রাত ০৮:৫৭ ; মঙ্গলবার ;  ১৮ জুন, ২০১৯  

প্লাস্টিক ভয়ংকর!

প্রকাশিত:

স্বাস্থ্য ডেস্ক।।

পুরনো, রং চটে যাওয়া প্লাস্টিকের পাত্রে খাবার নিয়ে মাইক্রোওয়েভে যারা গরম করে খান, তাদের বিভিন্ন ধরনের রোগের আশঙ্কা অনেক বেশি। বন্ধ্যাত্বের সমস্যা দেখা দিতে পারে, রক্তচাপ বাড়তে পারে, শিশুদের বাড়বৃদ্ধিতে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। আর এসবের জন্য দায়ী প্লাস্টিক থেকে নির্গত ‘বিসফেনল এ’ (বিপিএ) নামের এক ধরনের রাসায়নিক। যা দেহের বিভিন্ন হরমোনের কার্যক্রম নষ্ট করে।

সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণায় জনা যায়, ডায়াবেটিস বৃদ্ধিতে দায়ী প্লাস্টিক।  এন্ডোক্রিনোলজিস্টরা এ নিয়ে চিন্তিত। এন্ডোক্রিন সোসাইটির আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিতও হয়েছে এই গবেষণার ফলাফল।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, প্লাস্টিক নরম জিনিস। সেটি শক্ত করতে বিপিএ নামের রাসায়নিকটির প্রয়োজন। প্লাস্টিকের বাসনে তাই স্বাভাবিক ভাবেই বিপিএ-র ব্যবহার বেশি। এ ছাড়া ওই রাসায়নিক প্লাস্টিকের পাইপ, সাবান তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

ডাক্তারদের মতে, ওই রাসায়নিকের বেশি প্রভাব পড়ে শিশুদের উপরে। ‘নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিন’ শিশুদের মূত্রে ওই রাসায়নিকের মাত্রা নির্ণয় করে প্রমাণ করেছে শিশু স্বাস্থ্যের পক্ষে তা কতটা বিপজ্জনক। রং চটে যাওয়া পাত্রগুলি আরও ভয়ের। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, এর অর্থ ওই বাসনের ‘প্রোটেকটিভ লেয়ার’ নষ্ট হয়ে গিয়েছে।

ভারতের এন্ডোক্রিনোলজিস্ট সতীনাথ মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বিপিএ-র ক্ষতিকর দিকগুলি সম্পর্কে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) বহু দিন ধরেই হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে। তিনি বলেন, ‘‘এই ধরনের রাসায়নিককে বলা হয় ‘এন্ডোক্রাইন ডিসরাপটর’। দেহে যত হরমোন আছে, তার প্রত্যেকটির নির্দিষ্ট কাজকর্ম গুলিয়ে যেতে পারে এর জেরে। ইনসুলিন প্রতিরোধী ডায়াবেটিস তারই এক চরম নমুনা।’’

শুধু মাইক্রোওয়েভে প্লাস্টিকের পাত্র ব্যবহার নয়। হু বহু দিন ধরেই প্লাস্টিকের বোতলে জল খাওয়ারও বিরোধিতা করেছে। হু-র বক্তব্য, বোতলের গা থেকে নিঃসৃত রাসায়নিক জলে মিশে রোগ ছড়াতে পারে। প্লাস্টিকের জলের বোতল ফ্রিজে রাখাটাও ক্ষতিকর। কারণ অতিরিক্ত ঠাণ্ডায়ও রাসায়নিকটি নির্গত হয়। বাজারে বোতলবন্দী যে জল কিনতে পাওয়া যায়, অনেকেই সেই বোতল পরবর্তী সময়েও ব্যবহার করেন। তাও খুব ক্ষতিকর।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্লাস্টিকের মান যদি ভালো হয়, তা হলে শারীরিক ক্ষতির ঝুঁকি তুলনামূলক ভাবে কম থাকে।

রেস্তোরাঁয় যে ধরনের প্লাস্টিকের পাত্রে খাবার দেওয়া হয়, অনেকে বাড়িতে আনার পরে সেসব পাত্র একাধিক বার ব্যবহার করেন। এক চিকিৎসক জানান, ‘রেস্তোরাঁয় ওই পাত্রের জন্য অতিরিক্ত পাঁচ-ছ’টাকা দাম নেওয়া হয়। ওই দামে যে পাত্র পাওয়া যায়, তা তো এক বার ব্যবহার করেই ফেলে দেওয়ার কথা!’

প্লাস্টিকের পাত্র বা বোতলকে ঘিরে এমন স্বাস্থ্য-হুঁশিয়ারি অবশ্য নতুন কিছু নয়। বছর দশেক আগে প্লাস্টিকের মধ্যে থাকা আর একটি রাসায়নিক নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল। চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন ডিইএইচপি নামে ওই রাসায়নিকটি থেকে ক্যানসার হতে পারে। প্রবল চাপের মুখে পড়ে প্লাস্টিক বিক্রেতারা তখন ওই রাসায়নিকের ব্যবহার বন্ধ করে দেন। তবে এখনও  কোনও কোনও প্রস্তুতকারক রাসায়নিকটি ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সূত্র: আনন্দবাজার

/এসএস/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।