রাত ১১:১৭ ; শনিবার ;  ২০ এপ্রিল, ২০১৯  

তারুণ্য নিয়ে পড়শী, রবিন এবং নূসরাতের ভিন্ন ভাবনা

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক।।   

শৈশবের দায়বদ্ধতাহীন দুরন্তপনা, কৈশোরের সন্দিগ্ধ আর সিদ্ধান্তহীনতার সেই ক্রান্তিকাল পেরিয়ে জীবন যেখানে এসে পূর্নতার সন্ধান করে, তাইতো তারুণ্য। গতি কি আর পুরো জীবন থাকবে, শক্তি, কার্যক্ষমতা কি সারাজীবনের? তাইতো তারুণ্যকে বেছে নেওয়া হয় জীবনের শ্রেষ্ঠকাল হিসেবে। বাংলা ট্রিবিউনকে সে তারুণ্যের গল্প বলছেন সঙ্গীতশিল্পী পড়শী, সাংবাদিক রবিন ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা নুসরাত।

পড়শী, ঙ্গীতশিল্পী

পড়শী গান গেয়ে বাজিমাত করা তরুণ। তার জনপ্রিয়তা সর্ম্পকে নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। সবার কাছে প্রিয় এ শিল্পী সদ্য পেরিয়ে এলেন উচ্চমাধ্যমিকের গণ্ডি। এই সময়টা কেমন। কিভাবে নিজের তারুণ্য নিয়ে এগিয়ে যাবেন বাংলা ট্রিবিউনকে বললেন সেই কথাটাই।

পড়শী প্রথমেই বললেন, পড়াশোনার কথা। জানালেন, কর্মব্যস্ততার মাঝে এ শিক্ষাজীবন চালিয়ে যাওয়া কিছুটা কঠিন হলেও থাকতে হবে নিজেকে প্রস্তুত রাখার মানসিকতা।

তরুণদের নিয়ে পড়শী বলেন,একদিকে যখন আশপাশের অনেককেই দেখছি প্রতিকূলতার মধ্যে এগিয়ে যাচ্ছেন একাগ্রচিত্তে, তখন সমবয়সী আরেকটি শ্রেণীকে দেখছি উল্লেখ করার মতো কোনও কারণ ছাড়াই হারিয়ে যাচ্ছে। ‘আমাকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না’- কথাটা ইদানিং খুব বেশি শোনা যায়। খুব অল্পতেই যেকোনও বিষয়ে হতাশ হওয়াটাই তাদের পছন্দ।

পড়শী মনে করেন, সব কিছুর মধ্যে নিজেকে না মিলিয়ে তরুণদের উচিৎ নিজস্ব গুণটির সঠিকভাবে পরিচর্যা করা। আর এটি করতে সবার আগে প্রয়োজন গুণটির অনুধাবন আর আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরিচর্যা। এছাড়া, অনেকে যেকোনও কিছু ভাল লাগলেই অনুসরণ করা শুরু করেন, কিন্তু এটা বোঝা উচিৎ সেটি তিনি ব্যক্তি পর্যায় থেকে বিষয়টি উপলব্ধি করে করছেন কিনা।

আর একটি বিষয় সব সময় আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়। সেটি হচ্ছে ‘ইতিবাচক মানসিকতার’ অভাব। তরুণদের উচিৎ যে কোন ঘটনায় আশাহত না হয়ে বিষয়টিকে ইতিবাচক মনোভাব রেখে কোনও বিষয় ব্যাখ্যা করা। তার পর বিবেচনা করা উচিৎ বিষয়টি ভাল না মন্দ হবে।

তবে সবকিছুর বাইরে যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ সেটি হচ্ছে পরিবারকে গুরুত্ব দেওয়া। পরিবারের সান্নিধ্যে পেয়ে বেড়ে ওঠা একটি সৌভাগ্যের বিষয়। এ জন্য বলবো সব সময় চেষ্টা করুন পরিবারের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার। দিন শেষে পরিবারের চেয়ে কাছের কেউ নেই  ।

সাইফুদ্দিন রবিন, জেষ্ঠ প্রতিবেদক ও সংবাদ উপস্থাপক

হালের জনপ্রিয় সংবাদ উপস্থাপক ও জেষ্ঠ প্রতিবেদক সাইফুদ্দিন রবিন অবশ্য তারুণ্য নিয়ে একটু আলাদা করে ভাবেন। তার বিশ্বাস জীবনটা বড্ড অদ্ভুত। এক জীবনে এই পৃথিবীতে ব্যাক্তিমানবের ভ্রমনকালে নানান অভিজ্ঞতার মুখেই পড়তে হয় তাকে। কখনও তৃষ্ণা জমে স্বপ্নপূরনের। আবার কখনও বা বিতৃষ্ণায় মুখ ফিরিয়ে নেয়ার প্রবণতাও জাগে। তবু হার না মানা কিংবা লড়াইয়ের ইতিহাসই দীর্ঘ। আর এই যে লড়াই,  নিরন্তর লড়াই কিংবা হাল না ছাড়ার আন্তরিক চেষ্টার সময়টাই তারুণ্যের।

প্রায় ৮-১০ বছরের এই সাংবাদিকতার যাত্রাপথে পত্রিকা, রেডিও এবং টেলিভিশনে কাজ করার অভিজ্ঞতা হয়েছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় এক দৈনিকের পাঠকসংগঠনে যোগ দেওয়া-তারপর প্রদায়ক হিসেব হাতেখড়ি-অতপর সেখানেই অ্যাসাইনমেন্ট রিপোর্টার। লেখালেখি, ছবি তোলার নেশার - শখ কিংবা স্বপ্নের যে যাত্রা তার পূর্ণতা দিতেই তো এই চেষ্টা। প্রকৌশলী হয়েও এই যে সাংবাদিকতা; সে তো বয়সের দ্বিধাহীন, স্বাধীনচেতা আর বৈচিত্রের সন্ধান করার মানসিকতারই প্রতিফলন। পত্রিকা ছেড়ে এফ এম রেডিও। এরপর সংবাদভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানলের রিপোর্টার। চেহারা ফর্সা না হয়েও, তথাকথিত সুন্দরের ব্যাখ্যার সঙ্গে মিলবেনা-তবুও খবর পড়েছি-পড়ছিও। সংবাদ উপাস্থাপনা নয়,সংগ্রহটাই প্রাধান্য পায় আমার কাছে। মাঠে যে কাজ করে তার কাছে উপস্থাপনাটা হয়ত খানিক সহজ। দুটোতেই সমানতালে লেগে থাকার চেষ্টা আর তা কাজে লাগাতে টেলিভিশন সাংবাদিকতায় একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে নিজেকে সপে দেয়া। সংবাদভিত্তিক চ্যানেল থেকে মিক্সড চ্যানেল। আবারও সংবাদের টানেই সংবাদভিত্তিক চ্যানেলে ফিরে আসা। কেনো? এই অল্পবয়সে এতোগুলো কাজ করার জায়গা-তা নিয়ে সমালোচনা আছে। কিন্তু কাজের বৈচিত্র, সততা আর নিষ্ঠা কিংবা চ্যালেঞ্জগ্রহনের মানসিকতার সময়টাইতো এখন?

 আমি যে এখনও তরুণ।  মফস্বল শুধু নয়, দূর এক দ্বীপ থেকে রাজধানীতে পা দিয়ে একা একা এতোটা পথ চলা আর লক্ষ্য পূরণের নিরন্তর চেষ্টা। অতপর সেই চেষ্টার কাঠামোর ভিত্তিপ্রস্তর করার পুরোটাইতো এই বয়সকালে। আত্মতুষ্টিতে ভোগার সুযোগ নেই তরুণের।এক জীবনে আরও কতকি করার আছে বাকি।

পথের মাঝে বাঁধা না থাকলে অর্জনের গুরুত্ব কই? তাইতো বাঁধা আসবেই..আর সেই বাঁধা ডিঙিয়ে চলতে হবে বলেইতো চলছি। আবেগ-দায়বদ্ধতা-সামাজিকতার নানান নিয়ম-বিধি নিষেধের ঘেরাটোপে নিজেকে বিসর্জন দিয়েও অর্জনের খাতায় শূণ্য মিলতে পারে। সেই শূণ্য ফলাফলে হতাশায় গা ভাসিয়ে হাল ছেড়ে বিপথে যাওয়ার সম্ভাবনার সময়টুকুও এখন। কিন্তু সাবধান হয়ে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ কিংবা আবার সোজা পথে ফিরিয়ে আনার-জীবনের সেই চাকা ঘরানার কালই তারূণ্য। বয়স যার এখনও তরুণের কোটায় সে কি করে হাল ছেড়ে হার মেনে পথের ধারে বিষন্ন একা পড়ে থাকবে? যতটুকু গতি- তার সর্বোচ্চ রূপতো এই বয়সের আয়ু যতদিন ততদিনই।

আর জানা অজানা নানান কারণে জীবনের কঠিন সহজ সিদ্ধান্তগুলো নির্দিষ্ট করে নেওয়াও যুদ্ধ। তাই এই বয়সের-এই সময়ে এসে অনেকেই হয়ত খুব দ্রুত হার মেনে বেছে নেয় নিরাশে আশার লোভে কিংবা হতাশায় গন্ধমের ন্যায় নিষিদ্ধ ফল। ব্যাস, এটুকুই যথেষ্ট তারুণ্যের অপব্যাবহারে।

 

নূসরাত খান, পরিবেশ সাংবাদিক ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা

নূসরাত পরিবেশ সাংবাদিক ও  প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা হিসেবে বেশ নাম করেছেন। তরুণ এই নির্মাতা তার প্রামান্যচিত্র দিয়ে মন জয় করেছেন দর্শকদের। তার মতে তারুণ্য মানেই নতুনের আহবান। অবশ্যই এটি একটি ইতিবাচক  বিষয়। আজ এদেশের তরুণদের উদ্যোগ,ভাবনা বিশ্বের দরবারেও খ্যাতি বয়ে নিয়ে আসছে। কিন্তু তরুণদের উন্নয়ন ভাবনা কি শুধুই অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী হবার পরিকল্পনা,নাকি টেকসই পরিবেশ-বান্ধব উন্নয়ন ভাবনা- মনের কোণে প্রশ্নটি উঁকি দেয় মাঝে মাঝেই।

নূসরাত বলেন, নিজ আগ্রহেই, সেই প্রশ্নের উত্তর অন্বেষণ করা উচিৎ এ যুগের তরুণদের। মোটমুটি সবাই জানে,বর্তমানে সারা পৃথিবীতে আলোড়িত বিষয়- বাংলাদেশ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মাঝে অন্যতম। আর এ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তরুণ সমাজেও এক ধরনের সচেতনতা এসেছে। পরিবেশ রক্ষা করতে হোক, কিংবা পরিবেশবান্ধব জীবন চর্চায় অভ্যস্ত হতেই হোক, তরুণরা আজ নিজেদের কর্মপরিকল্পনায় ‘পরিবেশ’ বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে।

প্রকৃতপক্ষে, আজ পুরো বিশ্বের তরুণরাই পরিবেশ রক্ষার্থে একত্রিত হয়ে কাজ করছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন ছোট-বড় শহর কিংবা গ্রামে সমমনা তরুণরা প্রযুক্তিভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে আধুনিক কৃষি বিপণন করছে। কেউ আবার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চিন্তা থেকেই অভিনব ব্যবসায়িক উদ্যোগের মাধ্যমে প্রমাণ করেছে তরুণদের দ্বারা সব সম্ভব। কখনও সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর কাজটিতে তরুণদের ভূমিকা এনেছে নতুন সম্ভাবনা। পরিবেশগত প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করতে নিজ এলাকাতেই সচেতনতা বাড়াতে তরুণরা সংগঠিত হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কাজটিও করছে সুদক্ষভাবে। কিন্তু তরুণদের পরিবেশ ভাবনাকে বাস্তবায়নে কতটুকু নমণীয় আমাদের নীতিনির্ধারকরা? এ ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া পেলেই আসবে সত্যিকারের পরিবর্তন। যদি তরুণদের উপর আস্থা রাখা যায়,তবে একদিন বাস্তবিকভাবেই আমরা সঠিক পথের একটি সংবেদনশীল জাতি হিসেবে উঠতে পারবো।

/এআই/এফএএন/

 

 

 

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।