রাত ০৯:০৫ ; মঙ্গলবার ;  ১৬ জুলাই, ২০১৯  

জনতার ‘ম্যাঙ্গো স্কোয়াড’

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

এহতেশাম ইমাম ॥

কিছুদিন আগে একটি অনলাইন পোর্টালের খবরে দেখতে পাই প্রবীণ অভিনেতা আবুল হায়াৎ ও এটিএম শামসুজ্জামানসহ পাঁচজন অভিনেতা বৃদ্ধাশ্রমে। একই ধরনের আরও কিছু সংবাদ শিরোনাম ছিল যেমন,  অভিনেতা মীর সাব্বির বাটপার,স্বাগতা কারাগারে, বাঁধনের সংসারে অশান্তি, ফাঁস হয়ে গেল মীমের আপন যমজ বোনের চেহারা। এসব শিরোনাম পড়ার পর আপনার মনে মধ্যে যেসব সম্ভাবনা উকিঁ দিচ্ছে তার বিস্তারিত পড়ার পর দেখা যাবে বিষয়টি ভিন্ন।

পরবর্তী সেগমেন্টে যে বিষয়ে আমার বলতে যাচ্ছি তাতে থাকছে-কোন জেলার মেয়েরা দেখতে কেমন, যে পাঁচ কারণে মেয়েরা দস্যু ছেলেদের বেশি পছন্দ করে, নারীদের ১১টি  গোপন ইচ্ছা, স্বামীদের কি ভাবে মানাবেন, কেন ভাগ ছেলেরা প্রেমিকা পায়না।  এ ধরনের হেডিংয়ের সংবাদ নিয়মিত আপনার পাতায় ঘুরে বেড়ায়।  নিউজ পোর্টালের হিট বাড়ানোর যে সংস্কৃতি শুরু হয়েছে তাকে আমরা অসঙ্গতিই বলতে পারি। কিন্তু এই অসঙ্গতি রোধে আমাদের তেমন কোনও চোখে পড়বার মতো উদ্যোগ নাই। তাই আমরা হতাশ হয়েই দায়িত্ব শেষ করছি।

আমরা থেমে থাকলেও অন্যরা থেমে নেই।  সমাজের অসঙ্গতির এই অংশগুলো চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়ার কাজটি স্বেচ্ছায় করে যাচ্ছে সচেতন একদল তরুণ। যাদের আরেকটি পরিচয় ‘ইউটিউবার’। বর্তমানে দেশে ইউটিউবারের সংখ্যা বেশি নয়। আর তাদের মধ্যে যে চার-পাঁচটি গ্রুপ কাজের জন্য সবার কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে তাদের একটি হচ্ছে পুরোপুরি 'ম্যাঙ্গো স্কোয়াড’। তাদের অনুসারীর সংখ্যাও নেহাত কম নয় তাদের, সম্প্রতি যা পৌঁছেছে তিরিশ হাজারের কাছাকাছি।

পথচলা...

ম্যাঙ্গ স্কোয়াডের পথ চলার শুরু কেবলই একটি স্পষ্ট দায়িত্ববোধ থেকে। সেটি হচ্ছে সামাজিক বিভিন্ন অসঙ্গতি সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরা। কারণ হিসেবে ম্যাঙ্গো স্কোয়াডের প্রতিষ্ঠাতা শামিম হাসান সরকার বলেন,'২০১৪ সালে মালয়েশিয়ায় পড়ালেখা করতে যেয়ে বুঝলাম বাংলাদেশে আমাদের একটি বড় সমস্যা হচ্ছে আমাদের ব্যবহারে আদব-কায়দার অভা্ব। আমাদের আন্তরিকতার অভাব না থাকলেও  সামাজিক অনেক বিষয়েও আমরা অসচেতন।  আর এ কারণেই ভাবা কীভাবে সাধারণ মানুষকে এমন স্পর্শকাতর বিষয়ে স্বাভাবিকভাবেই সচেতন করে তোলা যায়। আর ভাবনা থেকেই ম্যাঙ্গো স্কোয়াডের পথ চলার শুরু।'

নিজেদের অবস্থান আরেকটু ব্যাখ্যা ম্যাঙ্গো স্কোয়াডের এই স্কোয়াড লিডার উদাহরণ টানেন বেশ কিছু বাস্তব পরিস্থিতির। চলার পথে কারো সঙ্গে ধাক্কা লাগলে কি করা উচিত সেটা থেকে রা্ষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনাও এর অংশ। আর এগুলো হর-হামেশা আমাদের সামনে ঘটতে থাকলেও আমরা বেশিরভাগ সময় এসব বিষয়ে ভাবলেশহীন থাকি। এসব ক্ষেত্রেই সবাইকে সচেতন করতেই শিক্ষামূলক বিনোদনকে মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন শামীম।  

 

ইউটিউবে ভিডিওগ্রাফি

ম্যাঙ্গো স্কোয়াডের প্রথম কাজ ছিল 'ই-স্মার্টনেস' নামের একটি শর্ট ফিল্ম তৈরি। এ ধরনের আরও অনেক কাজ করার লক্ষ্যে তিনি তৈরি করেছেন একটি টিম। বিষয় নির্বাচন, গবেণষণা, চিত্রধারণ,শব্দ গ্রহণ থেকে শুরু করে এডিটিং পর্যন্ত কাজগুলো করা হয় পুরো টিমওয়ার্কের মাধ্যমে। '

পুরোপুরিই মানুষের উৎকর্ষ সাধনে জন্য নিজেদের সময় ব্যয় করে তৈরি হয় এই ভিডিওগুলো। যা পুরোপুরি আর্থিকভাবে অলাভজনক এবং সেবামূলক একটি কার্যক্রম বলেও উল্লেখ করেন শামীম।

এই টিমে স্ত্রী ফারনাজ হক সরকার, এম এইচ এম মুবাশ্বির, তামিম মৃধা, অমিত বড়ুয়া,নাফিজ সেলিম, রাফায়েত রাকিব। এই পুরো দলটিই তৈরি করে মজার মজার সব ভিডিও। আর এর সবগুলো ভিডিও একই ব্যানারে খুঁজে পেতে ক্লিক করতে পারেন

https://www.youtube.com/channel/UCZ2MIoWsOc-wZ1EqguR284Q  ।

এই প্রতিটি ভিডিওতে থাকে কয়েকটি চরিত্র । যার কোনটি ব্যাঙ্গাত্মক বা কোনটি আদর্শমূলক। কিন্তু প্রতিটি ভিডিওর মূল কথাই হচ্ছে –ভালো করো, ভালো শোনো, ভাল চিন্তা করো। আর সেটি শুরু হক নিজের থেকে।

 

ম্যাঙ্গো ম্যান থেকে ম্যাঙ্গো স্কোয়াড

শামীম সরকার আম খেতে ভালবাসেন বিষয়টি ঠিক এমন নয়। ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজে পড়ালেখার সময় থেকে পড়ালেখার বাইরের বিষয়গুলোতে আগ্রহ একটু বেশি ছিল তার। মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির ছাত্র ছিলেন তিনি। এমআইএসটির থিয়েটার বিভাগের পথ চলা শুরুও এই তরুণের হাত ধরে।

এছাড়া করেছেন, ডিবেট, আবৃতি, উপস্থাপনা।  এছাড়া ড্রামার হিসেবে সরাসরি যুক্ত আছেন ‘বৃত্তাধীন’ ব্যান্ডদলের। তবে এতে সমাজসেবা করেতো আর সংসার চলে না। তাই এমআইএসটি পর ইউনিভার্সিটি টেকনোলজি মালয়েশিয়া থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এ নিয়েছেন উচ্চতর ডিগ্রি। বর্তমানে কাজ করছেন একটি বহুজাতিক কোম্পানির প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর হিসেবে।

শুধু ইউটিউবের মধ্যে নেই ‘ম্যাঙ্গো স্কোয়াডের’ কার্যক্রম। বর্তমানে ইন্টারন্টভিত্তিক কয়েকটি চ্যানেলের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি নিয়ে সচেতনতামূলক ভিডিও তৈরি করছে ম্যাঙ্গো স্কোয়াড। আর লক্ষ্য একটাই, তরুণ প্রজন্ম থেকে শুরু থেকে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষেরা ব্যক্তি পর্যায় থেকে সচেতন হবেন। আর এই ধারাবাহিকতায় আসছে তাদের নতুন টেলিফিল্ম 'প্রবলেমটা কী’। যাতে উঠে আসতে পারে আপনার সেই অসঙ্গতিটি যা কখনও হয়তো খেয়াল করেননি আপনি।

 

/এফএএন/

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।