বিকাল ০৪:০৩ ; মঙ্গলবার ;  ২৩ এপ্রিল, ২০১৯  

প্রতিবন্ধীদের বাদ দিয়ে উন্নতি হতে পারে না

প্রকাশিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট।।

‘আমার চেহারা না দেখিয়ে তাদের কথা দেখান- এতে আমার কাজ বেশি হবে’। গণমাধ্যমকর্মীদের এ অনুরোধ করেন অটিজম ও নিউরোলজির জাতীয় জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির প্রধান সায়মা ওয়াজেদ হোসেন। মূলধারার স্বাস্থ্য সেবায় প্রতিবন্ধীদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিতকরণ (প্রোমোটিং ইনক্লুসিভ হেলথ অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন সার্ভিসেস ফর পিপল উইথ ডিজ্যাবালিটিজ) শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

সায়মা ওয়াজেদ আরও বলেন, প্রতিবন্ধিতা কোনও আলাদা বিষয় নয়। হয়তো আজ আম‌‌‌ার-আপনার ডিজ্যাবিলিটি নেই। কাল যে কারও হতে পারে। দেশের উন্নয়নে এদেরকেও সঙ্গে নিতে হবে। কাউকে বাদ দিয়ে উন্নতি হবে না, হতেও পারে না।

প্রতিবন্ধীদের নিয়ে পাঁচ বছর মেয়াদী যে পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে সেখানে সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা দরকার বলে মন্তব্য করেন সায়মা ওয়াজেদ। প্রতিবন্ধীরা সবচেয়ে অবহেলিত। তাদের চোখে পড়ে কম। এ কারণেই তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন বলে জানান তিনি।

সেমিনারে নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ের সচিব নাছিমা বেগম বলেন, সরকারের পক্ষে একা সব করা সম্ভব না। সবাই একসঙ্গে কাজ করলে ডিজাব্যালিটি নিয়ে গড়ে ওঠা সামাজিক বলয় ভেঙে যাবে। তিনি বলেন, আমরা যদি নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে পারি তাহলে প্রতিবন্ধিতা নিয়ে জন্মগ্রহণ করাটাও নিরোধ করতে পারি।

নিজের ৩০ বছরের অটিস্টিক সন্তানের কথা বলতে গিয়ে নাছিমা বেগম বলেন, প্রতিবন্ধী সন্তানের মা হিসেবে প্রতিটি সময় মায়েদের কথা অনুভব করি। আমার সন্তানের বয়স যখন ২৭ বছর ছিল তখন তার অটিজমের বিষয়টি ধরা পড়ে এবং চিকিৎসা হয়। চিকিৎসায় তার কিছুটা উন্নতিও হয়েছে। দেড় থেকে তিন বছরের মধ্যেই যদি অটিজমের চিকিৎসা করানো যায় তাহলে অনেকখানি উন্নতির সম্ভাবনা থাকে। প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করতে অর্থমন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা চান সচিব।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠসচিব তারিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিবন্ধীদের জন্য ঢাকায় চারটি এবং ছয়টি বিভাগে ছয়টি স্কুল রয়েছে। আমাদের ইচ্ছে আছে প্রতিটি জেলায় একটি করে স্কুল করার।

জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক এবং বর্তমান সংসদ সদস্য নাইমুর রহমান দুর্জয় বলেন, বিদেশে প্রতিবন্ধীদের জন্য যাতায়াতের বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। আমাদের দেশেও হবে। এ জন্য সমাজের বিত্তশালীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

সেমিনারে বাংলাদেশে প্রতিবন্ধীদের স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা নিয়ে একটি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়। ডিআরআরএ এর পিআইএইচআরএস প্রকল্পটি তিনটি জেলায় নয়টি উপজেলায় চালু রয়েছে। তারা তাদের মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন।

অস্ট্রেলিয়ান এইডের অর্থায়নে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সহযোগিতায় চার বছর মেয়াদী মূলধারার স্বাস্থ্যসেবায় প্রতিবন্ধীদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিতকরণ প্রকল্পটি পরিচালনা করছে ডিআরআরএ।

 

/জেএ/এফএ/

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।