রাত ১২:৪২ ; বৃহস্পতিবার ;  ২০ জুন, ২০১৯  

মুক্তচিন্তা তারেই আমি বলি

প্রকাশিত:

সুমন মজুমদার॥

উইকিপিডিয়া বলছে, মুক্তচিন্তা হলো এক প্রকার দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গী। যা বলে যে, বিজ্ঞান, যুক্তিবিদ্যা এবং যুক্তির আলোকে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। মতামত গঠনের ক্ষেত্রে প্রথা, অন্ধ বিশ্বাস এবং কর্তৃপক্ষ দ্বারা প্রভাবিত হওয়া উচিত নয়। সচেতনভাবে মুক্তচিন্তার প্রয়োগকে বলে মুক্তচিন্তন এবং এর অনুশীলনকারীদের বলে মুক্তমনা।

যুগ এগিয়ে যাচ্ছে। প্রযুক্তি আর যোগাযোগে সভ্যসমাজ হয়ে উঠছে আধুনিক। অথচ এই একুশ শতকে এসেও আজ পৃথিবী ধুঁকছে মুক্তচিন্তার অভাবে। দেশে দেশে যেমন ছড়িয়ে পড়েছে কট্টরপন্থিতা, ধর্মীয় মৌলবাদ, সন্ত্রাসবাদ। তেমনি সমাজে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অন্যের মত ও পথের প্রতি সহনশীলতার অভাব, হানাহানি।    

কিন্তু দিন দিন কেনও এত বেড়ে যাচ্ছে এতসব নৃশংসতার হার? মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, পুঁথিগত বিদ্যা হয়তো মুখস্ত করলেই পাওয়া যায়। কিন্তু সৃজনশীল ও মুক্তচিন্তা মানুষকে কষ্ট করেই অর্জন করতে হয়। অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন যে, সত্যিকার অর্থেই চিন্তার মুক্ততা আসলে কীভাবে অর্জন সম্ভব। এক্ষেত্রে শিক্ষার সঠিক প্রয়োগ, অনুশীলন,অনুসন্ধিৎসা মানুষের মধ্যে জানার আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দেয়।আর জ্ঞানের পরিধি যত বাড়বে ততই বাড়বে ভাবনার পরিধি। যা ক্রমেই নিয়ে আসবে অন্যের মত-পথের প্রতি সহনশীলতা। তাই মুক্তচিন্তার অধিকারী হতে শিশুকাল থেকেই শিক্ষার প্রকৃত অর্থটা বোঝানোই হতে পারে অস্থির সমাজের একমাত্র কুইনান।

মনোবিজ্ঞানীরা আরও বলেন, মুক্তচিন্তার অধিকারী হতে হলে একজন মানুষের কখনোই জ্ঞান ও যুক্তিহীন দাবিকৃত কোনও মতকেই সত্য হিসেবে গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করা উচিত না। সুতরাং মুক্তমনারা বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান, বাস্তব সত্য এবং যুক্তির আলোকে মত গড়ে তুলবেন। অথবা কর্তৃপক্ষ, পক্ষপাতদুষ্টতা, লোকজ্ঞান, জনপ্রিয় সংস্কৃতি, কুসংস্কার, সাম্প্রদায়িকতা, প্রথা, গুজব এবং অন্য সব গোঁড়া, বৃদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধকতার উৎসাহদাতার ভূমিকা পালনকারী জিনিস থেকে নিজেদের বিরত রাখবেন। ধর্মের ক্ষেত্রে মুক্তমনারা সাধারণত সমস্ত অলৌকিক বিষয়াবলি এড়িয়ে চলে তার পেছনের যুক্তি খুঁজে বের করবেন। মনে প্রাণে বিশ্বাস করতে হবে-মানুষ ধর্মের জন্য নয় বরং মানুষের জন্যই ধর্ম।

তবে মোটা দাগে মুক্তচিন্তন অনুশীলনের জন্য অবশ্যই একজন মানুষকে কিছু সাধারণ শর্ত মেনে চলতে হয়। যেমন-

১. কী শিখছি তার প্রকৃত অর্থ বুঝতে চেষ্টা করা।

২. নিজের ধর্মীয় বা অন্যান্য দৃষ্টিভঙ্গীকে অন্যের ওপর চাপিয়ে না দেওয়া।

৩. অন্যের প্রতি বর্ণবাদী বা সাম্প্রদায়িক আচরণ না করা।

৪. অন্যের মতামতকে সমান গুরুত্ব দেওয়া।

৫. কোনও ব্যাপারে প্রতিক্রিয়াশীল না হয়ে ক্রিয়াশীল ভূমিকা নেওয়া।

৬. যুক্তি ও বুদ্ধিবৃত্তিক অনুশীলন।

৭. প্রচুর পড়া ও লেখার অভ্যাস গড়ে তোলা।

৮. সাংস্কৃতিক সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকা।

৯. সময়ের চাহিদা অনুসারে নিজেকে পরিবর্তনে উৎসাহী থাকা।

১০. দূরদৃষ্টি সম্পন্ন হওয়া।

 

ছবি: সংগ্রহ

আরএফ

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।