সকাল ১০:২৪ ; সোমবার ;  ২২ অক্টোবর, ২০১৮  

সাশ্রয়ী পারিবারিক বাজেট

প্রকাশিত:

আনিকা তাবাস্‌সুম বিথী॥

নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে প্রতিনিয়ত। খরচের ঊর্ধ্বগতির এ যুগে যথেষ্ট বুঝেশুনে চলতে হয় সীমিত আয়ের পরিবারগুলোকে। প্রতিদিনের হাজারটা খরচের কোনটা রেখে কোনটা কমাবেন? মৌলিক চাহিদাগুলো ঠিকঠাক পূরণ করতেই হিমশিম খেতে হয়। তারপর নানাবিধ সামাজিক অনুষ্ঠান কিংবা উৎসব-পার্বণের অতিরিক্ত খরচ তো রয়েছেই! আবার সবকিছু সামলে ভবিষ্যত জীবনে আর্থিক নিরাপত্তা গড়ে তোলার জন্যও চাই কিছু সঞ্চয়। সঠিক পরিকল্পনার সাথে বাজেট করতে পারলে প্রয়োজনীয় সকল খরচের পরও নির্দ্বিধায় কাটিয়ে দিতে পারবেন মাসটা।      

সংসারের বাজেট হতে হবে চাহিদার গুরুত্বকে প্রাধান্য দিয়ে। মাসের শুরুতে পুরো মাসের আয় ব্যয়ের হিসাব করে নেওয়া উচিত। কোন জিনিসটি আপনার ও আপনার পরিবারের প্রয়োজন আর কোনটি না হলেও চলবে সেটা ঠিক করে নিন আগেই। বাজেট তৈরি করার পর অপ্রয়োজনীয় কোনো খরচ আছে কিনা সেটা ভালো করে লক্ষ্য করুন। যদি থাকে তাহলে বাদ দিন। মাসের বাজার শুরুতেই করে নিতে পারেন। একসাথে বাজার করলে সাশ্রয় হবে খানিকটা। ডিপার্টমেন্টাল স্টোর থেকে বেশি করে মাছ মাংস কিনে নিতে পারেন। সম্ভব হলে চাল, ডাল, দুধ, আটা এগুলোও পুরো মাসের জন্য কিনে ফেলুন। খরচের ব্যাপারে যথাসম্ভব কৌশলী হওয়া উচিত। কারণ মিতব্যয়ী না হলে সাশ্রয় বা সঞ্চয় কোনটাই সম্ভব নয়। কেনাকাটা করতে গিয়ে বেহিসেবি হবেন না কখনও। সবচেয়ে ভালো হয় বাজার করতে যাওয়ার সময় প্রয়োজনের অতিরিক্ত টাকা সঙ্গে না নিলে। সুপার শপগুলোতে কিছু কেনার আগে দাম দেখে নিন। দৈনন্দিন খরচের লাগামটাও টেনে ধরুন যতোটা সম্ভব। প্রতিদিনের খাবার তালিকায় যে মাছ মাংস থাকতে হবে এমন নয়। বরং মাছ অথবা মাংস যেকোনো একটির সঙ্গে শাক-সবজি ও ডাল রাখুন। এতে প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদা পূরণ হওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত খরচের হাত থেকেও বাঁচা যাবে। ঘন ঘন বাইরে খাবার অভ্যাস থাকলে সেটা ত্যাগ করুন। নানা ধরণের সামাজিক অনুষ্ঠানে প্রায়ই যেতে হয় আমাদের। এ ধরণের কোনও অনুষ্ঠান থাকলে বাজেটের শুরুতেই উপহার খাতে বাড়তি খরচ যোগ করে বাকি খাতগুলোর সাথে সমন্বয় করে নিন। বাড়িতে কোন অনুষ্ঠান থাকলে সেটাও বাজেটে উল্লেখ রাখা চাই। বাসায় অসুস্থ ব্যক্তি কিংবা অতিথি থাকলে বাজেটে তারতম্য ঘটতে পারে। সম্ভব হলে তাদের জন্য আলাদা খাত করুন। 

দৈনন্দিন বিদ্যুৎ ও গ্যাস ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়া জরুরি। অতিরিক্ত ফোন ব্যবহার থেকেও বিরত থাকুন। খুব দূরের পথ না হলে হেঁটেই যাওয়া আসা করতে পারেন। এতে যাতায়াত খরচ তো বাঁচবেই, পাশাপাশি শরীরও ভালো থাকবে। বাসে বা রিকশায় যাতায়াতের সুবিধার জন্য সবসময় খুচরা টাকা সঙ্গে রাখুন। সৃজনশীল কাজে পটু হলে বিভিন্ন উপলক্ষ্যে আত্মীয় স্বজনকে দিতে পারেন হাতে তৈরি করা নান্দনিক উপহার। এতে খরচ কমবে। শিশুরা কিছু চাইলেই কিনে দিবেন না। তাদেরকে ছোটবেলা থেকেই শিক্ষা দিন অতিরিক্ত খরচের কুফল সম্পর্কে।

অর্থ সাশ্রয় করার পাশাপাশি পরিবারের প্রতিটি সদস্যের সঞ্চয়ী মনোভাব গড়ে তোলা উচিত। বেতনের কিছু অংশ প্রতি মাসে ব্যাংকে রাখার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে দু একটি খরচ কমিয়েও ভবিষ্যতের জন্য এই সঞ্চয়টা ধরে রাখুন। ব্যাংকগুলোতে সঞ্চয়ের জন্য নানা স্কিম রয়েছে। এ ধরনের স্বল্পমেয়াদি বা দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় প্রকল্পের আওতায় সেভিংস করা যেতে পারে। শিশুদের সঞ্চয়ে উৎসাহী করার জন্য বাহারি ডিজাইনের মাটির বা প্লাস্টিকের ব্যাংক কিনে দিতে পারেন।

কাছে কোথাও যেতে হলে না হয় হেঁটেই গেলেন। তাতে খুচরা খরচটাও বাঁচানো গেল। 

টিপস:

  • প্রয়োজনীয় সকল খরচ করার পর শৌখিন দু একটি জিনিস কেনার জন্য কিছু খরচ রাখতে পারেন। তবে শৌখিন জিনিসগুলো একবারে না কিনে প্রতি মাসে অল্প অল্প করে কিনলেই ভালো করবেন।
     
  • উৎসব উপলক্ষ্যে পাওয়া বোনাসের টাকার একটি অংশ সঞ্চয় করার চেষ্টা করুন।
     
  • মনে রাখবেন, চাহিদার কোনো শেষ নেই। তাই আয় বুঝে সঠিক ব্যয় করাই শ্রেয়।

 

ছবি: সাজ্জাদ হোসেন 


/এনএ/ আরএফ 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।