন। এই পরিবর্তনের জন্য যে খুব বেশি কষ্ট করতে হবে তাও কিন্তু নয়। সামান্য কিছু পরিবর্তন, অল্প কিছু সংযোজন আর প্রয়োজনে হালকা কিছু বাতিল করলেই ঘর হয়ে উঠবে নান্দনিকতায় ভরপুর।   

ছোট্ট নীড়কে স্বপ্নময় করতে প্রথমেই চাই ছোটোখাটো কিছু কৌশলের আশ্রয় নেওয়া। যদি পরিকল্পনা মাফিক ঘরের এ কাজগুলো করা যায় তবে ঝামেলা যেমন কমে যাবে, তেমনি খুব বেশি খরচেরও প্রয়োজন পড়বে না।

নতুন কিছু সংযোজন, পুরনোটা বাতিল

প্রথমেই খুব ভালো করে দেখুন ঘরে কোন জিনিস দেখতে ভালো লাগছে, আর কোনগুলো লাগছে না। নতুন কিছু কেনার ক্ষেত্রে অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে জিনিসটার প্রয়োজনীয়তা কতোটুকু। কারণ কিছু ভালো লাগলেই সেটা কিনে বাসায় রেখে দেওয়া কোন কাজের কথা না। । বরং বাসা যতটা সম্ভব ফাঁকা রাখুন। সবসময় যা প্রয়োজন কেবল তাই চোখের সামনে এবং হাতের নাগালে রেখে দিন। বাকি জিনিসপত্র একটি নির্দিষ্ট স্টোরেজ বা কেবিনেটে গুছিয়ে রাখুন। কোনো কিছু বেমানান বা ব্যবহার অনুপযোগী হলে তা বাতিল করাই শ্রেয়। একটি একটি রুম ধরে কাজ করুন। যেমন প্রথমে রান্নাঘর, তারপর বাথরুম এরপর হয়তো বেডরুম। একদিনে পুরো বাসা ওলটপালট করলে কাজ আগানোর চাইতে ঝামেলাই বাড়বে বেশি।

খানিক অদল-বদল

আসবাব খানিকটা এদিক ওদিক করে সেই ঘরেই রাখা যেতে পারে। আবার চাইলে এক ঘরের আসবাব অন্য ঘরে নিয়ে যেতে পারেন। যেমন ডিভানের পাশে রাখা ইজি চেয়ারটা নিয়ে যেতে পারেন জানালার কাছে। উইন্ড চাইমটা হয়তো দীর্ঘদিন একই জায়গায় থেকে টুংটাং করে যাচ্ছে। সেটা খুলে অন্য জায়গায় ঝুলিয়ে নিন। জানালা দরজার পর্দাতেও নিয়ে আসতে পারেন নতুনত্ব। এজন্য নতুন পর্দা কেনার প্রয়োজন নেই। পুরনো পর্দাতেই নিয়ে আসুন নান্দনিকতার ছোঁয়া। ব্লক-বাটিক বা লেইস বসিয়ে নিতে পারেন পর্দা জুড়ে।  এক রঙের সঙ্গে অন্য রঙের কন্ট্রাস্ট করেও সাজানো যায় ঘরের পর্দা। সোফার কভার বা কুশন কভার বদলে নিতে পারেন। পুরো ঘরের সাজসজ্জা বদলে যাবে নিমিষে। সৃজনশীলতার ছোঁয়ায় ঘরের সাজে নান্দনিকতা নিয়ে আসতে পারেন। ঘরের কোণে রাখা মাটির পটারিতে রঙ করে নিন। তারপর ছোট ছোট গ্লাস বসিয়ে সাজিয়ে তুলুন পটারি। চাইলে বাঁশ কিংবা বেত দিয়ে নিজেই তৈরি করে নিতে পারেন সুদৃশ্য একটি ফুলদানি। ইনডোর প্ল্যান্ট রাখার পাত্রটি পুরাতন হয়ে গেলে নতুনত্ব নিয়ে আসতে পারেন সেটাতেও। 

উজ্জ্বল ও আলোকিত অন্দর

ঘরে চাই প্রচুর প্রাকৃতিক আলো। কারণ চোখের আরাম, মনের শান্তি আর ঘরের সৌন্দর্যে প্রাকৃতিক আলোর ভূমিকা অনবদ্য। কোন ফার্নিচার বা আসবাবপত্র এদিক-সেদিক করার আগে খেয়াল রাখুন সেটা যেন জানালা ঢেকে না দেয়। প্রকৃতির বৈচিত্র্যময় আলোআঁধারির খেলা তো রয়েছেই। এর বাইরেও প্রয়োজন পর্যাপ্ত কৃত্তিম আলো। সেই ব্যবস্থাও থাকা চাই।

যদি খুব বেশী ঝামেলা না হয়, তবে ঘরের বৈদ্যুতিক বাতি এবং সুইচগুলো বদলে ফেলতে পারেন। অনেকখানি পরিবর্তন চলে আসবে ঘরে। ছোটোখাটো আলোর উৎস যেমন টেবিল ল্যাম্প, সিলিং থেকে ঝুলানো ঝাড়বাতি ও নানান ধরণের লাইটশেড ঘরে নতুনত্ব নিয়ে আসতে পারে।

প্রাণবন্ত হোক দেয়াল

ঘরের সাজ রাতারাতি বদলে নিতে চাইলে দেয়ালের রঙ পরিবর্তন করে নিতে পারেন। অন্দরে চলে আসবে বৈচিত্র্য। বাড়িতে রঙ করানোর কাজটিকে অনেকেই ব্যয়বহুল, সময়সাপেক্ষ এবং বিরক্তিকর মনে করেন। কিন্তু শৌখিনতার চেয়েও এটি বেশি প্রয়োজনীয়। সময়মতো রঙ করালে দেয়াল দীর্ঘস্থায়ী হয়। রঙিন দেয়ালকে ফাঁকা না রেখে কাজেও লাগিয়ে ফেলতে পারেন। দেয়াল ঘড়ি, ছবির ফ্রেম- এগুলো ঝুলিয়ে দিতে পারেন। একটু ভিন্ন কিছু চাইলে শেলফ বা কেবিনেট, ছোট গাছ, শোপিস রাখার ওয়াল মাউন্ট স্ট্যান্ডও রাখা যেতে পারে দেয়ালে।

টিপস  

  • ঘরের সাজে যেন জবরজং ভাব না আসে সেদিকে লক্ষ্য রাখা জরুরি।
  • পরিবর্তন আনতে গিয়ে সাজ খুব বেশি বদলাতে যাবেন না।
  • অন্দরে প্রশান্তি নিয়ে আসার জন্য ছিমছাম সাজের প্রতি গুরুত্ব দিন সবসময়।

লেখক: ইন্টেরিওর আর্কিটেক্ট
ছবি: আর্কিডেন ইন্টিরিওর

/এনএ/

 

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।