রাত ০২:৩৯ ; রবিবার ;  ১৬ জুন, ২০১৯  

স্লিপিং অন জুপিটার ও অন্যান্য

প্রকাশিত:

মশিউর রহমান ||

অনুরাধা রায়ের স্লিপিং অন জুপিটার  উপন্যাসটি এবার ম্যান বুকার পুরস্কারের দীর্ঘ তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে। এই উপন্যাসটি গড়ে উঠেছে এতিমখানায় বেড়ে ওঠা একটি মেয়ের যৌন নিপীড়নের ঘটনা দিয়ে। গল্পটা এমন—  

নমিতার বয়স সাত। তার চোখের সামনেই খুন হন তার বাবা। ভাইকে হারিয়ে ফেলেন। এবং মায়ের কাছেও সে পরিত্যক্ত। এই ঘটনাগুলো খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে তার জীবনে ঘটে। শেষমেষ যেই এতিমখানায় তার আশ্রয় মেলে সেটি পরিচালনা করেন আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একজন ধর্মীয় গুরু। সেখান থেকেই নরওয়ের একটি পরিবার তাকে দত্তক নেয়। কিন্তু তার বিগত দিনের স্মৃতিগুলোয় গেঁথে আছে চূর্ণবিচূর্ণ কাঁচ। সেখান থেকে সে বেরোতে পারে না। সেই শিশু বয়সে, এতিমখানায় এসে সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয় গুরুর দ্বারাই। 
নমিতার বয়স এখন পঁচিশ বছর। সে একজন চলচ্চিত্র পরিচালকের সহকারী হিসেবে কাজ করে।একদিন ফিরে আসে ভারতের মন্দির-শহর ‘জারমুলি’তে (এটি সম্ভবত কাল্পনিক নাম)।
ন্যারেটিভ ফর্মে লেখা এই উপন্যাসে তিনজন বৃদ্ধার সাক্ষাৎ পাওয়ায় যায়। যাদের সঙ্গে তার ট্রেনে দেখা হয়। গৌরি, লতিকা এবং বিদ্যা। সঙ্গী হিসেবে আছে সমকামী গাইড। সিনেমার রিসার্স সহাকারী হিসেবে একজন ফটোগ্রাফার।   
নমিতা এই উপন্যাসে ভারতীয় সমাজের ভণ্ডামী তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, ভারতীয় মন্দিরের টেরাকোটায় রয়েছে অবাধ-উন্মুক্ত যৌনচার কিন্তু সমাজে রয়েছে প্রচণ্ড রক্ষণশীলতা। এমন স্ববিরোধী চরিত্র সমাজের কথিত শিক্ষিত পুরুষদের মধ্যেও দেখা যায়।  
অনুরাধা রায় এখানে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। তার একটি হলো, ধর্মের বাতাবরণে নারীর প্রতি যে নিপীড়নমূলক ঘটনা ঘটে তা পুলিশ মোকাবেলা করতে পারবে কিনা?  

অনুরাধা রায়ের এ পর্যন্ত তিনটি উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে। বাকি দুটি হলো, এন এটলাস অফ ইমপসিবল লংগিং(২০০৪), যেটি পৃথিবীর প্রায় ১৫টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। এবং দ্যা ফোল্ডেড আর্থ (২০১১) ইকনোমিস্ট ক্রসওয়ার্ড পুরস্কার পেয়েছে।
নমিতা ইংরেজি সাহিত্যে পড়াশোনা করেছেন প্রেসিডেন্সি কলেজ, কলকাতা এবং ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে। পেশাগত জীবনে তিনি সাংবাদিক ও সম্পাদক।  


সালমান রুশদির এওয়ার্ড লাভ

সাহিত্যে অবদান রাখার জন্য সালমান রুশদি শিকাগো ট্রিবিউন লিটারারি এওয়ার্ড পেয়েছেন। এটা একটি আজীবন সম্মাননা। আগামী ৭ নভেম্বর শিকাগো হিউম্যানিটিস ফেসটিভ্যালে এই এওয়ার্ড প্রদান করা হবে।   
জেরোল্ড কার্ন, দ্য ট্রিবিউনের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি এবং সম্পাদক, তিনি বলেন, ‘শিকাগো ট্রিবিউন লিটারারি এওয়ার্ড-এর জন্য সালমান রুশদিকে নির্বাচন করতে পেরে আমরা বিশ্বের একজন গুরুত্বপূর্ণ লেখকে সম্মান জানাতে পারছি এবং যিনি তার জীবন উৎসর্গ করছেন বাক-স্বাধীনতার জন্য।’
রুশদিও এক বার্তায় জবাব দিয়েছেন এই বলে, ‘শিকাগো সব সময়ই আমার এবং আমার কাজের প্রতি দয়া দেখিয়েছে। এজন্য আমি ভাগ্যবান।’ 
২০০০ সাল থেকে সালমান রুশদি আমেরিকায় বসবাস করছেন। স্যাটানিক ভার্সেস উপন্যাসের জন্য তিনি বিশ্বে আলোচিত-সমালোচিত। তার আগে এই এওয়ার্ড পেয়েছেন, প্যাটি স্মিথ,  ই.এল ডকটরৌ, এলি উইসেল, আর্তুর মিলার, টম উলফি, মার্গারেট এটুড এবং অগাস্ট উইলসন। এর সম্মাননামূল্য ১০ হাজার পাউন্ড। 

 


২৪ তম নিউস্টাড পুরস্কারের মনোনয়ন 

২০১৬ সালের নিউস্টাড পুরস্কারের জন্য এবার নয়জন লেখককে মনোনীত করা হয়েছে। এরা হলেন- সান শুয়ে(চীন), ক্যারল চার্চিল(ইংল্যান্ড), ক্যারলিন ফোর্স(আমেরিকা), এমিনাটা ফরনা(স্কটল্যান্ড), এ্যান-মারি ম্যাকডোনাল্ড(কানাডা), গুয়াদালুপ নেটল(ম্যাক্সিকো), ডন পিটারসন( স্কটল্যান্ড), দুবরাভকা আগ্রিসেক(নেদারল্যান্ডস), হাসান আকতান(প্যালেস্টাইন)।   
এদের মধ্যে সাতজনই নারী লেখক।
আগামি অক্টোবরে অনুষ্ঠিতব্য নিউস্টাড উৎসবে একজন লেখক ভোটে নির্বাচিত হবেন। এই বিজয়ী লেখক উৎসবের শেষ ভোজসভার সমাপনী ঘোষণা দেবেন। তিনি সম্মানী পাবেন ৫০ হাজার ডলার। 
নিউস্টাড পুরস্কারকে আমেরিকার নোবেল বলা হয়। ১৯৭০ সাল থেকে এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে, গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস(১৯৭২), অক্তাভিয় পাজ(১৯৮২), টমাস ট্রান্সট্রোমার(১৯৯০)-সহ বেশ কজন নোবেল বিজয়ী লেখক রয়েছেন। বলা হয়, এই পুরস্কারটি সুইডিশ একাডেমির চূড়ান্ত মনোনয়নেও ভূমিকা রাখে।  

সূত্র : ইন্টারনেট অবলম্বনে

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।