বিকাল ০৫:০৪ ; মঙ্গলবার ;  ১৫ অক্টোবর, ২০১৯  

ইরানের দৈনিক ‘এত্তেলাত’ পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথের পারস্য সফর

2

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

[আজ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৪তম প্রয়াণ বর্ষ। ১৩৪৮ বঙ্গাব্দের ২২ শ্রাবণ তিনি পরলোকগমন করেন। রবীন্দ্রনাথের বিপুল জীবনে ভ্রমণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এইসব ভ্রমণের আনন্দ ও অনুসন্ধান নিয়ে তিনি লিখেছেনও প্রচুর। তাঁর এই ভ্রমণবিশ্বে পারস্য এক অনন্য মাত্রা সংযোজন করেছে। কবিগুরুর পারস্য ভ্রমণকালে সেখানকার পত্র-পত্রিকায় যেসব সংবাদ ছাপা হয়েছে তার অনুসন্ধান করেছেন  আনিসুর রহমান স্বপন।]

 

ভূমিকা

‘পারস্যে রবীন্দ্রনাথ’ এবং ‘রবীন্দ্র চর্চার’ বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে যখন গ্রন্থ ও পত্রিকায় রবীন্দ্র রচনার ফার্সী অনুবাদ এবং রবীন্দ্র বিষয়ক আলোচনার তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছিলাম তখন ইরানের সংবাদপত্রে কবিগুরুর পারস্য সফরের প্রতিবেদন ও প্রতিফলন নিয়েও টুকিটাকি তথ্য সংকলন শুরু করি। 
আমার দুই অবাঙালি সহকর্মী এ বিষয়ে সহযোগিতা করেন। তাদের সৌজন্যে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবন্ধনকৃত ছাত্র বা গবেষক না-হওয়া সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবিক ও সাহিত্য  অনুষদের সুবিশাল কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার এবং তথ্য-সংরক্ষণ কেন্দ্রের দুস্প্রাপ্য প্রামাণ্য তথ্যপঞ্জীর মাইক্রোফিল্ম  দেখা, পাঠ, মুদ্রিত কপি সংগ্রহের সুযোগ পাই।
এরই ফলে ইরানের দু’টি বিখ্যাত, বহুল প্রচারিত এবং বিশাল সংবাদপত্র গোষ্ঠী ‘রোজনামেহ ইরান’ এবং ‘রোজনামেহ এত্তেলাতে’র ১৯৩২ সালের ফাইলগুলো দেখা ও পড়া সম্ভব হয়। 
ইরানে দু’টি প্রধান সংবাদপত্রে রবীন্দ্রনাথের পারস্য সফরের বিষয়ে যেসব সংবাদ, তথ্য, প্রতিবেদন, আলোচনা, নিবন্ধ ও ছবি ছাপা হয়েছে তা থেকে এটাই  প্রমাণিত হয়, ঐ সময়ে ইরানে রবীন্দ্রনাথ ছিলেন অভ্যন্তরীন সংবাদের এক বিশেষ কেন্দ্র-বিন্দু। 
তবে ‘রোজনামেহ ইরান’ (বর্তমানে ‘কেইহান’ প্রকাশনা গোষ্ঠী)  এর ফাইল ও মাইক্রোফিল্ম সময়াভাবে সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।
তাই বর্তমান নিবন্ধটি মূলত ‘রোজনামেহ এত্তেলাতে’র সংগৃহীত কপি ও তথ্যাবলীরই ফসল। পরিসর বৃদ্ধির ভয়ে অনেক তথ্যই সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। বিশেষত নিবন্ধগুলোর বিস্তারিত কোনো অনুবাদের চেষ্টা হতে বিরত থেকে শুধু নাম উল্লেখ করেই আমরা দায় সেরেছি।
রবীন্দ্রনাথের জীবদ্দশায় জন্ম-দিবস পালন উপলক্ষে বিদেশি কোনো রাষ্ট্রে সরকারীভাবে অনুষ্ঠানমালার আয়োজন এবং তাতে কবিগুরুর উপস্থিতি ও অংশগ্রহণের নজীর সম্ভবত ইরানেই শুরু হয়েছে।
তাঁর প্রতি প্রদর্শিত সম্মান ও প্রদত্ত মর্যাদা কোনো ব্যক্তি মাত্রের প্রতিই নয়, সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশ বিশেষত বাংলাভাষা, বাঙালি, দেশ ও জাতির জন্যও অত্যন্ত গৌরবের বিষয়। 
আমরা আমাদের ভাষার শ্রেষ্ঠতম কবি এবং ভারত ও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত রচয়িতার প্রতি এমন বিরল আতিথেয়তা ও সম্মান প্রদর্শনের জন্য ইরানের তৎকালীন জনগণ ও সরকারের প্রতি জানাচ্ছি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। 
এ আলোচনায় ব্যবহৃত ফার্সী শব্দের অর্থ ও প্রতিবর্ণীকরণের ক্ষেত্রে আমরা ভাষাতাত্ত্বিক নিয়মের চেয়ে সহজবোধ্যতার উপর বেশি জোর দিয়েছি। এজন্যে পূর্বহ্নেই ভাষাবিদদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। 
এ প্রসঙ্গে স্মরণযোগ্য সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবারে এবং ‘নওরোজ’, আশুরা’র মতো জাতীয় ছুটির দিনে ইরানে দৈনিক সংবাদপত্র প্রকাশিত হতো না এবং ইরানের সংবাদপত্রে কবিগুরুর পারস্য সফরের বিষয়ে প্রতিবেদন ও প্রতিফলন সমসাময়িক ভারতীয় সংবাদপত্রের তুলনায় অনেক বেশি ছিলো।

 

১৪ এপ্রিল, ১৯৩২। বৃহস্পতিবার। ২৫ ফার্ভার্দিন ১৩১১। সংখ্যা : ১৫৮৪, ৬ষ্ঠ বর্ষ।

এইদিনে দৈনিক এত্তেলাতে’র ২য় পৃষ্ঠায় “আখবারে দাখেলী” (অভ্যন্তরীণ সংবাদ) অংশে ১ম কলামের ২য় সংবাদ ছিলো “ভুরুদে ফিলসোফিয়ে হেন্দী” (ভারতীয় দার্শনিকের আগমন)। 
এতে তারযোগে প্রাপ্ত খবর হিসেবে বলা হয়েছে : প্রখ্যাত ভারতীয় দার্শনিক ও কবি ডঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কন্যা (?), পুত্রবধূসহ একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে গতকাল (১৩ এপ্রিল) বন্দর নগরী বুশেহর পৌঁছেছেন। তাঁর তাথে অগায়ে (জনাব) মেহের মির্চী এবং বোম্বেতে নিযুক্ত ইরানী কন্সাল জেনারেল অগায়ে কেইহানও রয়েছেন। 
ইরান সরকারের পক্ষ হতে বুশেহর প্রদেশের গভর্নর তাদেরকে স্বাগত জানান এবং যথোপোযুক্ত সম্মান সহকারে তাদের আপ্যায়নের ব্যবস্থা করেন। এখান থেকে আজ (১৪ এপ্রিল) ডঃ  ঠাকুর শিরাজ যাবেন এবং সেখানে দু’এক দিন অবস্থানের পর ইস্ফাহান হয়ে আগামী সপ্তাহে রাজধানী তেহরান পৌঁছাবেন। 
একই কালামে রবীন্দ্রনাথের পারস্য সফর সম্পর্কিত পরবর্তী খবর ছিলো ‘মোকাদ্দামাতে পাজেরায়ী’ (আপ্যায়নের প্রস্তুতি)। 
এতে উল্লেখ রয়েছে : প্রখ্যাত ভারতীয় কবি ও দার্শনিক ‘ডক্তর তাগোর (ডঃ ঠাকুর) এবং তাঁর সঙ্গী-সাথীদের থাকা-খাওয়া ও আদর আপ্যায়নের জন্য ‘ওজারাতে মায়ারাফের’ (বর্তমানে ধর্ম-সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়) পক্ষ হতে উপযুক্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ হতে কবিকে সংবর্ধনা দেয়া হবে। এছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুবাদ বিভাগের সদস্য জনাব আসাদীকে তাঁর অনুবাদক হিসেবে নিয়েগ করা হয়েছে।
‘আজেমাত ‘ব’ বান্দারে বুশেহর’ (বুশেহর বন্দরে আগমন) শীর্ষক অপর এক সংবাদে বলা হয় : পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফারুঘীর (ফারুকী) ভাই মীর্জা আবুল হাসান খান ফারুকী, ‘মালেকুশ শোয়ারা’ (কবিকুল সম্রাট) বাহারসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ডঃ ঠাকুরকে অভ্যার্থনা জানানো এবং তার সাথে সাক্ষাৎ ও আলোচনার উদ্দেশ্যে বুশেহর পৌঁছেছেন। তারা ডঃ ঠাকুরের সফরসঙ্গী হয়ে রাজধানীতে যাবেন। 
একই দিনের ‘এত্তেলাতে’র  এ অংশে ‘মাহালে জাদীদে আঞ্জুমানে বালেদী’ (সাহিত্য সংস্থার নতুন ভবন) শিরোনামের সংবাদে বর্ণিত হয়েছে: তেহরানস্থ ‘আঞ্জুমানে আদাবিয়ে ইরানে’ (ইরান সাহিত্য সংসদ ভবন) এবং ‘বাগে (গার্ডেন) নায়ারেহদ্দৌলেহ (নিরুদ্দৌলা)’ সংস্কার ও মোরামত করা হয়েছে। ডঃ ঠাকুর ও তাঁর সফরসঙ্গীরা এখানেই অবস্থান করবে। এ ভবনের মিলনায়তনটি এ সময়ে ডঃ ঠাকুরের সাথে সাক্ষাৎ-প্রার্থীদের আলোচনা এবং প্রাথমিক আপ্যায়নের স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হবে।


১৬ এপ্রিল ১৯৩২। শনিবার। ২৭ ফার্ভার্দিন ১৩১১। সংখ্যা : ১৫৮৫: ষষ্ঠ বর্ষ

এইদিন প্রথম পৃষ্ঠায় ১ম কলামে “আখবারে দাখেলী” সংবাদে বর্ণিত হয়েছে : প্রখ্যাত ভারতীয় দার্শনিক ‘রাবীন্দারানাত তাগোর’ (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) ভ্রমণ-সঙ্গীদের নিয়ে শিরাজ পৌঁছেছেন। 
ভারতীয় জরদুস্তিয়ান (পার্সী) সম্প্রদায়ের নেতা স্যার দীনশাহ্ (ইরানী) জারাদাস্তী-ও স্বদেশ ইরানের প্রেমে উদ্ভুদ্ধ হয়ে ডঃ ঠাকুরের সফরসঙ্গী হয়েছেন এবং ভ্রমণের সমস্ত ব্যয়ভার বহন করছেন। 
‘তাশকীলে শারকাতে বরায়ে কারহায়ে ফান্নী’ (কারিগরি সংস্থা প্রতিষ্ঠা) শীর্ষক এ অংশের অপর এক সংবাদে বলা হয়েছে : ডঃ ঠাকুরের জ্ঞান-বিজ্ঞান (এলমিয়েহ) মূলক মিশনে যোগ দেয়া এবং তাঁর সফরসঙ্গী হয়ে তেহরান যাওয়ার জন্যে আরো ৫ জন বিশিষ্ট ভারতীয় ইরানে পৌঁছেন। এরা ভারতের বিভিন্ন পার্সী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ও সংগঠনের  প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ইরানে স্বীয় সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও সভা-সমিতিতে অংশ নেয়া ছাড়াও এরা  আর্থ-বাণিজ্যিক ও কারিগরি বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করবেন। তেলের পাইপ লাইন, ওয়াগণ, বিদ্যুৎ, রেল যোগাযোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে ইরান সহযোগিতা ইন্ডিয়া জোরদার করার উদ্দেশ্যে ২০ লক্ষ ‘তুমান’ পুুঁজি নিয়ে যৌথ বিনিয়োগ সংস্থাও গঠন করা হবে। ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ব্যাংকের সাবেক প্রধান এবং তিন বে-সরকারি ব্যাংকের বর্তমান পরিচালক জনাব রুস্তুম মাশানী এ ব্যাপারে ভারতীয় পক্ষের প্রতিনিধি-প্রধানের দায়িত্ব করছেন।
এরপর এ প্রতিনিধি দল এবং জরথ্রুষ্ট্রীয় সম্প্রদায়ের তৎপরতার কিছু বিবরণ প্রকাশিত হয়েছে। 
একই দিনের ‘এত্তেলাতে’র রবীন্দ্রনাথের পারস্য ভ্রমণ সংক্রান্ত আরো তিনটি খবর ছাপা হয়েছে। 
এর মধ্যে ১ম পৃষ্ঠায় প্রকাশিত ‘তাওয়াকুফ দার শিরাজ ও ইষ্ফাহান’ (শিরাজ ও ইষ্ফাহানে যাত্রা বিরতি) শীর্ষক সংবাদে বলা হয় ঠাকুর এবং সঙ্গী প্রতিনিধিরা লাভিজানে একদিন ও শেরাজে (শিরাজে) দু’দিন যাত্রা বিরতি করবেন। শিরাজে কবিগুরু ‘তাখতে জামাশিদ’ (পার্সীপোলিস)সহ বিভিন্ন  প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক নিদর্শন দেখবেন। এরপর তারা ইষ্ফাহান পরিদর্শন করে তেহরানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন।
এ সপ্তাহের শেষ দিকে অথবা আগামী সপ্তাহের প্রথমদিকে ডঃ ঠাকুর ও তাঁর সফরসঙ্গীরা তেহরান পৌঁছবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।
‘বরায়ে এস্তগ্ববাল’ (অভ্যর্থনার জন্য) উপ-শিরোনামের পরবর্তী অংশে বলা হয়: ঠাকুরের অভ্যর্থনার জন্য যদিও ইতোমধ্যে জনাব মীর্জা আবুল হাসান খান ফারুঘী ৭ এবং ‘মালেকুশ-শোয়ারা’ বাহার ৮ শিরাজের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছেন, তবুও সংবর্ধনা আরো জোরদার করার জন্য ‘মজলিশে শুরায়ে মিল্লীর’ (জাতীয় সংসদ) রইসে-মুবাশশেরাত (প্রধান উপদেষ্টা) জনাব আরবাব কায়খসরুখী-ও শিরাজ  ইষ্ফাহানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছেন।
‘মাহালে আগ্বামতি ওয়া পাজিরায়ী’ (অবস্থান ও আপ্যায়ন স্থান) শীর্ষক আরেক উপ-শিরোনামে সংবাদে উল্লেখ করা হয়: কিছুদিন আগে জনাব সাইদ আসাদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ‘কানুনে ইরান বাস্তান’ (প্রাচীন ইরান সংঘ) জনাব ঠাকুরের অবস্থান ও আপ্যায়ন স্থল হিসেবে সরকারিভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সংস্থা-সংলগ্ন অপর একটি ভবনে স্যার দীনশা ইরানী ও ১ জন মহিলাসহ জনাব ঠাকুরের সফরসঙ্গীরা থাকবেন। তেহরানে জনাব ঠাকুরের অবস্থানের মেয়াদ এখনো সুনির্দ্দিষ্ট হয়নি। তবে তিনি এখানে সপ্তাহ দুয়েক থাকবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। 


১৮ এপ্রিল, ১৯৩২। সোমবার। ২৯ ফার্ভার্দিন ১৩১১। সংখ্যা ১৫৮৬: ষষ্ঠ বর্ষ।

এই দিনের দৈনিক ‘এত্তেলাতে’র ১ম পৃষ্ঠায় মোট ৫ কলামের মধ্যে তিন কলাম জুড়েই রয়েছে রবীন্দ্রনাথ বিষয়ক বিশেষ সংবাদ নিবন্ধ: ‘রাবীন্দারানাত তাগোর: ‘মেহমানে তাজে ভারেদে ম’ (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: আমাদের নবাগত অতিথি)। এতে কবিগুরুর জীবন ও দর্শন সম্পর্কে বিস্তৃত আলোচনা রয়েছে। নিবন্ধটি অত্যন্ত সুলিখিত ও পাণ্ডিত্যপূর্ণ।
এই সংখ্যায় দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় ‘আখবারে দাখেলী’ অংশে রবীন্দ্রনাথের পারস্য সফর সম্পর্কিত খবর হচ্ছে: 
‘আজেমত ব’ ইষ্ফাহান’(ইষ্ফাহানে আগমন)। এতে বলা হয়েছে: রবীন্দ্রনাথ ও তাঁর সফর সঙ্গীরা আজ (১৮ এপ্রিল) ইষ্ফাহানের উদ্দেশ্যে শিরাজ ত্যাগ করেছেন। পথে তারা ‘তাখতে জামশিদে’ (পার্সিপোলিস) মধ্যাহ্নে ভোজন এবং আবাদে’তে নৈশ্য-ভোজন সম্পন্ন করবেন। আগামীকাল (১৯ এপ্রিল) সকালে তারা ইষ্ফাহানে পৌঁছাবেন।
এরপর ভারতীয় পার্সী (জরথ্রুষ্ট) সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সাথে ইরানি জারথ্রুষ্ট্রীয়ানদের দেখা-সাক্ষাতের বিবরণ দেয়া হয়েছে।

১৯ এপ্রিল, ১৯৩২। মঙ্গলবার। ৩০ ফার্ভার্দিন ১৩১১। সংখ্যা ১৫৮৭: ষষ্ঠ বর্ষ।

এই দিনের দৈনিক ‘এত্তেলাতে’র দ্বিতীয় ‘আখবারে দাখেলী’ অংশে ‘তাওয়াক্কুফ দার ইষ্ফাহান’ (ইষ্ফাহানে যাত্রা বিরতি) শীর্ষক সংবাদে বলা হয়: রবীন্দ্রনাথ আজ এবং আগামীকাল (২০ এপ্রিল) ইষ্ফাহানে থাকবেন। উচ্চপদস্থ রাজকর্মচারি এবং প্রাদেশিক কর্মকর্তারা অতিথিদের অভ্যর্থনা ও আপ্যায়নের সু-ব্যবস্থা করেছেন।


২০ এপ্রিল, ১৯৩২। বুধবার। ৩১ ফার্ভর্দিন ১৩১১। সংখ্যা: ১৫৮৮, ষষ্ঠ বর্ষ।

এই দিনের বিকেলের দৈনিক ‘এত্তেলাতে’র ১ম পৃষ্ঠায় ২য় কলামে: ‘রাবীন্দারানাত তাগোর: আশায়ারে সুফিয়ানে: হেকমাত ওয়া আকায়েদে ভী (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: সুফিতাত্ত্বিক কবি: তাঁর প্রজ্ঞা ও বিশ্বাস) শীর্ষক প্রায় দু-কলামব্যাপী একটি নিবন্ধের ১ম অংশ ছাপা হয়।
এ সংখ্যায় ২য় পৃষ্ঠায় ‘আখবারে দাখেলী’ অংশে রবীন্দ্রনাথের পারস্য সফর প্রসঙ্গে দু’টি সংবাদ রয়েছে। একটি হচ্ছে: ‘আজমত আজ ঘজভীন’ (কাজভীনে আগমন) এবং অপরটি ‘তাফসীলে পজিরায়ে দার শিরাজ’ (শিরাজে আপ্যায়নের বিবরণ)। শিরোনাম দু’টিতেই খবরের বিষয়বস্তু বোধগম্য।
‘মাহালে পাজিরায়ে’ (আপ্যায়ন স্থান) শিরোনামের অপর সংবাদে বলা হয়েছে: তেহরানে ডঃ ঠাকুর এবং দীনশাহ ইরানিকে বাগে-নিরুদ্দৌলায় ‘আঞ্জুমানে আদাবিয়ে ইরান’ (ইরান সাহিত্য সংসদ) ভবনে আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে। 
ভারতীয় পার্সীয়ান ব্যবসায়ী রুস্তুম মাসানী, ইরানলীগ’ (বোম্বে) সম্পাদক কায়খসরুসহ অন্যান্য অতিথিদের ‘কানুনে ইরান বাস্তান’ (প্রাচীন ইরান ক্লাব) ভবনে আপ্যায়ন করা হবে। 

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।