বিকাল ০৪:৩৯ ; মঙ্গলবার ;  ২৩ এপ্রিল, ২০১৯  

এবার 'ইয়ান পেরি' পেলেন আমাদের পলাশ

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

এহতেশাম ইমাম।।

কঠোর চেষ্টা করলে নাকি স্বপ্ন পূরণ হয়। তবে সবার আগে প্রয়োজন নিজের স্বপ্নকে অনুধাবন করা। আর স্বপ্নকে অনুধাবন করতে পেরেছেন বলেই,  হোটেল ম্যানেজমেন্ট আর বিবিএতে উচ্চ শিক্ষা নেওয়ার পর ফটোগ্রাফিকে পেশা, নেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন সালাউদ্দিন আহমেদ পলাশ। বড় অংকের বেতন আর আর্থিক সচ্ছলতার পথ মাড়িয়ে  সৃষ্টিশীল এ পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করার ফল হিসেবে পেয়েছেন ইয়ান পেরি স্কলারশিপ।

আর্ন্তজাতিকভাবে  তরুণ ফটোগ্রাফারদের কাছে সম্মানজনক অর্জন হিসেবে ধরা হয় ইয়ান পেরি স্কলারশিপকে। আর এ  বছর বাংলাদেশের পক্ষে সেই অর্জন পলাশের।

কয়েকটি ধাপে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে জমা পড়া ছবির মধ্য থেকে স্কলারশিপ সিলেকশন কমিটি বেছে নেয় দুশো ছবি। আর সে ছবিগুলোর মধ্য থেকে চূড়ান্তভাবে স্থান করে নিয়েছে পলাশের তোলা হাজারিবাগের চামড়া প্রক্রিয়াকরণ কারখানাগুলোতে সাধারণ শ্রমিকদের নিয়ে তোলা ১২টি ছবি। পুরস্কার হিসেবে স্কলারশিপের পাশাপাশি থাকছে সানডে টাইমস, দ্য গার্ডিয়ান, নিউইয়র্ক টাইমস,নিউইয়র্ক টাইমস ইন্টারন্যাশনাল ও টাইমসসে প্রকাশের সুযোগ। আর পলাশের জন্য সবচেয়ে বড় যে সুযোগটি রয়েছে সেটি হচ্ছে লন্ডন ও প্যারিসে আলাদা আলাদাভাবে নিজেদের ছবির প্রদর্শনী করা।

বিষয়বস্তুর সঙ্গে গড়ুন মানসিক সন্ধি

জোর করে ছবি হয় না।  যার অনুভূতি বহিঃপ্রকাশের মাধ্যম  ছবি, তার ক্যামেরায় কি  ছবি না ধরা না দিয়ে পারে? তবে এ জন্য প্রয়োজন বিষয়বস্তুর সঙ্গে ফটোগ্রাফারের মানসিক সন্ধি। আর এ কাজটি করেছেন  পলাশ। বলেন, রাজধানীল হাজারীবাগ এলাকায় থাকাকালীন বিভিন্ন সময় বন্ধুর লেদার ফ্যাকটরিতে যেয়ে সময় কাটাতেন তিনি। তবে পরবর্তীকালে পাশের বন্ধুটির চেয়ে কারখানার শ্রমিকেরা হয়ে ওঠে তার কাছের মানুষ। আর এ কারণেই পলাশের ফ্রেমে বাঁধা পড়েছে দারুণ সব ছবি।

সৃজনশীল, ব্যক্তি আর  পেশাজীবী

২০০৫ সালে লন্ডন থেকে হোটলে ম্যানেজমেন্টে স্নাতকোত্তর শেষ করার পর ভালো চাকরির প্রস্তাব ছিল পলাশের কাছে। কিন্তু, সময়ের ছকে নিজেকে বাধতে নারাজ পলাশ। তাইতো দেশে ফিরে আবারও কিছুদিন কাটানোর পর বিবিএতে স্কলারশিপ পেয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার যান উচ্চত্তর পড়ালেখার উদ্দেশ্যে। কোরিয়াতে আটমাসের প্রাথমিক ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্সের সময় বুঝে ফেলেন সৃজনশীল মনটি কোন ভাবেই থাকতে চাইছে না নিয়মের মধ্যে।  বিদেশের মাটিতে এস সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন দেশে ফিরে পাঠশালায় ভর্তি হবেন। কয়েকদিনে মধ্যে দেশে ফিরে ভর্তি হন পাঠাশালার স্বল্প মেয়াদি কোর্সে। সেটি সম্পন্নের পর ২০১২ সালে ভর্তি হন তিন বছরের বেসিক কোর্সে একই  প্রতিষ্ঠানে।

তবে পেশাদারিত্ব থাকলে স্থান করে নেওয়া যায় যেকোনও কর্মক্ষেত্রে। পেশায় ছাত্র হলেও, ক্যামেরা চালানোয় হাতেখড়ি ২০১১ সালে। পরেবর্তীকালে বাস্তবতার কারণে ওয়েডিং ফটোগ্রাফিকে বেছে নিয়েছেন উর্পাজনের পথ হিসেবে। বর্তমানে রং ফটোগ্রাফি নামের একটি ওয়েডিং ফটোগ্রাফি হাউসের মালিক তিনি।

তবে, গণ্ডির মধ্যে আটকে রাখেননি নিজেকে। গত এপ্রিলে নেপালে ঘটে যাওয়া প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্পের খবর যে কয়জন বাংলাদেশি চিত্রগ্রাহক বিশ্ববাসীকে জানিয়েছে তাদের মধ্যে মধ্যে আছেন পলাশ। পোলারাইজ ইমেজের পক্ষ্য থেকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পরেছে পলাশের ছবি। বর্তমানে কাজ করছেন রানা প্লাজা ধ্স পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়েও।

অনুপ্রেরণা খুজুন নিজের মাঝে

ফটোগ্রাফি পেশায় যার কাছ থেকেই কিছু শিখতে পারবেন তাকেই অনুপ্রেরণা মানেন পলাশ। ফটোগ্রাফিকে পেশা হিসেবে নেওয়ার ক্ষেত্রে পাশে পেয়েছেন মা ও সবচয়ে কাছের বন্ধু বৃষ্টিকে। তাদের সহায়তায় প্রাথমিক সময়ের দুর্গম পথটি পাড়ি দেওয়া সহজ হয়েছে বলে জানান তিনি।

কাছের মানুষগুলো নিজের সহায়তা আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়তা করলেও, সত্যিকারের অনুপ্রেরণা আসে নিজের কাছ থেকে- এমনটাই বিশ্বাস করেন পলাশ।  আত্মবিশ্বাস, পেশাদারিত্ব আর অপরের কাজের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকলে সাফল্যের পথটি খুব বেশি দুর্গম হবে না বলেই মনে করেন এ তরুণ চিত্রগ্রাহক।

পলাশের ছবি: সাজ্জাদ হোসেন।

/এফএএন/

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।