রাত ১১:৩৮ ; বৃহস্পতিবার ;  ১৮ এপ্রিল, ২০১৯  

ভ্যাট না দিতে একাট্টা তরুণ শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট।।  

‘আমার বাবা এটিএম মেশিন না’ একটি ছাত্র হাতে তার হাতে ধরা প্লে-কার্ডটি নিয়ে বৃষ্টির মধ্যে দাড়িয়ে আছে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে। এ ছবির কোন রূপক বা ভাবানুবাদ নেই । আছে শুধু একটি স্পষ্ট আকুতি । পারবো না আর লাগামহীনভাবে বেড়ে যাওয়া টিউশন ফির সঙ্গে নতুন করে আরোপ করা ভ্যাটের ব্যয় টানতে।

চলতি অর্থ বাজেটে সরকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েগুলোর ওপর সরকার ১০ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করে। পরে সেটি কমিয়ে আনা হয় ৭.৫ শতাংশে। আর ফলস্বরূপ বেড়েছে মাত্রাতিরিক্ত টিউশন ফি। গত ১০ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মানভেদে টিউশন ফি বেড়েছে প্রায় ৪ থেকে ৭ গুণ পর্যন্ত। এবার আবার নতুন করে ভ্যাট আরোপ করাতে সেটা হয়ে গেল বোঝার উপরে শাঁকের আটি।
আর এবারের লড়াইটা এ ভ্যাটের বিরুদ্ধে। এইচএসসি পাস করার পর মাত্র ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পায়। বাকি ৭০ শতাংশের একটি বিশাল অংশ বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। একসময় কথিত ছিল সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স না পেয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে শিক্ষার্থীরা। কিন্তু সময় বদলেছে। এখন সামর্থবান যেকোনও পরিবার নির্ঝঞ্ঝাট রাজনীতিমুক্ত শিক্ষাঙ্গনের ভাবনা থেকেই সন্তানকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠান।

আর সেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের  শিক্ষার্থীদের ওপর এই আনাকাঙ্খিত আর্থিক  চাপ কমাতে মূলত একাট্টা হয়েছেন এক ঝাক তরুণ  শিক্ষার্থী।

 ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস এর গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্র মাহবুব মোরশেদ পড়ালেখার পাশাপাশি সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত।  তিনি বলেন, “আমরা অনেকটা মাঝখানে পড়ে আছি। আমরা না পারছি মূসক আরোপের প্রতিবাদে গার্মেন্টস শ্রমিকদের মত রাস্তা অবরোধ করতে না পারছি  সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের মতো ক্লাস বর্জন করতে। আপনি খেয়াল করলে দেখতে পাবেন উচ্চবিত্তের লোকেরা এখন তাদের ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া করাতে বিদেশে পাঠাচ্ছে। আমার মত অনেকে আছে যারা ছোট খাটো চাকুরি করে শিক্ষার ভার নির্বাহ করছে এটা তাদের জন্য শিক্ষার ব্যয় নির্বাহ করা কষ্ট হয়ে যাবে। আবার দেখা যাচ্ছে প্রতি সেমিস্টারে ব্যায় বাড়াতে সময়মতো লেখাপড়াও শেষ ও করতে পারবে না। টাকার যোগাঢ়ে সেমিস্টারের পর সেমিস্টার গ্যাপও যাচ্ছে অনেকের। একসময় বোধহয় আমিও সেই হতাশদের তালিকায় নাম লেখাব। তাই এখনই কিছু একটা করা উচিত।” 

এ বিষয়ে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এর কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৫ম সেমিস্টারের ছাত্র মোঃ তাশফিকুল বারী বলেন , পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আসন সঙ্কট থেকে শুরু করে নানা জটিলতায় বাধ্য হয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া। এখানে প্রতি সেমিস্টারে বাড়ানো হচ্ছে টিউশন ফিশ, যা অনেকটা নিজেদের সামর্থের বাইরে চলে যাচ্ছে দিনকে দিন। অনেকেই মনে করে থাকেন যে যারা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে তাদের বাবা মা আর্থিকভাবে অনেক স্বচ্ছল । কিন্তু অনেকেই জানেন না যে বাংলাদেশের সাড়ে চার লাখ ছেলেমেয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে যাদের এক তৃতীয়াংশ হচ্ছে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের ।

এ বিষয়ে   ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ ( ইউল্যাব) এর প্রক্টোর মোঃ আসিউজ্জামান বলেন,  উচ্চতর শিক্ষায় কোন মূসক আরোপ করতে পারে না সরকার। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকার থেকে অনেক অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে কিন্তু সে তুলনায় তাদের টিউশন ফি অনেক কম। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হোক আর প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ই হোক উচ্চতর শিক্ষায় মূসক আরোপ করা এথিক্সের এর বাইরে।

আগামী ৩১  জুলাইয়ের মধ্যে আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা। এর জন্য চলবে লাগাতার আন্দোলন। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা সরকারের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে বিজয়ী হয়েই তারা ঘরে ফিরবে।

/এআই/এফএএন/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।