রাত ০৯:২২ ; বৃহস্পতিবার ;  ২০ জুন, ২০১৯  

অনুবাদক আর তথৈবচ নন

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

অনুবাদের কল্যাণে লেখক বিশ্বব্যাপী সুনাম ও অর্থ অর্জন করলেও অনুবাদক থেকে গেছেন আড়ালেই। সামান্য পারিশ্রমিক নিয়ে সন্তষ্ট থাকতে হয়েছে তাকে। তবে এবার অনুবাদকের জন্য সুখবর আছে। ম্যান বুকার পুরস্কার জানিয়েছে এখন থেকে পুরস্কারের অর্থ লেখক ও অনুবাদকের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া হবে। 

হারুকি মুরাকামির লেখা ইংরেজিতে অনুবাদ করেন ফিলিপ গ্যাব্রিয়েল। গ্যাব্রিয়েল মুরাকামি ছাড়াও অনুবাদ করেছেন কেনজাবুরো ওয়ে এবং সেনি কুরোইয়ের সাহিত্যও। হারুকি মুরাকামির সর্বশেষ উপন্যাস “কালারলেস সুকুরু তাজাকি অ্যান্ড হিজ ইয়ারস অব পিলগ্রিমেইজ” ইংরেজি অনুবাদে বের হলে পাঠকরা ওয়াটারস্টোনসের পিকাডিলি শাখার সামনে রাতভর অপেক্ষা করেছিলেন সকালবেলা বইটি হাতে পাওয়ার জন্য। তারা সবাই মুরাকামিকে চেনেন। ফিলিপ গ্যাব্রিয়েলের নাম তাদের কাছে তেমন প্রচার পায় না। অনুবাদকদের এমন অবহেলিত অবস্থার কিছুটা অবসান হতে যাচ্ছে এবার ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে। এ পুরস্কারের অর্থ এককভাবে এবারই সর্বশেষ দেয়া হলো হাঙ্গেরির কথাসাহিত্যিক লাজলো ক্রাজনাহোরকাইকে। এরপর থেকে মোট ৫২ হাজার পাউন্ডের অর্ধেক পাবেন লেখক এবং অর্ধেক পাবেন অনুবাদক। বিদেশি কথাসাহিত্যিকদের লেখা অনুবাদ ব্রিটেনে প্রকাশ করা হলে এ নিয়মই চলবে আগামিতে। আয়োজকরা মনে করেন এ ব্যবস্থার মাধ্যমে পাঠকরা অনুবাদকদের মেধা ও শ্রমের স্বীকৃতি দিতে পারবেন।

ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনালের কর্মকর্তা ফিয়ামেত্তা রোকো বলেন, লেখকের নিজের ভাষায় লেখা কোনো বই অন্য ভাষায় আনার ক্ষেত্রে যে কাজটি হয় সেটি হলো লেখক এবং অনুবাদকের অংশিদারত্বের কাজ। কোনো লেখক নিজের পুরস্কার প্রাপ্তির কৃতিত্ব শুধু নিজের কাছেই নেন— তেমন ঘটনা আমি জীবনে কোনো দিন শুনিনি কিংবা দেখিনি। তাঁরাও চান তাঁদের অনুবাদকদের কৃতিত্ব দেয়া হোক। প্রয়াত উইলিয়াম ওয়েভারের প্রতি এমবার্তো একো বরাবরই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তাঁর লেখা ইতালিয় থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন ওয়েভার। হারুকি মুরাকামির সঙ্গে গ্যাব্রিয়েলের সামনাসামনি একবারই দেখা হয়েছে। তবে তাঁদের মধ্যে ই-মেইলে নিয়মিত যোগাযোগ হয়। 

 

                                                                               সোনিয়া ডেলনের প্রদর্শনী
সর্বজন শ্রদ্ধেয় প্যারিসীয় নিরীক্ষাধর্মী শিল্পীদের অন্যতম হলেন সানিয়া ডেলনে। এমনকি ইউরোপের মধ্যেও নারী শিল্পীদেরও অন্যতম তিনি। তাঁর সৃষ্টিকর্মে উপস্থাপন করেন প্রযুক্তি, শহুরে জীবন এবং চলমান আধুনিক জীবন। রঙের ব্যবহারের বৈচিত্র অনুসন্ধানে তাঁর নতুনত্ব লক্ষ করার মতো। তাঁর কাজের সহযোগী শিল্পী অবশ্য তাঁর স্বামী রবার্ট ডেলনে। বিভিন্ন মাধ্যমে তিনি কাজ করেছেন। যুক্তরাজ্যে এটাই তাঁর প্রথম সৃষ্টিকর্মের স্মৃতিচারণার প্রয়াস। এখানে তাঁর কাজের ভিন্ন ভিন্ন মাধ্যমের প্রমাণ রয়েছে। তাঁর ষাট বছরের বহুবর্ণিল ক্যারিয়ারে দেখা যায় কাপড়, টেক্সটাইল এবং পেইটিংয়ের ভরাট সমারোহ। একক চিত্রকর্মের সঙ্গে শিল্পের অন্যান্য মাধ্যমের শিল্পীদের সঙ্গেও তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা আছে। সে প্রমাণও মেলে তাঁর এই প্রদর্শনীতে। সোনিয়া ডেলনের জন্ম ১৮৮৫ সালে। তিনি মৃত্যুবরণ করেন ১৯৭৯ সালে। জন্ম হয়েছিল রাশিয়াতে। তবে কর্মজীবনের বেশিরভাগটাই কাটিয়েছেন প্যারিসে। উল্লেখ্য, ১৫ এপ্রিলে শুরু হওয়া এ প্রদর্শনী চলবে আগস্টের ৯ তারিখ পর্যন্ত। 

 

আজীবন সম্মাননা পেলেন শার্লি হিউজ
বুক ট্রাস্টের আজীবন সম্মাননাপ্রাপ্ত প্রথম ব্যক্তিত্ব হলেন সাতাশি বছর বয়সী শার্লি হিউজ। লেখক এবং প্রচ্ছদশিল্পী শার্লি হিউজকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে শিশুসাহিত্যে তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ। তাঁর সৃষ্টির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো “ডগার” এবং “আলফি”। ছয় থেকে বারো জুলাই পর্যন্ত চলেছে দেশব্যাপী শিশুদের বই উৎসব। এ উৎসবকে উপলক্ষ করেই তাঁকে এ সম্মানে ভূষিত করা হলো। তাঁকে পুরস্কার প্রদান উপলক্ষে বুক ট্রাস্টের প্রধান নির্বাহী ডায়না জেরাল্ড বলেন, কয়েক প্রজন্মের একটা দীর্ঘ সময় ধরে তিনি শিশুসাহিত্যে বিশেষ অবদান রেখে চলেছেন। এখনও অব্যাহত রয়েছে তাঁর সৃষ্টি প্রক্রিয়া। 
তাঁর রচনার চরিত্ররা গড়ে উঠেছে কয়েক প্রজন্মের মানুষের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে। তাঁর নতুন নতুন সৃষ্টির মধ্যে উঠে আসে বৈচিত্র। সে কারণে শিশুদের মধ্যে ব্যাপক পঠন অভ্যাস গড়ে তুলতে বিরাট ভূমিকা রেখেছে তাঁর রচনা। কারো কারো মতে, জাতীয় সম্পদ বলতে যা বোঝায় তার সবচেয়ে উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো শার্লি হিউজের শিশুসাহিত্য, বিশেষ করে শিশুদের জন্য রচিত কথাসাহিত্য। নিজের রচনা সম্পর্কে তিনি বলেন, শিশুরা নিজেদের প্রতিচ্ছবি দেখতে পেলে খুশি হয়। এমন অনেক কিছুই আছে যেগুলো বড়দের কাছে স্বাভাবিক, সাধারণ। কিন্তু ওদের কাছে নতুন কিংবা চিন্তার খোরাক যোগায়; সেগুলোই আমি তুলে আনার চেষ্টা করি। 
এযাবৎ তাঁর রচনার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পঞ্চাশের ওপরে এবং প্রচ্ছদ এঁকেছেন দুশোরও বেশি বইয়ের। উল্লেখ্য, তাঁর প্রথম বই “লুসি অ্যান্ড টম অ্যাট দ্য সি সাইড”-এর পঞ্চান্নতম বার্ষিকী পালিত হচ্ছে এ বছর। 

 

ইন্টারনেট অবলম্বনে দুলাল আল মনসুর
 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।