রাত ০৯:৫৭ ; শুক্রবার ;  ১৮ অক্টোবর, ২০১৯  

ছিটমহল বিনিময় কার্যকর হবে কাল : চলছে উৎসবের আমেজ

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

শুরু হয়েছে ক্ষণ গণনা। শুক্রবার ঘড়ির কাঁটায় রাত ১২টা পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হবে ছিটমহল বিনিময়। সে হিসেবে দীর্ঘ ৬৮ বছরের অবরুদ্ধ আর অমানবিক দুঃসহ জীবন থেকে মুক্তি পাবে দু’দেশের ১৬২টি ছিটমহলের অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ। তাদের জীবনযাত্রার পাশাপাশি বদলে যাবে বাংলাদেশ ও ভারতের মানচিত্র। ইতিহাসের পাতা ছাড়া বাস্তবে আর কোথাও থাকবে না ছিটমহল নামে কোন জনপদ।

১৯৭৪ সালের মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি এবং ২০১১ সালে শেখ হাসিনা-মনমোহনের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রকল্প অনুযায়ী আগামীকাল শুক্রবার রাত ১২টার পর থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের ১১১টি ছিটমহল বাংলাদেশের এবং ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থিত বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল ভারতের অন্তর্ভুক্ত হবে।

বহু প্রতীক্ষিত সেই দিনক্ষণের অপেক্ষায় ছিটমহলগুলোতে বিরাজ করছে এখন উৎসবের আমেজ। ঐতিহাসিক এই মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখতে চলছে নানা আয়োজনের প্রস্তুতি।

ছিটমহল বিনিময়ের ঐতিহাসিক দিন-ক্ষণকে স্মরণীয় করে রাখতে ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটি বাংলাদেশ ইউনিট বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। স্থায়ীভাবে ভারতীয় পতাকা নামিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হবে। এ মাহেন্দ্রক্ষণে ছিটবাসী মুসলমানরা ৬৮টি মোমবাতি আর হিন্দুরা ৬৮টি প্রদীপ জ্বালিয়ে ৬৮ বছরের অন্ধকার জীবনের অবসান ঘটাবেন। পোড়ানো হবে আতশবাজি, উড়ানো হবে ফানুস। এ উৎসব উপলক্ষে আগামীকাল দুপুর বিশেষ প্রার্থনার মধ্যদিয়ে ছিটমহলগুলোতে শুরু হবে বিনিময়ের আনুষ্ঠানিকতা। দিনভর চলবে নৌকা বাইচ, ঘোড়-দৌড়, লাঠি খেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ইতিমধ্যে ছিটমহলগুলোতে পৌঁছেছে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমকর্মী, আর্ন্তজাতিক সংস্থার প্রতিনিধি দলসহ রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের মানুষজন।

২০১৫ সালের জনগণনা হালনাগাদের পর বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অবস্থিত ১১১টি ছিটমহলের জনসংখ্যা ৪১ হাজার ৪৪৯ জন। এর মধ্যে ৯৭৯ জন ভারতের নাগরিকত্ব বহাল রেখে সে দেশে যাওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থিত ৫১টি ছিটমহলের জনসংখ্যা ১৪ হাজার ৮৫৪ জন।

/জেবি/টিএন/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।