রাত ০৫:২৯ ; শনিবার ;  ১৯ অক্টোবর, ২০১৯  

নতুন রফতানি নীতি ২০১৫-১৮ অনুমোদন

প্রকাশিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট।।

ডাল, পেঁয়াজ, রসুন সয়াবিন তেলের মতো নিত্য পণ্য রফতানিতে নিষেধাজ্ঞ আরোপ করে তিন বছর মেয়াদি ‘রফতানি উন্নয়ন নীতি ২০১৫-১৮’ অনুমোদন দিয়েছে সরকার। পাশাপাশি ২০২১ সাল নাগাদ রফতানি আয় ৬ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করা হয়।

সচিবালয়ে বুধবার ‘অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’র বৈঠকে এটি অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

বিদ্যমান ‘রফতানি নীতি ২০১২-১৫’-এর মেয়াদ গত ৩০ জুন শেষ হয়। তবে, নিয়ম অনুসারে নতুন রফতানি নীতি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত পুরনো রফতানি নীতি বহাল থাকে।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের এ বিষয়ে জানান, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকেই নতুন এ রফতানি নীতি কার্যকর বলে বিবেচিত হবে।

তিনি আরও জানান, নতুন নীতিতে ২০২১ সালের মধ্যে রফতানি ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা রেখে কার্যক্রম নিতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত অর্থবছরে (২০১৪-১৫) বাংলাদেশের রফতানি ছিল তিন হাজার ৭৬ কোটি ৮০ লাখ (৩০ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার।

এ ছাড়া, নতুন রফতানি নীতিতে ‘বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা’ ও চার দেশীয় (বাংলাদেশ-ভারত-নেপাল-ভূটান) উপ-আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়ানো, আমদানি হ্রাস ও রফতানি বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং রফতানি নির্ভর বৈদেশিক বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা এবং বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশ মিশনগুলোকে অধিকতর বাণিজ্য বান্ধব ও বাংলাদেশ পণ্যের ব্র্যান্ডিং বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

ঘোষিত নতুন রফতানি নীতিতে ১২টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার খাত ও ১৪টি বিশেষ উন্নয়মূলক খাত অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি এক্ষেত্রে প্রদেয় সাধারণ সুযোগ-সুবিধা, পণ্যভিত্তিক সু্বিধা, নিষিদ্ধ পণ্য ও শর্তসাপেক্ষে রফতানির পণ্য তালিকা উল্লেখ করা হয়েছে।

সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার খাত:

সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রাপ্ত ১২টি খাতের মধ্যে রয়েছে অধিক মূল্য সংযোজিত তৈরি পোশাক ও সংশ্লিষ্ট পণ্য (এক্সেসরিজ), সফটওয়্যার , তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সেবা ও পণ্য, ওষুধ, জাহাজ নির্মাণ, পাদুকা ও চামড়াজাত পণ্য, পাটজাত পণ্য, প্ল্যাস্টিক পণ্য, কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য, আসবাবপত্র, ঘরোয়া বস্ত্র পণ্য (হোম- টেক্সটাইল) ও টেরিটাওয়েল, ঘর সাজানোর পণ্য ও লাগেজ।

বিশেষ উন্নয়মূলক খাত:

বিশেষ উন্নয়মূলক ১৪টি খাতের মধ্যে রয়েছে বহুমুখী পাটজাত পণ্য, রাবার, রেশম, হস্ত ও কারুপণ্য, লুঙ্গিসহ তাঁত শিল্পজাত পণ্য, নারিকেলের ছোবড়া, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য, সিরামিক পণ্য, হালকা প্রকৌশল পণ্য, মূল্য সংযোজিত হিমায়িত মৎস্য, পাঁপড়, মুদ্রণ ও মোড়ক, অমসৃণ হীরা ও গহনা এবং কাগজ ও কাগজজাত পণ্য।

শর্ত সাপেক্ষের রফতানিযোগ্য পণ্য:

এ তালিকার মধ্যে রয়েছে কাফকো ছাড়া অন্য কারখানায় প্রস্তুতকৃত ইউরিয়া সার, বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান, প্রাকৃতিক গ্যাস উদ্ভুত পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য, রাসায়নিক অস্ত্র, চিনি, ইলিশ মাছ, সুগন্ধি চাল, কুমিরের চামড়া ও মাংস প্রভৃতি।

রফতানি নিষিদ্ধ পণ্য:

এ তালিকার ১৭টি খাতের মধ্যে রয়েছে প্রক্রিয়াজাত ব্যতীত সকল প্রকার ডাল, সরকারি পর্যায় ও সুগন্ধি চাল ছাড়া সাধারণ চাল, পাটবীজ ও শনবীজ, আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও সংশ্লিষ্ট উপকরণ, তেজস্ক্রীয় পদার্থ, পুরাতাত্ত্বিক দুর্লভ বস্তু, মনুষ্য কঙ্কাল ও রক্তের প্ল্যাজমা বা তা দ্বারা তৈরি সামগ্রী, চিল্ড, হিমায়িত ও প্রক্রিয়াজাত ব্যতীত অন্যান্য চিংড়ি, ছোট আকারের সামুদ্রিক চিংড়ি, বেত, কাঠ ও কাঠের গুড়ি, জীবিত বা মৃত সকল প্রজাতির ব্যাঙ ও ব্যাঙের পা, কাঁচা ও ওয়েট ব্লু চামড়া প্রভৃতি।

/এফএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।