সকাল ১১:০৬ ; বুধবার ;  ১৩ নভেম্বর, ২০১৯  

মুদ্রানীতি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে পারবে না: ডিসিসিআই

প্রকাশিত:

বাংলা ট্র্রিবিউন রিপোর্ট।।

বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ঘোষিত মুদ্রানীতি বেসরকারিখাত বান্ধব নয় বলে জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) ।

রবিবার পাঠানো এক বিবৃতিতে ডিসিসিআই  জানায়, মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং ৭ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্টকরণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক গত ৩০ জুলাই ২০১৫-১৬ অর্থ বছরের প্রথমার্ধের মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে। সার্বিকভাবে অর্থ বছরের প্রথমার্ধে ঘোষিত মুদ্রানীতি বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ এবং দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকে তেমন আকৃষ্ট করতে পারবে না।

বিবৃতিতে ডিসিসিআই জানায়, ঢাকা চেম্বার মনে করে, ২০৩০ সালের মধ্যে জিডিপির প্রবৃদ্ধিকে দু্ই অঙ্কে উন্নীত করা এবং ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার জন্য ৮ শতাংশ হারে জিডিপির প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শিল্পায়ন ত্বরান্বিতকরণের পাশাপাশি আর্থিক ব্যবস্থায় আরও গতি সঞ্চার করতে হবে। এ জন্য সুদের হার কমানো এবং ব্যবসায় পরিচালন ব্যয় হ্রাসের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সদ্য সমাপ্ত অর্থ বছরে আমদানির হার ১২ শতাংশ। যেখানে রফতানির প্রবৃদ্ধি বেড়েছে প্রায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ হারে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্যমানের ক্রমাগত ওঠানামার ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বাড়তে পারে।

এ ক্ষেত্রে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি রফতানি আয় কমে যাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রস্তাবিত মুদ্রানীতিতে ব্যাংকিং খাতের শ্রেণীভুক্ত ও খেলাপিঋণ আদায় এবং তা সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা নেই বলে মন্তব্য করা হয়।

ঢাকা চেম্বারের বিবৃতি অনুসারে, বাংলাদেশের সরকারি ও বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের ঋণের সুদের হার আমাদের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি অন্যান্য শিল্পোদ্যোক্তাদের জন্য সহায়ক নয়। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংক বেসরকারি খাতে ১৫ শতাংশ ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। কিন্তু মুদ্রাস্ফীতির বিষয়টি অর্থনীতির অন্যান্য অনুষঙ্গের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও ঋণের সুদের উচ্চ হার, ব্যবসা পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের কারণে মুদ্রাস্ফীতিকে আরও প্রভাবিত করার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের অব্যবস্থাপনা ও সক্ষমতার অভাবে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাবৃন্দ বৈদেশিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে ঋণ গ্রহণে আগ্রহী হচ্ছে। যা আমাদের দেশীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতাকেই চিহ্নিত করে।

/এসআই/এফএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।