ভোর ০৬:০৪ ; শনিবার ;  ১৯ অক্টোবর, ২০১৯  

বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে কাঁকড়া ও কুচিয়া চাষ প্রকল্প

প্রকাশিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট।।

দেশে অপ্রচলিত পণ্য রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের লক্ষ্যে সরকার ‘বাংলাদেশের নির্বাচিত এলাকায় কাঁকড়া ও কুচিয়া চাষ এবং গবেষণা’ নামে একটি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহন করেছে।

 মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক সোমবার মৎস্য ভবনের সম্মেলনকক্ষে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ‘১৫ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ বিষয়টি জানান।

সমাপনী অনুষ্ঠানে সামুদ্রিক মৎস্য দপ্তরের পরিচালক নাসিরউদ্দিন হুমায়ুনের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিনা আফরোজা অতিরিক্ত সচিব আনিছুর রহমান বক্তৃতা করেন।

মৎস্যমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ আগ্রহ ও নির্দেশনায় দেশে অপ্রচলিত পণ্য কাঁকড়া ও কুচিয়া চাষ এবং এর উৎপাদন বৃদ্ধির মাধমে কাঁকড়া ও কুচিয়া রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের জন্য অতিসম্প্রতি ‘বাংলাদেশের নির্বাচিত এলাকায় কাঁকড়া ও কুচিয়া চাষ এবং গবেষণা’ শীর্ষক উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। এতে রফতানির ক্ষেত্রে একটি নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।”

তিনি বলেন, “অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিপুল জনগোষ্ঠীর পুষ্টি চাহিদা পূরণ, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও দারিদ্র্য বিমোচনকল্পে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে এবং মাছ চাষকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করাই জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদযাপনের মূল লক্ষ্য । জাতীয়ভাবে এ কর্মসূচি পালনের কারণে মৎস্য খাতের সাথে সংশ্লিষ্ঠ সকলে সুষ্ঠু উজ্জীবিত ও অনুপ্রাণিত হবে।”

তিনি আরও বলেন, “দেশের জনগোষ্ঠীর প্রায় ১১ শতাংশ এ সেক্টরের বিভিন্ন কার্যক্রমে নিয়োজিত থেকে জীবিকা নির্বাহ করে।”

মন্ত্রী বলেন, ”বর্তমান সরকারের সমন্বিত ও জন-বান্ধব বিবিধ কার্যক্রম গ্রহণের ফলে ইলিশ মাছ উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লক্ষ ৮৫ হাজার মেট্রিক টনে । দেশে উৎপাদিত মাছের ১১ শতাংশের অধিক আসে শুধু ইলিশ থেকে। বর্তমান সরকারের ৭ বছরে জাটকা আহরণকারী মৎস্যজীবী-জেলেদের রেকর্ড পরিমাণ ১ লক্ষ ৫৮ হাজার ৭৮১ মেট্রিক টন  খাদ্য সহায়তা প্রদান এবং ৫টি প্রজনন ক্ষেত্রকে ইলিশ অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে।

ছায়েদুল হক বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আগ্রহ ও উদ্যোগের ফলে জেলেদের নিবন্ধন ও পরিচয়পত্র প্রদানের লক্ষ্যে  সরকার মৎস্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে ৬৪ টি জেলার ৩৮৩ টি উপজেলায় প্রায় ১৪ লক্ষ জেলের নিবন্ধন, ১০ লক্ষ ৩০ হাজার ডাটাবেইজ প্রস্তুত এবং ৬ লক্ষ ২০ হাজার জেলের পরিচয়পত্র প্রস্তুত ও বিতরণ করেছে। এ বছরের মধ্যে ২০ লাখ জেলেকে পরিচয়পত্র প্রদান করা হবে  “

অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় মৎস্য মেলায় অংশ গ্রহনের জন্য ৬টি প্রতিষ্ঠানকে, শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগতায় ১২ শিশুকে এবং এবারের শ্লোগান লেখকসহ মোট ১৯ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার প্রদান করা হয়।

/এসআই/এফএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।