রাত ১০:২২ ; শনিবার ;  ২০ এপ্রিল, ২০১৯  

প্রবাসে ঈদ : আছে বৈচিত্র্য

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

ফিদা হাসান, অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেন থেকে ॥

দেশের মতন মসজিদ থেকে ভেসে আসা আজান কিংবা মহল্লার মাইকে  ঈদের শুভেচ্ছা আর ঈদ জামাতের সময়সুচি শুনতে শুনতে সকালের ঘুমটা এখানে ভাঙ্গে না। বরং অস্ট্রেলিয়ায় আর দশটা সাধারণ দিনের মতো সকালটা শুরু হয়। অমুসলিম প্রধান এই দেশে ঈদের জন্য আলাদা কোন ছুটি নেই। তাই প্রতিদিনের মতই থাকে কর্মব্যস্ততা, প্রায় সকলেরই একই অবস্থা। তবে নামাজের জন্য কম বেশি সকলেই সময় বের করে নেয়।

অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড প্রদেশের রাজধানী ব্রিসবেনকে বলা হয় City of the new world. আধুনিক এই সুন্দর নগরীর মুসলিমরা প্রায় সকলেই ভিন দেশী , যার একটা বড় অংশ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরতো । ঈদের দিনটিকে কেন্দ্র করে নামাজ উপলক্ষ্যে মুসলিম কমিউনিটি একত্রিত হয়। ব্রিসবেনে সাধারণত দুটি ঈদের জামাত হয়, যার একটি হয় কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটির বাসকেটবল গ্রাউন্ডে। এখানে নামাজ পড়তে দুরদুরান্ত থেকে মহিলা-পুরুষ সকলেই আসে এবং পাশাপাশি আলাদা কাতারে নামাজ পড়ে। অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম আকর্ষণীয় বিষয়টি হচ্ছে ডাইভার্সিটি বা বৈচিত্রতা, নানা দেশের নানান গোত্রের মানুষের সমাগম হয়ে থাকে । ঈদের নামাজে সেই বৈচিত্র যেন আরো ফুটে উঠে বিভিন্ন দেশের নানা মানুষের পরিধেয় পোশাক-পরিচ্ছদে।

বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান সহ মধ্যপ্রাচ্য আর আফ্রিকার লোকজনের পোশাকে থাকে তাদের দেশীয় সংস্কৃতির ছোয়া যা দৃষ্টিনান্দনিক হয়ে ওঠে। তাছাড়া এখানে ঈদের নামাজের রীতিনীতিতেও আছে ভিন্নতা।নামাজের তাকবীরের সংখ্যা অনেক বেশি এবং তার সময়টাও ভিন্ন। তাই ঈদের নামাজ বাংলাদেশীদের কাছে ভিন্ন মাত্রা পেয়ে থাকে।

সংখ্যায় অল্প বাংলাদেশিদের বসবাস এই ব্রিসবেনে ঈদের আনন্দ ধর্মীয় পরিমন্ডল ছেড়ে সকল বাংলাদেশি কাছে আনন্দ উল্লাসের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। সাধারণত অফিস থেকে ফিরে রাতে স্বদেশিদের বাসায় ছুটি বাঙালী খানার স্বাদ নিতে।  তবে মুল ঈদ উদযাপিত হয় সপ্তাহ শেষে পা্ওয়া দু’দিনের ছুটিতে। উইকেন্ডে আমরা সাধারণত বাংলাদেশি কমিউনিটি একসঙ্গে হই এবং সম্ভব হলে কোথাও একসঙ্গে বেরিয়ে পড়ি ভিন্ন জায়গার সন্ধানে।

অস্ট্রেলিয়ায় সাধারণত সময়ের তারতম্যের কারনে বাংলাদেশ থেকে একদিন আগেই ঈদ উদযাপিত হয়। তাই এখানে বসবাসরত বাঙালীরা দেশে অবস্থানরত পরিবার পরিজনদের সঙ্গে দুই দিন ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করে, একদিন অস্ট্রেলিয়ার সময় অনুসারে আর অন্য দিন বাংলাদেশের সময় অনুসারে। এটা সত্যিকার অর্থেই একটা মজার বিষয়! তারপরেও ঈদের সময় দেশে রেডিও বা টেলিভিশন চ্যানেলে বেজে ওঠা নজরুলের সেই অমর সৃষ্টি , “ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ ”  যে আবেগ সৃষ্টি করে আর সেই থেকে যে আনন্দ তৈরি হয় তা থেকে হই বঞ্চিত,মনটা পড়ে থাকে স্বদেশে মাটিতে।

/এআই/

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।