রাত ০৯:৫৯ ; শুক্রবার ;  ১৮ অক্টোবর, ২০১৯  

ছিটমহলের জমির দলিল ভারতে আটকা

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

আরিফুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি।।

কয়েকদিন আগেও ছিল ভারতীয় ছিটমহল। এখন ঠিকানা দাসিয়ারছড়া, ফুলবাড়ি, কুড়িগ্রাম, বাংলাদেশ। দীর্ঘ ৬৮ বছর পর মূল ভূখণ্ডে যুক্ত হওয়ায় আনন্দে উদ্বেলিত এখানকার বাসিন্দারা। তাদের এ আনন্দ ম্লান করে দিয়েছে জমি-সংক্রান্ত জটিলতা। দীর্ঘদিন রেজিস্ট্রি ছাড়া সাদা কাগজ ও স্ট্যাম্পের মাধ্যমে বেচাকেনা করায় সৃষ্টি হয়েছে বিরোধ। জমির দখল কেন্দ্র করে গত রোববার দাসিয়ার ছড়ায় ঘটে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষও। জমির মূল দলিল ও রেকর্ড ভারতে থাকায় তা ফিরে পাওয়া নিয়েও রয়েছে সংশয়।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরের ভারতের সদ্য বিলুপ্ত ১১১টি ছিটমহলের মধ্যে কুড়িগ্রামের দাসিয়ার ছড়া সর্ববৃহৎ। এখানে জমি রয়েছে ১ হাজার ৯শ’ ৪৩ একর। সদ্য জনগণনায় লোকসংখ্যা ৭ হাজার ৬৯। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ছিটবাসী ভারতের দিনহাটায় জমি রেজিস্ট্রির মাধ্যমে কেনাবেচা করতেন। কিন্তু সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া ও বিএসএফ’র বাধার কারণে দীর্ঘ ১০ বছর ছিটমহল থেকে মূল ভূখণ্ড ভারতে যেতে পারেনি তারা। ফলে বন্ধ থাকে জমি রেজিস্ট্রির কাজ। এরপর তারা বিকল্প পদ্ধতি স্ট্যাম্প ও মুচলেকার মাধ্যমে কিছু জমি স্থানীয়ভাবে বেচাকেনা করে।

জানা গেছে, প্রভাবশালীরা স্ট্যাম্প ও মুচলেকার জমির পরিমাণ পরিবর্তন করে জমি বাড়িয়ে নিয়েছে। এতে দেখা দেয় বিরোধ। সদ্য বিলুপ্ত দাসিয়ারছড়া ছিটমহলের এসব জমি ক্রয় সূত্রে মালিকের দখলে থাকলেও অনেকে মূল কাগজ হাতে না থাকায় জমি বেহাতের আশংকা করছেন ।

তারা জানিয়েছেন, জমি দখলে থাকলেও চুরি হওয়া ও হারিয়ে যাওয়া মূল দলিল ও রেকর্ড ভারত থেকে সংগ্রহ করতে না পারায় পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জমি হারানোর ভয়ে রয়েছে। জমির দখল ও স্বত্ব নিয়ে গত রোববার দাসিয়ার ছড়ায় দুপক্ষের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়।

দাসিয়ার ছড়ার কালির হাটের সিরাজ জানান,ওবাইদুলের পিতা মৃত আব্দুল আউয়ালের নিকট থেকে ১৫ শতক জমি কিনে দীর্ঘদিন ভোগদখল করে আসছি। পরে সেই জমি নিজের দাবি করে  ওবাইদুল। বাধা দিতে গেলে তারা আমার এবং আমার ছেলেদের উপর হামলা চালায়।

বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটি, বাংলাদেশ অংশের সাধারণ সম্পাদক, গোলাম মোস্তফা জানান,সদ্য বিলুপ্ত ছিটমহলগুলোয় বিট্রিশ আমলের পর থেকে কোনও ভূমি জরিপ বা সেটেলমেন্ট না হওয়ায় জমির কিছু জটিলতা রয়ে গেছে। তবে আমরা বিশ্বাস, সরকারের নিকট যখন এই জমিগুলোর কাগজপত্র আসবে তখন প্রশাসন ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটি এবং এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করে। তাহলে জটিলতা তৈরি হবে না। ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতাসহ ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটি মিলে সমাধানের চেষ্টা করছে।

কুড়িগ্রাম অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, মো: আখতার হোসেন আজাদ জানান, আমাদের যে ছিটমহলগুলো ছিল, এগুলো ভারতের অর্ন্তভূক্ত ছিল। ফলে সিএস রেকর্ডগুলো তাদের হাতে ছিল। আগামী ১০ আগস্ট ভারতের কোচবিহারের ডিএম-এর সঙ্গে আমাদের ৪ জেলার জেলা প্রশাসকদের একটি বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা আছে। ঐ মিটিংয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরের সাবেক ছিটমহলের সিএস রেকর্ডগুলো ভারত আমাদের দিবে আর ভারতের অভ্যন্তরের সাবেক ছিটমহলগুলোর সিএস রেকর্ড তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

/এসএস/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।