ভোর ০৬:০০ ; শনিবার ;  ১৯ অক্টোবর, ২০১৯  

চলতি অর্থবছরে রফতানির লক্ষ্য ৩৩ বিলিয়ন ডলার

প্রকাশিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট॥

চলতি ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে দেশের রফতানি লক্ষ্যমাত্রা ৩৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং রফতানি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৩৮ ভাগ নির্ধারণ করা হয়েছে। সদ্য সমাপ্ত ২০১৪-১৫ অর্থবছর রফতানি পরিমান পূর্বের বছরের তুলনার বেশি হলেও আন্তর্জাতিক মূদ্রার মূল্য কমে যাবার কারণে আমাদের আয়ের পরিমান করেছে। বাংলাদেশ গত বছর ১ কোটি ইউনিট পণ্য রফতানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে ১ দশমিক ৫৭ কোটি ইউনিট পণ্য রফতানি করেছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

রবিবার ঢাকায় রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সম্মেলন কক্ষে চলতি ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরের রফতানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন সংক্রান্ত এক সভা শেষে সাংবাদিকদের মন্ত্রী একথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “গত অর্থ বছরে দেশে হরতাল ও অবরোধের নামে ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপের পরও রফতানিকারকগণ রফতানি পরিমান বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন। দেশে স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ থাকলে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে মূদ্রার মূল্য কমে না গেলে, গত অর্থ বছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি মূল্যের পণ্য রফতানি করতো বাংলাদেশ।”

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “গত অর্থ বছরে ৩৩ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রফতানি লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেক প্রতিকুলতার পরও প্রায় ৩১ দশমিক ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রফতানি করা সম্ভব হয়েছে। আর্থিক মূল্যে আমাদেরর রফতানি পরিমান কম মনে হলেও পণ্যের রফতানি পরিমান বেড়েছে। আন্তর্জাতির মুদ্রার মূল্য বিশভাগ কমায় আমাদের আয় কিছু কম হয়েছে।”

তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের তৈরী পণ্যের চাহিদা বেড়েই চলছে। আন্তর্জাতিক মূদ্রার মান বাড়লে এ বছর আমাদের রফতানি লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। সরকার গৃহীত পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা মোতাবেক রফতানি পণ্যের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি রফতানি বাজার সম্প্রসারণে অনেক পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে। বাংলাদেশ এর সুফল পেতে শুরু করেছে।

তিনি আরও বলেন, “সরকার প্রচলিত পণ্যের পাশাপাশি দেশের ঔষধ শিল্প, জাহাজ নির্মাণ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং ফার্নিচার রফতানিতে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদানের পরিকল্পনা নিয়েছে। এ সকল খাতে রফতানি বেড়েই চলছে।”

তোফায়েল আহমেদ বলেন, “চীনের সহায়তায় মুন্সীগঞ্জ জেলার বাউশিয়ায় তৈরি পোশাক শিল্পাঞ্চলটি প্রায় ৪৯২ একর জমির উপর নির্মাণ করা হচ্ছে। নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। শিল্পাঞ্চলটিতে তিন থেকে পাঁচশত তৈরী পোশাক কারখানা থাকবে। কাজ করার সুযোগ পাবেন আড়াই লাখ শ্রমিক। এখান থেকে ৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের তৈরী পোশাক রফতানি করা সম্ভব হবে।”

ব্যবসায়ীদের চাহিদা মোতাবেক গ্যাস ও বিদ্যুতের সংযোগ প্রদানের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ৫০ বছর পূর্তিতে আগামী ২০২১ সালে দেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে সরকার পরিকল্পিত ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশ ইতিমধ্যে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এ গতিকে দেশে এগোলে আগামী ২০২১ সালের আগেই মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে।”

এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, অতিরিক্ত সচিব এটিএম মুর্তজা রেজা চৌধুরী, অতিরিক্ত সচিব শওকত আলী ওয়ারেছি, ডব্লিউটিওর মহাপরিচালক অমিতাভ চক্রবর্তী, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস-চেয়ারম্যান সুভাশীষ বসু, বাংলাদেশ ব্যাংক, কৃষি মন্ত্রণালয়, এনবিআর, অর্থ মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, এফবিসিসিআই, ডিসিসিআই-এর প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

/এসআই/এফএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।