রাত ০৫:২৯ ; শনিবার ;  ১৯ অক্টোবর, ২০১৯  

সাড়ে ৩৩ বিলিয়ন ডলারের রফতানির লক্ষ্যমাত্রা গতানুগতিক

প্রকাশিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট।।

সরকার ঘোষিত রফতানি লক্ষ্যমাত্রাকে গতানুগতিক বলে অভিহিত করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) । ঢাকা চেম্বারের মহাসচিব এ এইচ এম রেজাউল কবির স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার এ অভিহিত ব্যক্ত করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সংশোধিত বাণিজ্য চুক্তির ফলে ধারণা করা যায়, গত অর্থ বছরের (২০১৪-১৫) চেয়ে চলতি অর্থ বছরে (২০১৫-১৬) ভারতে বাংলাদেশের রফতানির প্রবৃদ্ধি উল্লেখ্যযোগ্য হারে বাড়বে। স্বাক্ষরিত চুক্তির আলোকে ভারতের বাজারে বাংলাদেশের রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ৫৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত অর্থ বছরের তুলনায় ৮ শতাংশ বেশি।

বিবৃতিতে বলা হয়, এরই মধ্যে ঢাকা চেম্বারের পক্ষ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ৩০তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশে পরিণত করার একটি রূপকল্প প্রকাশ করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন করতে রফতানিমূখী খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণ করা একান্ত অপরিহার্য।

ঢাকা চেম্বার মনে করে, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ৩০তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশে পরিণত করতে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের রফতানির লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার নির্ধারণ হওয়া উচিত।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২৬ জুলাই রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ২০১৫-১৬ অর্থ বছরের জন্য সাড়ে ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছে। ২০১৫-১৬ অর্থ বছরের নতুন এ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের ক্ষেত্রে ইপিবি গত অর্থ বছরের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবেলার ধীরগতি, গ্রিসের অর্থনৈতিক সঙ্কট পরিস্থিতির পাশাপাশি ইউরো এবং রুবলের দরপতন, ডলারের বিপরীতে টাকার শক্তিশালী অবস্থান এবং ২০১৫ সালের প্রথমার্ধে রাজনৈতিক অস্থিরতা প্রভৃতি বিষয় বিবেচনায় এনেছে।

ঢাকা চেম্বার মনে করে, ২০১৫-১৬ অর্থ বছরের জন্য নির্ধারিত রফতানির লক্ষ্যমাত্রা গতানুগতিক এবং তুলনামূলকভাবে কম প্রাক্কলন করা হয়েছে। বিজিএমইএর ২০২১ সালের মধ্যে ৫০ বিলিয়ন রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রার বিষয়টিও ঘোষিত রফতানির লক্ষ্যমাত্রায় প্রতিফলিত হয়নি। এ ছাড়া, ২০১৪-১৫ অর্থ বছরের মার্চ পর্যন্ত রাশিয়ায় প্রায় ২১৭ দশমিক ৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ বাংলাদেশি পণ্য রফতানি হয়েছে। যদিও পণ্য রফতানির গন্তব্যস্থল হিসেবে রাশিয়া তেমন কোনো বড় রফতানি বাজার নয়। রফতানির প্রবৃদ্ধি কমার ক্ষেত্রে রাশিয়ান রুবল এবং ইউরোর মূল্যমান কমে যাওয়ার বিষয়টি ততটা গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলার কথা নয়। কারণ আন্তর্জাতিকভাবে পণ্যের মূল্য পরিশোধের ক্ষেত্রে রাশিয়ান রুবল তেমন ভূমিকা রাখে না।

ঢাকা চেম্বার মনে করে, বাংলাদেশী পণ্যের জন্য চিলি, আর্জেন্টিনা, জাপান, থাইল্যান্ড, কানাডা এবং নিউজিল্যান্ড প্রভৃতি দেশে শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকারের সুবিধা পেয়েছে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর ক্ষেত্রে জিএসপি সুবিধা, জাপানের বাজারে বাংলাদেশী পণ্য প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রে রুলস অব অরিজিনের সহজীকরণ এবং অফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও এশিয়ার অন্য দেশগুলোতে নতুন নতুন বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে রফতানির এ লক্ষ্যমাত্রা আরও উল্লেযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব।

/এসআই/এফএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।