রাত ১১:০০ ; রবিবার ;  ২০ অক্টোবর, ২০১৯  

ম্যাচিং পোশাকে ঈদ

এবার ঈদের ট্রেন্ড যা ছিল

প্রকাশিত:

রুম্পা সৈয়দা ফারজানা জামান॥

প্রচলনটা বেশ পুরানো। উৎসব বা পার্বণে, বন্ধুদের গায়ে থাকতো একই রকমের পোশাক। অনেকটা ব্যান্ড দলের মত। এক মত, এক আদর্শ, এক পোশাক। তারুণ্যের “গ্যাং” সংস্কৃতির কারণেই হয়তো বেশি জনপ্রিয় হয় এক পোশাকে উৎসব পালন। এমনকি কোথাও ঘুরতে গেলেও এক রকমের পোশাক থাকাটা প্রচলিত রীতি ছিল। যার কিছুটা এখনও আছে। ধীরে ধীরে দেশে কর্পোরেট কালচার জনপ্রিয় হওয়ার সুবাদে দাফতরিক কাজে, ভ্রমণে বা বার্ষিক সম্মেলনে এক ধরনের পোশাক পরা এখন ভিন্ন ধারার সংস্কৃতি।

এসব ছাপিয়ে কয়েক বছর ধরে যা চোখে পড়ছে তা হলো পরিবারের সদস্যদের একই ধরনের পোশাক পরার ট্রেন্ড। এবার ঈদেও এর ব্যাতিক্রম হয়নি।

নাবিয়া আর তার স্কুলের বন্ধুরা অনেক আগে থেকে কোনও না কোনও উৎসবে এক রকমের পোশাক পরতেন। তখন মূলত বাংলা বছরের প্রথম দিনটা তারা পালন করতেন এভাবে। তাও সেই বছর দশেক আগের কথা। তখন “স্কুলের ইউনিফর্ম” বলে অনেকে মজা করলেও বন্ধুরা বেশ উপভোগ করতেন। সেজন্যই এখন নতুন করে সবাই মিলে এক রকমের পোশাকে উৎসব পালন দেখতে বেশ মজা পাচ্ছেন নাবিয়া। ভাবছেন আবার সামনের কোনও একটি উৎসবে বন্ধুরা মিলে পরবেন একই রকমের শাড়ি।

এদিকে বছর তিনেক ধরে হাসিব হাসান চৌধুরী এবং তার বাবা ওয়াকেফ হোসেন চৌধুরী যেকোনও উৎসবে এক ধরনের পাঞ্জাবী পরে আসছেন। এবার শিশুসন্তান ওয়াকেফ হাসান চৌধুরীও যুক্ত হয়েছেন এক ধরনের পাঞ্জাবী পরার উৎসবে।

হাসিব হাসানের মতো এবার অনেক নতুন বাবা-মা তাদের সন্তানকে দিয়েছেন এক ধরনের পোশাক। যার ব্যাতিক্রম ঘটেনি অভিনেতা মডেল আলীফ চৌধুরীর ক্ষেত্রে। বাংলা ট্রিবিউন লাইফস্টাইল ই-ঈদ ম্যাগাজিনকে তিনি আগেই বলেছিলেন এবার তারা এক রকমের পোশাক পরবেন। বাবা আর আট মাসের ছেলে আরীব সে কথা রেখেছেন ঠিকঠাক মতো।

আলীফ চৌধুরী এবং আরীব

এক রকমের কাপড় দিয়ে বাবা- মা এবং সন্তানের পোশাক তৈরিতে নতুন স্টাইলের সংযোজন করেছেন অভিনেত্রী সোহানা সাবা এবং পরিচালক মুরাদ পারভেজ। ঈদের আগে পহেলা বৈশাখেও সোহানা সাবা পরিবারকে দেখা গেছে এক রকমের পোশাকে।

নতুন স্টাইলে পরিবারের পোশাক 

একদম এক রকমের পোশাকে ঈদের দিনে সামাজিক মাধ্যমের নজর কেড়েছেন সদ্য ভূমিষ্ট সন্তানসহ মডেল শুভ্র এবং তার স্ত্রী। শুভ্র এবং তার স্ত্রী কিন্তু বিয়ের পর থেকেই যেকোনও উৎসবে চেষ্টা করেন এক রকমের পোশাক পরার।

একধরনের পোশাক পরা তাদের অন্যতম পারিবারিক স্টাইল 

পরিবারের অভিন্ন পোশাকের বিষয়টাই মজার। এমনটাই বললেন চরকার অন্যতম উদ্যোক্তা এবং ফ্যাশন ডিজাইনার সায়লা সুলতানা মিলি। চরকাও পরিবারের জন্য পোশাক বানিয়ে থাকে। তবে সংখ্যায় থাকে কম। ক্রেতারা অর্ডার করলে অর্ডারের ভিত্তিতে পারিবারিক পোশাক বানিয়ে দেয় চরকা।

একরকমের পাঞ্জাবীতে পুষ্টিবিদ সুস্মিতার পরিবার

ক্রেতার জন্য বানানোর পাশাপাশি মিলি নিজের পরিবারের জন্যও বানিয়ে থাকেন এক রকমের পোশাক। এবারও দুই ছেলেসহ স্বামী-স্ত্রী ঈদ পালন করেছেন এক রঙে।

মিলির পরিবার

কাপড়ে না মিললেও অন্তত রঙে মিল রাখার চেষ্টাও দেখা গেছে এবার ঈদে। প্রবাসী ফারহানা আলীমের স্বামী এবং সন্তানের জন্য এক রকমের পাঞ্জাবী উপহার পাওয়ার পর নিজেও খুঁজে এক রঙের পোশাক বের করেন ফারহানা। বললেন, এখন ঈদ ঈদ লাগছে। বেসরকারী প্রতিষ্ঠান কর্মরত ফিদা মেহরানও একই ভাবে ঈদ পালন করলেন। আবার স্বামী জোবায়েদ আহসান এবং ছেলে স্পর্শকে এক রকমের পোশাক পরিয়ে নিজের ঈদ রঙিন করেন শাকিলা ইসলাম।

ফারহানা আলীম, কাজী মঈন এবং ইনেশ 
এক রঙে ফিদা মেহরান পরিবার
শাকিলা ইসলামের ছেলে স্পর্শ এবং স্বামী জোবায়েদ আহসান

এবার এক রকমের পোশাক বানিয়েছেন অনলাইন বুটিক উদ্যোক্তা দিশা। তিনি জানান, গেল বছর এক ধরনের পোশাক বানানোর অর্ডার আসলেও এবছর এসেছে অনেক বেশি। এবার শুধু বাবা- মা- সন্তান নয়, দাদা-নাতি, ফুপু- ভাস্তি, বিভিন্ন সম্পর্কের মেলবন্ধনে পোশাকের অর্ডার এসেছে তার কাছে। মূলত ফ্যাশন হাউজগুলোতে পারিবারিক পোশাক সেট না থাকার কারণে বা না পাওয়ার কারণে অনলাইনে এই ধরনের পোশাক অর্ডারের চাহিদা বাড়ে। দিশা আরও বলেন, নতুন বাবা মায়ের সংখ্যা বেশি ছিল তার পোশাক ক্রেতার তালিকায়।

বাজার ঘুরে ঈদে চাহিদা অনুযায়ী ফ্যাশন হাউজগুলোতে পারিবারিক পোশাক সেট না পাওয়া গেলেও বিভিন্ন দিবসে কিন্তু বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজ ঠিকই পরিবারের জন্য পোশাক কালেকশন আনছে। অঞ্জনস, বিবিয়ানা, রং বা দেশালে পাওয়া যায় সব বয়সীর জন্য এক ধরনের জামা। নতুন ফ্যাশন হাউজ সেইলরেও এবার ছিল এক রকমের পোশাক বিভিন্ন বয়সীর জন্য। কাটে ছিল ভিন্নতা। ওদিকে আজিজ সুপার মার্কেট ঘুরলেই পরিবারের সবার জন্য একরকমের পোশাক কেনা যাবে অনায়াসে।

যেসব হাউজ বা ডিজাইনাররা পরিবারের জন্য কালেকশন নিয়ে কাজ করেননি ক্রেতার চাহিদার কথা মাথায় রেখে তারাও পরের কালেকশনে রাখতে পারেন এমন কালেকশন।

একদম ম্যাচিং পাঞ্জাবীকে ইফতেখার আজম শাফিন এবং তার ছেলে

যেহেতু এবার চলছে এক ধরনের পোশাক পরার ট্রেন্ড, তাই পরের উৎসবের জন্য এখন থেকেই ঢুঁ মারা যায় এসব ফ্যাশন হাউজগুলোতে। পাশাপাশি অনলাইনের ফ্যাশন হাউজ আর বুটিক তো আছেই। নিজেদের জন্য কাস্টমাইজড পোশাক বানাতে চাইলে অনলাইন শপ হতে পারে ভরসা। আর যদি যাচাই বাছাই করার ইচ্ছা থাকে সেক্ষেত্রে মার্কেট অভিযান ছাড়া উপায় নেই।

হাজার হোক উৎসব সবার, আনন্দ পরিবারের। তাই একটি দিনও যাতে বৃথা না যায় সেটা মাথায় রেখে আজ থেকেই চলুক পরের উৎসবের প্রস্তুতি। সবাই আনন্দ করুক এক পোশাকে - এক খুশিতে।

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।