বিকাল ০৪:৪২ ; মঙ্গলবার ;  ২৩ এপ্রিল, ২০১৯  

দলের নাম স্টুডিও ৫৮

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট।।  

সখি ভাবনা কাহারে বলে- এটা রবীন্দ্র সঙ্গীত আমরা সবাই জানি। আদতেই কি সবাই জানি? কিংবা এই মেঘলা দিনে একলা ঘরে থাকে না তো মন- গানটা কে গেয়েছিলেন কোনও ধারণা আছে কি? কিংবা মন আমার দেহ ঘড়ির মতো কালজয়ী গানটা এখন কি কেউ?  গানগুলো হালের তরুণ না শোনেননি বললেই চলে। কিন্তু যা ক্লাসিক তা শুনতেই হবে। নইলে বাংলা সঙ্গীতের অনবদ্য গানগুলো সম্পর্কে তরুণ প্রজন্ম জানবে কি করে? তাদের জানানোর পরম দায়িত্ব তুলে নিয়েছে সঙ্গীতসাধক দুই ভাই। একদম নতুন করে গানগুলো গেয়ে জানিয়েছেন ক্লাসিকের কদর কিংবা ঐতিহ্যের কদর একদম কমবে না। দুই ভাই আরাফাত মহসীন ও আরফাত কীর্তি নিজেদের নামের চেয়ে আরেকটু বেশি পরিচিত ব্যান্ড দল ও নিজেদের  স্টুডিও ‘স্টুডিও-৫৮’ এর নামে।  

যাত্রা শুরু

২০০৯ সালে দু ভাইয়ের হাত ধরে শুরু স্টুডিও-৫৮ যাত্রা। তবে সঙ্গীতকে ভালবেসে দীর্ঘস্থায়ী কিছু করার স্বপ্নটা ছোটবেলা থেকে। সে সূত্রে পরিবার থেকে পেয়েছেন পূর্ণ সমর্থন। এ বিষয়ে আরাফাত কীর্তি বলেন, ‘সঙ্গীতটা আমাদের ভেতরে আছে পারিবারিকভাবে। বাব-মার বাইরে নানা, মামা, খালা সবাই কমবেশি সরাসরি জড়িত ছিলেন সঙ্গীতের সঙ্গে। ফলে তাদের দেখে আমরাও ছোট বেলা থেকে আগ্রহী হয়ে উঠি সঙ্গীতের প্রতি।'

গান, জিঙ্গেল, লা প্রোগ্রাম

দুই ভাই একসঙ্গেই কাজ করছেন দীর্ঘদিন যাবত। মজার বিষয় হচ্ছে দুজনের বয়সের পার্থক্য ছয় বছরের। তবে কাজের ক্ষেত্রে কোনও দ্বিধা-দ্বন্দ্ব নেই। নিজেদের সুবিধার্থে ভাগ করে নিয়েছেন কাজ। মিক্স, মাস্টার ও টেকনিক্যাল সাইডগুলো দেখেন কীর্তি। মহসিন কম্পোজিশন করেন। সুরটা অবশ্য দুজন মিলে করেন। এভাবেই গড়ে উঠেছে 'স্টুডিও ৫৮'।

এখন পর্যন্ত প্রায় আড়াইশ’ বিজ্ঞাপনের জিঙ্গেল করেছেন তারা। এর মধ্যে বাংলালিংক, এয়ারটেল, রবি, প্রাণ, মোজো, বাটা, স্যামসং উল্লেখযোগ্য। প্রকাশ করেছেন তিনটি গানের অ্যালবাম। প্রথমটি ২০১১ সালে প্রকাশিত 'ভালোবাসি তাই'। এই অ্যালবামের 'জলস্বপ্ন' গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। দ্বিতীয়টি 'স্টুডিও ৫৮ অ্যান্ড সিঙ্গারস' (২০১২)। এ অ্যালবামের 'রাজকুমারী' গানটি শ্রোতারা খুব পছন্দ করেন। তৃতীয়টি গত বছরের অক্টোবরে অনলাইনে প্রকাশিত '#৩'। এতে কণ্ঠ দেন 'স্টুডিও ৫৮' ব্যান্ডের সদস্যরা। যাতে আরাফাত মহসিন (ভোকাল, গিটার) ও আরাফাত কীর্তির (গিটার, কিবোর্ড) পাশাপাশি রয়েছেন রাফি (বেজ) ও নিয়াজ (ড্রাম)।

 

মিউজিক নয় ঙ্গী

স্টুডিও ৫৮ এর কার্যক্রম শুধু গানকে ঘিরে নয়। তারা নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গির বিশালতা ছড়িয়ে দিয়েছেন সুরভিত্তিক পরিপার্শ্বে। যার মধ্যে গত বছর মোবাইল অপারেটর কোম্পানি এয়ারটেলের পৃষ্ঠপোষকতায় 'বাজ স্টুডিও' নামে পুরনো দিনের ১২টি গান নিয়ে একটি প্রজেক্ট করেন কীর্তি-মহসিন। সেটি প্রচার করে রেডিও স্বাধীন। এতো গেল এক কাহিনী।

তবে সব কিছুকে ছাপিয়ে 'স্টুডিও ৫৮' আকাশ ছোঁয়া জনপ্রিয়তা পেয়েছে বিভিন্ন ভালোবাসা দিবসে প্রকাশিত এয়ারটেলের পাঁচটি নাটকে গান করে। নাটকগুলো হলো 'ভালোবাসি তাই', 'ভালোবাসি তাই, ভালোবেসে যাই', 'অ্যাট এইটিন', 'ভালোবাসা ওয়ান ওয়ান' ও 'মাঙ্কি বিজনেস'। চলচ্চিত্রের গানের সঙ্গীত পরিচালনায়ও নাম লেখিয়েছেন তারা। 'কলকাতা কলিংয়ে’ অর্ণবের গাওয়া 'একটা একটা এলোমেলো পায়ে' গানটির সঙ্গীতায়োজন করেছেন কীর্তি ও মহসিন।

নিজেদের কথা

র্কীতি বলেন, “যা শুনতে মধুর, তাই সঙ্গীত বলে মানেন শিল্পীরা।আর সঙ্গীতের বিশেষ কোন ধারায় থাকলে, বিশালতায় হারিয়ে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে। এ কারণে সব ঘরানায় নিরীক্ষা করতে চান দুই ভাই। যাতে করে নতুনত্বের ধারা অব্যাহত থাকে আর শ্রোতারাও খুঁজে পায় নতুন সুর ছন্দের ভিন্নতা।”

তবে সঙ্গীতের নতুনত্ব সৃষ্টিতো আর মুখে বললেই হয়ে ওঠে না, সে কারণে দরকার বিষয়টিকে অনুধাবন করা। আর এ জন্য নিজেদের অনুভূতির পাশাপাশি দরকার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার। ছোটবেলা থেকে বাসায় থাকা বিভিন্ন মিউজিক্যাল ইনস্ট্রুমেন্ট শেখার পাশাপাশি নিয়েছেন বিদেশ থেকে উচ্চত্তর শিক্ষা। এর মধ্যে মহসিন বাসায় ওস্তাদের হাত ধরে নিয়েছেন দীঘদিন তবলার ওপর দীক্ষা। আর কীর্তি লন্ডনের মিডলসেক্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিয়েছেন অডিও ইন্জিনিয়ারিং এর ওপর উচ্চ শিক্ষা।

তবে বিদেশে শিক্ষা নিয়ে দেশের পুরোনো জনপ্রিয় গানগুলোতে ভিন্ন স্বাদে নতুন করে তুলে ধরা একটু ভিন্নধর্মী কাজ। তারা সেই কাজটিই সফলতার সঙ্গে করেছেন।  

প্রিয় কারা এমন কথা জানতে চাইলেই বললেন, দেশের সঙ্গীত শিল্পীদের মধ্যে অর্ণব, হাবীব, ফুয়াদ,বাপ্পা মজুমদারদের কাজ বেশি পছন্দ তাদের।

যে কথা যায় না বলা

নিজেদের কাজ নিয়ে কথা বলাটা অনেকটা নিজেদের ঢোল পেটানো বলে মনে করেন তারা। তাই বলে তো আর সুন্দর সৃষ্টি গুলো শ্রোতাদের কাছে না পৌঁছালে তার কোনও অর্থ থাকে না। তবে নিজেদের কাজের ধরণ নিয়ে বললেন ছোট্ট একটি কথা। তা হচ্ছে যেহেতু স্টুডিও-৫৮ লাইভ প্রোগ্রাম করে থাকে সে কারণে অ্যাকুইস্টিক ঘরানায় থাকার চেষ্টা করেন। তবে লাইভ করার ক্ষেত্রে নিজেদের ঘরানার মধ্যে বাছ-বিচার একটু কম করেন। আর এ কারণে যা লাইভ করেন সেটি রেকর্ড করেন পরে যা শ্রোতাদের কাছে পরিবেশন করা হয়।

কপিরাইটের বিষয়টি অনেকের কাছে এখনও অস্পষ্ট

বাংলাদেশে কপিরাইটের বিষয়টি এখনও সবার কাছে স্পষ্ট নয়। তবে স্টুডিও ৫৮ এর কাজগুলোর কপিরাইটের দেখভাল করছে কিনটিক মিউজিক। পুরো বিষয়টি আসলে নির্ভর করছে শ্রোতাদের ওপর। আর শিল্পীদের সৃষ্টির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে শ্রোতাদের প্রতি একটাই কথা- শিল্পীরা অনেক কষ্ট করে একটি মিউজিক বা গান তৈরি করেন। এর বিনিময়ে শ্রোতারা যদি শিল্পীদের পারিশ্রমিক নিশ্চিত করেন তাহলেই খুশি।

শ্রদ্ধা রাখুন প্রকৃত শিল্পীদের সৃষ্টিতে

এ বিষয়ে বলতে গিয়ে নিজেদের  একাত্ম দৃষ্টিভঙ্গির কথা জানালেন তারা। বললেন একটি সহজ ও সুন্দর কথায় বিশ্বাস রাখুন। সেটি হচ্ছে ভাল সঙ্গীত শুনুন, দেখবেন সবকিছু ভাল লাগবে।

/এআই/এফএএন/

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।