দুপুর ০২:০০ ; মঙ্গলবার ;  ১৭ জুলাই, ২০১৮  

চিয়ারলিডার থেকে হলিউডের ড্রিমগার্ল

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বিনোদন ডেস্ক।।

ছোটবেলা থেকেই চিয়ারলিডিং আর মডেলিংয়ের প্রতি ঝোঁক ছিল শিশুটির। কিছুদিন এ পেশায় নিজেকে ব্যস্ত রাখলেও মাত্র ১৪ বছর বয়সে ঘুরে যায় তার জীবনের মোড়। সময়টা ২০০৫ সাল। সপরিবারে গিয়েছিলেন ম্যানহাটন সফরে। সেখানেই এক চিত্রগ্রাহকের নজরে পড়েন অচেনা এই কিশোরী। পরে ওই ফটোগ্রাফারের মাধ্যমে খবর পেয়ে একজন তার মাকে অনুরোধ করেন মেয়েকে অভিনয়ের সুযোগ দিতে। সেই থেকেই শুরু। এরপর আর পেছন ফিরতে হয়নি তাকে। এখন পর্যন্ত অভিনয় করেছেন দেড় ডজনেরও বেশি চলচ্চিত্রে।

অন্তরঙ্গ উষ্ণতায় এ পর্যন্ত অস্কারের লাল গালিচা তাকে টেনে নিয়েছে তিনবার। প্রথমবার অস্কার জিতেন মাত্র ২০ বছর বয়সে। ফেসবুক পেজে লাইক সংখ্যা এক কোটির উপরে। আর এ মুহূর্তে তাকে মনে করা হয় হলিউডের সবচেয়ে সফল অভিনেত্রী। ২০১২ সালে ‘আস্কম্যন ডট কম’ নামের একটি ম্যাগাজিনে বিশ্বের সবচেয়ে কাঙ্খিত নারী নির্বাচিত হন তিনি।

বলছিলাম ‘দ্য হাঙ্গার গেমস’ সিরিজখ্যাত জেনিফার লরেন্সের কথা। গত ২১ নভেম্বর মুক্তি পায় হাঙ্গার গেমস সিরিজের চতুর্থ ছবি ‘দ্য হাঙ্গার গেমস: মকিংজে-পার্ট ওয়ান’। মুভিটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে লরেন্সের প্রাণবন্ত অভিনয় সবার নজর কাড়ে। অফুরন্ত মনোবল নিয়ে আর প্রাণপণ লড়াই করে পেটা ও পানেম জাতিকে রক্ষা করেন অস্কারজয়ী এ অভিনেত্রী। ২০১৪ সালে হলিউডের সবচেয়ে বেশি আয় করা চলচ্চিত্রের রেকর্ড করে নেয় মুভিটি। আগামী ২০ নভেম্বর মুক্তি পেতে যাওয়া এ সিরিজের সর্বশেষ ছবি ‘মকিংজে-পার্ট টু’তেও দেখা যাবে তাকে। সায়েন্সফিকশন ও অ্যাডভেঞ্চারধর্মী এ সিরিজের সবগুলো সিক্যুয়ালেই প্রধান চরিত্র কেটনিস এভারডিনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন এ তারকা।

সম্প্রতি জেমস মেকভির সঙ্গে জুটিবদ্ধ হয়ে অভিনয় করছেন ‘এক্স মিন-অ্যাপোসালিপসি’ নামের সিক্যুয়াল মুভিতে। ব্রায়ান সিঙ্গার পরিচালিত এ সিরিজের প্রথম ছবিতেই বেশ খোলামেলা অভিনয় করেছেন লরেন্স। এতে প্রথমবারের মতো একটি স্নানের দৃশ্যে পুরোপুরি নগ্ন হয়ে ক্যামেরার সামনে আসেন তিনি। লরেন্সের ভাষায়, ‘ছবিতে আমাকে অ্যাকশন দৃশ্যে যেমন দেখা যাবে, তেমনি সুপারহট ও রোমান্টিক জেনিফারকেও আবিষ্কার করতে পারবেন দর্শক।’

জেনিফার লরেন্সের জন্ম ১৯৯০ সালের ১৫ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যের লুইসভিল এলাকায়। অভিনয়ের সুবাদে পরে তারা সপরিবারে লস অ্যাঞ্জেলসে চলে যান।

অভিনয়ে তার বিচরণ মূলত ২০০৬ সাল থেকে। ২০০৮ সালে ‘দ্য বার্নিং প্লেইন’ এবং ২০১০ সালে ‘উইন্টার্স বোন’ নামের দুইটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। এই দুই চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি সেরা অভিনেত্রী ক্যাটাগরিতে অস্কার লাভ করেন। ২০১৩ সালে কমেডি ড্রামা ‘অ্যামেরিকান হাসেল’-এ অভিনয়ের জন্য লরেন্স গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার, বাফটা অ্যাওয়ার্ড এবং তৃতীয়বারের মতো অস্কার জয় করেন।

স্বর্ণকেশী লরেন্সের উচ্চতা ৫ ফুট ৯ নয় ইঞ্চি। ওজন ৬৩ কেজি। বাবা গ্যারি লরেন্স একজন ব্যবসায়ী। মা ক্যারেন লরেন্স। তিন ভাইবোনের মধ্যে জেনিফার সবার ছোট। বড় দুই ভাই বেন এবং ব্লেইন।

২০১১ সালে পিপল ম্যাগাজিনের বিশ্বের সেরা সুন্দরীর খেতাব জিতেন লরেন্স। ঠাঁই পান ম্যাক্সিম ম্যাগাজিনের বিশ্ব সেরা ১০০ হট নারীর তালিকায়।

অভিনয় জীবনে বেশ কয়েকজন তারকার সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন জেনিফার লরেন্স। যদিও এর কোনোটাই স্থায়ী হয়নি। ২০০৮-২০০৯ সালে গ্রাহাম প্যাট্রিক মার্টিন, ২০১০-২০১৪ সালের জুলাই পর্যন্ত নিকোলাস হল্টের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল। নিকোলাসের সঙ্গে একত্রে বসবাসের জন্য ইংল্যান্ডে একটি বাড়ি কেনার কথাও ছিল তাদের। অবশ্য ২০১৪ সালের জুলাইয়ে তাদের মধ্যে চূড়ান্ত বিচ্ছেদ ঘটে।

সর্বশেষ ২০১৪ সালে কয়েক মাসের জন্য সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন নিজের থেকে ১৩ বছরের বড় ব্রিটিশ কণ্ঠশিল্পী ক্রিস মার্টিনের সঙ্গে।

একনজরে জেনিফার লরেন্সঃ

জন্ম : ১৫ আগস্ট, ১৯৯০

জন্মস্থান : যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যের লুইসভিল এলাকা

পছন্দের টিভি অনুষ্ঠান : গসিপ গার্ল (২০০১), বোনস (২০০৫),  দ্য সিম্পসন্স (১৯৮৯), ফ্যামিলি গাই (১৯৯৯)

প্রিয় মুভি : ব্রেকফাস্ট এট টিফানি’স (১৯৬১), দ্য সাউন্ড অব মিউজিক (১৯৬৫), উই নিড টু টক অ্যাবাউট কেভিন (২০১১)

পছন্দের ব্যান্ড : জ্যাক বাগ, বিটলস, দ্য স্পাইস গার্লস, দ্য ব্ল্যাক কিইজ, কুইন

প্রিয় গান : অ্যানাদার ওয়ান বিটস দ্য ডাস্ট (কুইন)

প্রিয় স্থান : নিউইয়র্ক

প্রিয় রং : নীল, সোনালী

অভিনয়ে অনুপ্রেরণা : মেরিল স্ট্রিপ, ম্যারিয়ন কোটিলার্ড, কেট ব্লানচেট এবং লাউরা লিনে

অভিনয়ের সিদ্ধান্ত : ১৪ বছর বয়সে

পোষা বিড়াল : শ্যাডো

গ্ল্যামার : ২০১২ সালে ‘ম্যাক্সিমস হট ১০০ উইম্যান’ তালিকায় ষষ্ঠ

সোশ্যাল মিডিয়া : টুইটারে নেই। ফেসবুক পেজে লাইক সংখ্যা এক কোটির বেশি

/এআরসি/এমএম/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।