রাত ০৫:৪৭ ; বুধবার ;  ২৩ অক্টোবর, ২০১৯  

মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ চতুর্থ

প্রকাশিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট।।

মিঠা পানির মৎস্য উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ- বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক।

মঙ্গলবার জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০১৫ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ”বাংলাদেশে বর্তমানে বছরে ৩৫ লাখ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদন হয়। ১৬ কোটি মানুষের চাহিদা ৪২ লাখ টন মাছ। শিগগিরই আমরা মাছের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবো।”

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে গত এক যুগ ধরেই বাংলাদেশ শীর্ষ পাঁচে অবস্থান করছে। বর্তমানে মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে আছে চীন, ভারত ও মিয়ানমার।

২০০৮-০৯ অর্থ বছরে যেখানে দেশে মিঠা পানির মাছের উৎপাদন ছিল ২৭ লাখ মেট্রিক টন, সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগে তা বেড়ে ৩৫ লাখ মেট্রিক টনে এসে দাঁড়িয়েছে।

মঙ্গলবার শুরু হওয়া এই মৎস্য সপ্তাহের কর্মসূচি চলবে ৩ অগাস্ট পর্যন্ত। এবার এ সপ্তাহের মূল প্রতিপাদ্য ঠিক করা হয়েছে ‘সাগর নদী সকল জলে, মাছ চাষে সোনা ফলে।’

লিখিত বক্তব্যে মন্ত্রী ছায়েদুল হক জানান, ২০১৫ সালের মধ্যে সরকার বিশ লাখ জেলেকে পরিচয়পত্র দেবে।

সাগরে প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণ হারানো ২৪৭ জন জেলের পরিবারকে গত তিন বছরে এক কোটি ১৯ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

মন্ত্রী জানান, দেশে মৎস্য খাতের মোট আয়ের প্রায় ১১ শতাংশ আসে ইলিশ থেকে।

ইলিশের ‘স্থায়ীত্বশীল’ উৎপাদনের লক্ষ্যে ‘ইলিশ উন্নয়ন ট্রাস্ট ফান্ড’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “প্রজনন মৌসুমে ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা ১১ দিন থেকে বাড়িয়ে ১৫ দিন করা হয়েছে।”

মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে সকালে মৎস্য ভবন থেকে একটি শোভাযাত্রা বের হয়। অন্যদের মধ্যে সচিব সেলিনা আফরোজা এবং মন্ত্রণালয় ও মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এতে অংশ নেন।

মৎস্য সপ্তাহ পালন উপলক্ষে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও জাতীয় পত্রিকায় ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। 

কাল ২৯ জুলাই বুধবার সকালে রাজধানীর ফার্মগেটস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট কমপ্লেক্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে এ সপ্তাহের শুভ উদ্বোধন করবেন।

একই অনুষ্ঠানে ২০১৫ সালের জাতীয় মৎস্য পুরস্কারের জন্য নির্ধারিত ১২ ক্যাটাগরির মধ্যে আটটিতে তিনিটি স্বর্ণপদক ও ১৫টি রৌপ্যপদক প্রদানেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদক প্রাপ্তদের হাতে পদক তুলে দেবেন। পরে তিনি গণভবনের পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করবেন।

কর্মসূচির তৃতীয় দিন ৩০ জুলাই বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বঙ্গভবনের পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করবেন। সন্ধ্যায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট কমপ্লেক্সে প্রাঙ্গণে পাঁচ দিনব্যাপী মৎস্য মেলার উদ্বোধন করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

কর্মসূচির চতুর্থদিন  ৩১ জুলাই শুক্রবার জাতীয় সংসদ ভবনের লেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করবেন জাতীয় সংসদেও স্পীকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী।

কর্মসূচির পঞ্চমদিন ১ আগষ্ট শনিবার রাজধানীর হাইকোর্টের সামনে শিশু একাডেমিতে বিষয়ভিত্তিক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বিভিন্ন স্থানে আলেঅচনাসভা, ভিডিও প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ময়মনসিংহে ২দিনব্যাপী মৎস্য প্রযুক্তি মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন ধর্মমন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান।

মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষ্যে নেওয়া কর্মসূচির ৬ষ্ঠ দিন ২ আগষ্ট রবিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে ’কোড অব কন্ডাক্টস ফর বাংলাদেশ শ্রিম্পস ইন্ডাষ্ট্রি’ শীর্ষক সেমিনার।

কর্মসূচির সপ্তম ও শেষদিন ৩ আগষ্ট সোমবার মৎস্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে মৎস্য সপ্তাহের সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।      

/এসআই/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।