সকাল ১০:০২ ; শুক্রবার ;  ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮  

আকাশগঙ্গায় পৃথিবীর ‘বড়ভাই’!

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

মাহফুজ রাহমান।।

মহাকাশে পৃথিবীর মত গ্রহ কি আর নেই? মহাবিশ্বের আর কোথাও আছে কি প্রাণের অস্তিত্ব? দীর্ঘদিন ধরেই বিষয়টি বহুল চর্চিত বিজ্ঞানীমহলে। গত বুধবার নাসার এক বিজ্ঞপ্তি সে আলোচনাকে আরও উস্কে দেয়। নাসার ওয়েবসাইটে জানানো হয় বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের নিয়ে বৈঠকে বসবেন বিজ্ঞানীরা। বিভিন্ন সূত্রের খবরে আরেকটি পৃথিবীর সন্ধান দিতে যাচ্ছে নাসা!

অবশেষে জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটলো।

বৃহস্পতিবার এক ঘোষণায় পৃথিবীর মতো অথচ তারচেয়ে বড় ও পুরনো আরেক গ্রহের সন্ধান দিল নাসা। গ্রহটির নাম রাখা হয়েছে কেপলার-৪৫২বি। তবে গ্রহটিকে আর্থ টু পয়েন্ট জিরো বা ‘দ্বিতীয় পৃথিবী’ এবং পৃথিবীর ‘বড়ভাই’ বলে অভিহিত করেছে নাসা।

‘বড়ভাই’ সদৃশ গ্রহটি পৃথিবী থেকে ১৪০০ আলোকবর্ষ দূরে। কেপলার-৪৫২বি যে নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘোরে, তার সঙ্গে দূরত্ব পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্বের মতোই। তবে ব্যাসার্ধের হিসেবে কেপলার-৪৫২বি’র অক্ষপথ পৃথিবীর চেয়ে ৬০ শতাংশ বড়। এটির তাপমাত্রাও পৃথিবীর মতোই।

এমনকি এর চারপাশে আমাদের সৌরজগতের মতোই স্বতন্ত্র সৌরজগত থাকার কথা নিশ্চিত করেছে নাসা। আমাদের সৌরজগত মিল্কিওয়ে বা আকাশগঙ্গা ছায়াপথেই ওটার অবস্থান।

নতুন গ্রহটির সূর্য ও পৃথিবীর সূর্য একই গোত্রের। বিজ্ঞানীদের মতে ওই নক্ষত্রটির ভর সূর্যের চেয়ে ৪ শতাংশ বেশি। তেজেও সূর্যকে পেছনে ফেলে দিয়েছে ওটা। তার চারদিকে ঘুরতে কেপলার-৪৫২বি’র সময় লাগে ৩৮৫ দিন। তবে গ্রহটির ভর এখনও জানা যায়নি। তবে প্রচুর পানি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

কেপলার-৪৫২বি-এর বয়স ৬শ কোটি বছর। অর্থাৎ এটি আমাদের সূর্য ও সৌরজগতের চেয়ে প্রায় দেড়শ কোটি বছরের পুরনো। গ্রহটির বয়স পৃথিবীর চেয়ে বেশি হওয়ায় সেটির বর্তমান অবস্থা বিচার করে পৃথিবীর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কিছু ইঙ্গিত পাওয়ার আশায় রয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

কেপলার-এর গবেষণা বিজ্ঞানী জেফ কফলিন বলেন, গ্রহটিকে পৃথিবীর বড় ভাই বলা যেতে পারে। গ্রহটির আকার, তাপমাত্রা, বৈশিষ্ট্য পৃথিবীর মতোই পাথুরে, ভূপৃষ্ঠে পানি থাকার সম্ভাবনা-এসব কিছু গ্রহটিতে প্রাণের অস্তিত্বের আশা জাগিয়েছে।

বহির্বিশ্বে পৃথিবীসদৃশ গ্রহের সন্ধানে কেপলার স্পেস টেলিস্কোপ ব্যবহার করছে নাসা। টেলিস্কোপটি উৎক্ষেপণ করা হয় ২০০৯ সালে। বাসযোগ্য গ্রহ অনুসন্ধানের এই কর্মযজ্ঞের নাম ‘কেপলার মিশন’। পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যে যে দূরত্ব, মহাকাশে অন্য কোনও গ্রহের সঙ্গে তার ধারক-নক্ষত্রের দূরত্বও যদি তেমন হয়, তাহলে সেই গ্রহ বাসযোগ্য হতে পারে। জোতির্বিজ্ঞানীদের ভাষায় এই ব্যবধানের ভেতরের এলাকাকে বলা হয় ‘গোল্ডিলকস জোন’। এই জোনে বাসযোগ্য ‘পৃথিবী’ খুঁজে বের করার দায়িত্বই দেওয়া হয়েছে কেপলারকে।

ছয় বছর ধরে এমন নতুন গ্রহের খোঁজ করছে কেপলার। গোড়াতে প্রায় লাখ খানেক নক্ষত্রকে লক্ষ্যবস্তু ধরে কাজ শুরু করে সে। এখন পর্যন্ত ওই নক্ষত্রগুলোকে আবর্তনকারী তিন হাজার আট শরও বেশি গ্রহের সন্ধান দিয়েছে সে। এগুলোর কোনওটি খুব উত্তপ্ত বা শীতল নয়। তবে সেসব গ্রহের বেশির ভাগই গ্যাসীয়। সেগুলোর আয়তন বৃহস্পতির সমান বা বড়। মাত্র আটটি গ্রহের আয়তন পৃথিবীর আয়তনের দ্বিগুণের কিছু কম। এই আটটি গ্রহকে ধরেই এগোচ্ছে নাসা। আমাদের সৌরজগত যে ছায়াপথে, নতুন গ্রহের অবস্থান সেখানেই। অর্থাৎ আকাশগঙ্গাতেই মিলেছে নতুন পৃথিবী।

পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব এক হাজার ৪০০ আলোকবর্ষ। তবে এর মাধ্যাকর্ষণ ক্ষমতা দ্বিগুণ। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এর পরিবেশ এতই অনকূল যে সেখানে গাছপালা পাঠালে তা বেঁচে থাকতে পারবে। ধারণা করা হচ্ছে, এর উপরিভাগ পাথুরে এবং এতে পানি ও আকাশে মেঘ রয়েছে।

নতুন গ্রহ নিয়ে নাসার এতোটাই আশাবাদী যে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি বলেছে, ‘হয়তো এক যুগান্তকারী আবিষ্কারের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছি আমরা। কয়েক হাজার বছর ধরে আমরা ভিনগ্রহের প্রাণী সম্পর্কে বহু কল্পনা করেছি, রূপকথা শুনেছি। এখন সেসব স্বপ্নই সত্যি হতে চলেছে হয়তো!’

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।