রাত ১০:২২ ; শনিবার ;  ২০ এপ্রিল, ২০১৯  

ঈদের ছুটিতেও বেড়ানো শেষ হবে না মৌলভীবাজারে!

প্রকাশিত:

রজত কান্তি গোস্বামী, মৌলভীবাজার।।

প্রকৃতির রঙে রাঙানো, হাওড়, বন ও সমতল ভূমির দেশ মৌলভীবাজার। মৌলভীবাজারে রয়েছে, দেশের একমাত্র চিড়হরিৎ বন লাউয়াছড়া, দেশের সবচে বড় মিঠাপানির প্রাকৃতিক জলাধার হাকালুকি হাওরসহ তিনটি হাওর, দেশীয় মাছ ও পাখীর অভয়ারণ্য বাইক্কাবিল, রয়েছে তিনটি মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক জলপ্রপাত, মাধবপুরের প্রাকৃতিক লেইক, বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানের স্মৃতিস্তম্ভ, শতাধিক চা-বাগানের মনোমুগ্ধকর সবুজের হাতছানি, সাতটি রঙে রাঙানো নীলকণ্ঠের চা, ঐতিহ্যবাহী আগর-আতর শিল্প, মনিপুরী সম্পদায়ের হস্তশিল্প, আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত মনিপুরী সংস্কৃতি, উপজাতি খাসিয়া সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি ইত্যাদি অনেক কিছু।

যদি এখনো মৌলভীবাজার জেলা ভ্রমণ না করে থাকেন, তবে ঈদের এই ছুটিতে কিংবা অন্যকোনও ছুটিতে আপনার অবকাশ কাটিয়ে আসতে পারেন মৌলভীবাজার জেলায়। এজন্য কোনও প্যাকেজ ট্যুরের প্রয়োজন হবে না। ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও ব্যবস্থাপনায় মৌলভীবাজার ঘুরে বেড়াতে আপনার অসুবিধা হবার কথা নয়। মৌলভীবাজার জেলা শহর বা শ্রীমঙ্গল উপজেলা শহরে এসে কোনও রেস্টহাউস, হোটেল, রিসোর্টে উঠে পরিকল্পনা অনুযায়ী কোথায় যেতে চান, যে কাউকে জিজ্ঞাসা করলেই আপনাকে দিকনির্দেশনা দেবে। দর্শনীয় দু-একটি স্থান ছাড়া বাকি সবগুলোতেই আপনি সার্ভিস বাস বা সার্ভিস অটোরিকশা করে বেড়াতে পারবেন, যদিও এতে সময় কিছুটা বেশি লাগবে। তাছাড়া রিজার্ভ ট্যাক্সি, মাইক্রোবাস এমনকি সিএনজিচালিত অটোরিকশা যখন তখন পেয়ে যাবেন।

এখানে আনন্দভ্রমণের জন্য দর্শনীয় কয়েকটি জায়গা-

লাউয়াছড়া সংরক্ষিত বন:

লাউয়াছড়া জঙ্গলকে ১৯৯৬ সালের জুলাই মাসে জাতীয় উদ্যান বা ন্যাশনাল পার্কের মর্যদা দিয়ে সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। লাউয়াছড়া ন্যাশনাল পার্কের আয়তন ১২৫০ হেক্টর। এ বনে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির বানর, হনুমান, মায়া হরিণ, বিভিন্ন জাতের শাপ, ১৬৭ প্রজাতির পোকামাকড়, বনমোরগ ও সবুজ ঘুঘুসহ ২৪৭ প্রজাতির পাখী ও অন্যান্য প্রাণী। বিভিন্ন রকমের গাছ, লতা, গুল্ম ইত্যাদি। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এখানে পরিবেশ, উদ্ভিদ ও বন্যপ্রাণী নিয়ে গবেষণা করতে আসে। আপনি চাইলে বনের গভীরে বেড়াতে পারেন। লাউয়াছড়া ন্যাশনাল পার্কে প্রবেশমূল্য জনপ্রতি মাত্র ১০ টাকা। আপনি সেখানে ঘুরে দেখতে গাইডের সহায়তা নিতে পারেন পারিশ্রমিকের বিনিময়ে।

খাসিয়া পল্লী:

লাউয়াছড়া ন্যাশনাল পার্ক দেখা হয়ে গেলে চলে যান নিকটবর্তী খাসিয়া পল্লীতে। উপজাতি খাসিয়া সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হতে পারবেন। খাসিয়ারা অতিথি বৎসল, তাই তাদের সঙ্গে মিশতে আপনার সমস্যা হবে না। পান চাষ তাদের জীবিকা। তাই পানের বাগানও আপনি দেখতে পারেন। কমলগঞ্জ উপজেলা ছাড়াও জেলার বড়লেখা, জুড়ি, কুলাউড়া ও শ্রীমঙ্গল উপজেলায়ও খাসিয়ারা বসবাস করেন। মূলত টিলা ও পাহাড়ী ভূমিতে বসবাস করে তারা ।

মাধবপুর লেইক:

কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর লেইক একটি অন্যতম দর্শনীয় স্থান। সেখানে কয়েক ঘণ্টার জন্য গেলে আপনি সবুজ প্রকৃতির সঙ্গে মিশে যেতে পারবেন। এটা একটি পিকনিক স্পটও। মাধবপুর লেইকটি খুবই প্রাকৃতিক। শীতকালে অনেক পরিযায়ী পাখি সেখানে সমবেত হয়।

মনিপুরীপল্লী:

কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর, রানীর বাজার, তিলকপুরসহ পুরো এলাকাজুড়ে উপজাতি মনিপুরী সম্প্রদায়ের বসবাস। সেখানে গেলে আপনি পরিচিত হবেন মনিপুরীদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে। মনিপুরীদের তিনটি উপসম্প্রদায় রয়েছে। বিষ্ণুপুরিয়া, মৈতৈ ও পঙ্গাল। প্রথম দু’সম্প্রদায় হিন্দুধর্ম ও পঙ্গালরা ইসলাম ধর্ম অনুসরণ করে। তিন সম্প্রদায়ের মধ্যে চমৎকার ভাব রয়েছে,নেই হিংসা হানাহানি । মনিপুরী সম্প্রদায়ের তাঁতের হস্তশিল্প দেশ জুড়ে সুনাম কুড়িছে। মনিপুরিীদের তৈরি শাড়ি, গামছা, বিছানার চাদর ও কভার, বালিশের কভার, মেয়েদের জামার কাপড় ও ছেলেদের শার্টের কাপড় আপনার পছন্দ হবেই। মনিপুরীপল্লী বেড়ানোর সময় আপনার পছন্দের কাপড় কিনতে পারবেন। একটা কথা, বাংলাদেশে মনিপুরীরাই বোধহয় সবচাইতে উন্নত উপজাতি সম্প্রদায় যাদের মধ্যে শত শত উচ্চ শিক্ষিত পুরুষ-মহিলা রয়েছেন। তাদের মধ্যে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী, বিচারক, বিচারপতিসহ উচ্চপদের সরকারি কর্মকর্তা সব আছেন। স্থানীয় স্কুল-কলেজের অধিকাংশ শিক্ষার্থী এ সম্প্রদায়ের। পরীক্ষায় তাদের ফলাফল খুব ভালো।

হামহাম জলপ্রপাত:

আপনি যদি ৬/৭ কিলোমিটার পায়ে হাটতে পারেন, তাহলে ঘুরে আসুন হামহাম জলপ্রপাতটি। সেখানে না গেলে বুঝতেই পারবেন না আসলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিষয়টা কি। কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি সংরক্ষিত বনের গহীনে কুরমা বনবীটে জলপ্রপাতটির অবস্থান। সহজ চলাচলের কোনও রাস্তা নেই। কুরমা চা বাগান পর্যন্ত গাড়িতে করে যাবেন। এরপর উচু-নিচু পাহাড়ী সরুপথ বেয়ে হেটে চলা। দূর থেকেই শুনতে পাবেন পানির স্রোতধারার শব্দ। আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে রাজকান্দি বন যেমন তার প্রকৃত রূপ ফিরে পায়, ঠিক তেমনি হামহাম জলপ্রপাতও ফুলে ফেঁপে ফুসে উঠে। সবকিছু মিলিয়ে মনে হবে আপনি যেন কোনও অ্যাডভেঞ্চারে নেমেছেন। ফলে পথের ক্লান্তি থাকবে না দেহে।

মৌলভীবাজার জেলা ভ্রমণের শেষ অংশে আপনি জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার দর্শণীয় স্থানগুলোতে বেড়াতে পারেন।

চা-বাগান:

মৌলভীবাজার জেলার সবকটি উপজেলায় চা বাগান রয়েছে। তবে শ্রীমঙ্গলের চা বাগানগুলো যাতাযাত সুবিধার জন্য ঘুরতে আপনি স্বস্তি পাবেন। এই উপজেলা শহর ঘেষে রয়েছে একধিক চা বাগান।

বিটিআরআই ক্যাম্পাস:

বাংলাদেশের একমাত্র চা গবেষণা ইন্সটিটিউট বিটিআরআই। এর মনোমুগ্ধকর ক্যাম্পাস ঘুরতে আপনার ভালো লাগবে নিশ্চয়ই।

সিতেশ বাবুর চিড়িয়াখানা:

শ্রীমঙ্গল উপজেলা শহরেই সিতেশ বাবুর মিনি চিড়িয়াখানা। এখানে বাঘ, সিংহ না থাকলেও আছে ছোট প্রজাতির কিন্তু বিলুপ্ত প্রায় কিছু ভয়ংকর জীবজন্তু, সাপ, পাখি ইত্যাদি। আপনাকে প্রবেশমূল্য দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে হবে।

বাইক্কাবিল:

মৌলভীবাজার জেলা ভ্রমণে আসবেন, আর বাইক্কাবিল বেড়াতে যাবেন না, তা কি হয়। মৌলভীবাজার সদর ও শ্রীমঙ্গল উপজেলা নিয়ে বিস্তৃত হাইলহাওর। হাইলহাওরের শ্রীমঙ্গল উপজেলা অংশে হাওড়ের ১০০ হেক্টর জায়গাজুড়ে বাইক্কাবিলের অবস্থান। শ্রীমঙ্গল থেকে মৌলভীবাজার জেলাসদরে আসার পথে কালাপুর এলাকায় মূলসড়ক থেকে হাতের বাঁ দিকে বাইক্কাবিল যাবার পথটি নেমে গেছে। পথটি কাঁচা। বর্ষায় গাড়ি নিয়ে যেতে কষ্ট হতে পারে। বাংলাদেশ সরকার বাইক্কাবিলকে দেশীয় জাতের মাছ ও সব রকমের পাখির অভয়াশ্রম ঘোষণা করেছেন। এই বর্ষায় বিলটি পানিতে টইটুম্বুর। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং মার্কিন সাহায্য সংস্থা ইউএসএইড এর অধীনে বাইক্কাবিলে মাছ, পাখি ও জলজ উদ্ভিদ সংরক্ষণে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ চলছে। বাইক্কাবিলে আপনি নৌকা নিয়ে বেড়াতে পারবেন। এখন দেশীয় পাখি দেখতে পেলেও শীতে হাজার হাজার অতিথি পাখির সমাগম ঘটে। পর্যটকদের পাখি পর্যবেক্ষণের সুবিধার্থে সেখানে একটি ওয়াচটাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে।

মৌলভীবাজার শহরসহ পুরো উপজেলা একটি ঐতিহ্যবাহী এলাকা। সিলেটের হযরত শাহ্ জালাল (রা.) এর সঙ্গে আগত ৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম হযরত সৈয়দ শাহ্ মোস্তফা (রা.) এর পুণ্য স্মৃতিকে ধারণ করে আছে মৌলভীবাজার জেলাশহর। প্রাচীনশহর মৌলভীবাজারে পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল আজ থেকে ১২৭ বছর আগে। শহরটির উত্তরাঞ্চল সমতল আর দক্ষিণাঞ্চল মনোমুগ্ধকর টিলাভূমি। শহরের উত্তর পাশ ঘেষে বয়ে চলেছে ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ী মনু নদী। বহুভাষাবিদ সাহিত্যিক পণ্ডিত সৈয়দ মুজতবা আলী, লোকসংগীত রচয়িতা প্রয়াত রমনী মোহন (গোস্বামী), প্রয়াত কথাসাহিত্যিক মীর্জা আব্দুল হাই, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সাংবাদিক প্রয়াত সৈয়দ মোহাম্মদ আলী (এস এম আলী নামে প্রসিদ্ধ), বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী অর্থমন্ত্রী প্রয়াত এম সাইফুর রহমানসহ অসংখ্য জ্ঞানীগুণীর জন্মভূমি মৌলভীবাজার সদর উপজেলা।

হযরত সৈয়দ শাহ্ মোস্তফা (রা.) এর মাজার:

মৌলভীবাজার শহরের কেন্দ্রস্থলে হযরত সৈয়দ শাহ্ মোস্তফা (রা.) এর পবিত্র মাজার শরীফ অবস্থিত।

বার্ষিজোড়া ইকোপার্ক:

শহরের পূর্বপ্রান্ত ঘেঁষে বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক। সেখানে বেড়াতে গেলে আপনি প্রকৃতির সবুজে হারিয়ে যাবেন। সেইসঙ্গে পাখির কলকাকলীতেও হবেন মুগ্ধ।

মাতারকাপন মনু নদী ব্যারেজ:

শহরের পূর্ব-উত্তর কোনে মাতারকাপন এলাকায় মনু নদী সেচ প্রকল্পের ব্যারেজকে কেন্দ্র করে একটি আধুনিক পার্ক গড়ে উঠেছে। পার্ক লাগোয়া কৃত্রিম একটি লেকে আপনি স্পিডবোটে চড়ে এলাকাটি দেখতে পারেন। আছে একটি সুরম্য রিসোর্ট, যেখানে ইচ্ছা করলে রাত্রিযাপন ও করতে পারেন।

গয়গড় খোজার মসজিদ:

মৌলভীবাজার জেলা শহরতলীর গয়গড় গ্রামে অবস্থিত জেলার প্রাচীনতম মসজিদ হলো খোজার মসজিদ। প্রাচীন মুসলিম স্থাপত্যের অর্পূব নিদর্শন এই মসজিদ। অনেক কিংবদন্তি রয়েছে মসজিদটিকে ঘিরে।

মৌলভীবাজার জেলার বৃহত্তম উপজেলা কুলাউড়া। হাওড় আর চা বাগান ঘেরা কুলাউড়া অপনার ভ্রমণসূচির অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

হাকালুকি হাওড়:

২০ হাজার ৪শ’ হেক্টর এলাকাজুড়ে হাকালুকি হাওড়ের অবস্থান। বাংলাদেশের বৃহত্তম হাওর। জীববৈচিত্রে পূর্ণ এ হাওরটি। দেশী প্রজাতির মাছের জন্য বিখ্যাত। শীতের অতিথি পাখীর নিরাপদ আশ্রয়স্থল। মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলার ছয়টি উপজেলা বিস্তৃত হাকালুকি হাওড়ের পাড়ে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া, জুড়ি ও বড়লেখা উপজেলা এবং সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জ, বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা অবস্থিত। হাওড়টিতে ২৩৬টি বিল (জলাধার) রয়েছে। এর অনেকগুলোকে সরকার মাছের অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করেছেন। ভরা বর্ষায় হাকালুকি হাওড়কে মনে হবে যেনো একটি সমুদ্র। নানান প্রজাতির ছোট-বড় দেশীয় মাছ, পাখি ও জলজ উদ্ভিদের জন্য প্রসিদ্ধ এ হাওর। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে, সরকার গ্রহীত ‘হাওর উন্নয়ন প্রকল্পে’ দেশের বৃহত্তম ও বৈচিত্র্যপূর্ণ হাকালুকি হাওড়কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি রহস্যজনক কারণে।

চা বাগান:

কুলাউড়া উপজেলায় অনেকগুলো চা বাগান রয়েছে, যেগুলোতে আপনি বেড়াতে যেতে পারেন।

মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত:

মৌলভীবাজার-বড়লেখা সড়কের কাঠালতলী থেকে মাধবকুণ্ডের রাস্তা চলে গেছে। প্রবেশ টিকিট কিনতে হবে। সামান্য এগিয়ে গেলেই চোখে পড়বে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত। মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের ব্যবস্থাপনায় মাধবকুণ্ড পরিচালিত হয়। কাছাকাছি জেলাপরিষদ রেস্টহাউস আছে। কমপক্ষে ১০ দিন আগে বুকিং দিয়ে সেখানে থাকতে পারেন। মাধবকুণ্ডে উচু পাহাড় থেকে পানিরধারা প্রবল বেগে নেমে আসার দৃশ্য আপনাকে বিমোহিত করবে। নেমে আসা পানি মাধবছড়া দিয়ে প্রবাহিত হয়ে চলে যাচ্ছে তার গন্তব্যের দিকে। অনেকে, বিশেষ করে তরুণরা মাধবকুণ্ডের দৃশ্য দেখে নিজেদের ধরে রাখতে পারে না। নেমে যায় গোসল করতে। সাবধান, কুণ্ডের পানিতে নেমে নির্ধারিত সীমানা অতিক্রম করলেই বিপদ অনিবার্য। বিগত ১১ বছরে ৩১ জন পর্যটক গোসল করতে নেমে প্রাণ হারিয়েছেন। মাধবকুণ্ডের অপরূপ দৃশ্য কুণ্ডের তীর থেকে অবলোকন করাই শ্রেয়। এই জলপ্রপাত ঘেঁষে দাড়িয়ে আছে একটি শিব মন্দির। কিংবদন্তি অনুসারে এ জলধারার সঙ্গে মন্দিরের আরাধ্য ঠাকুর শিবের একটি সম্পর্ক আছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বী জনসাধারণ সেই মন্দিরে পূজা দিয়ে থাকেন।

পরিকুণ্ড জলপ্রপাত:

মাধবকুণ্ডের কাছে আরও একটি জলপ্রপাত আছে। এর নাম পরিকুণ্ড জলপ্রপাত। আপনি সেখানে অবশ্যই যাবেন। সবুজ পাহাড়ে ঘেরা পরিকুণ্ডও সবাইকে বিমোহিত করে। জায়গাটি মাধবকুণ্ডের চাইতেও নির্জন। ১৫০ ফুট উচু পাহাড় বেয়ে প্রবলবেগে জলধারা নেমে আসছে। সঙ্গে শোঁ শোঁ শব্দ। ছোটবড় অসংখ্য পাথর বিছানো একটি ছড়া নেমে আসা জলধারাকে বয়ে নিয়ে যাচ্ছে। অত্যন্ত কাছে থেকে আপনি প্রবাহমান জলধারা উপভোগ করতে পারেন। এর স্বচ্ছ পানিতে আপনি ইচ্ছা করলে গোসল করতে পারেন। মাধবকুণ্ড থেকে যে ছড়াটি প্রবাহিত হয়েছে, সেটা অনুসরণ করে ১৫/২০ মিনিট হেঁটে এগিয়ে গেলেই আপনি পরিকুণ্ডে পৌঁছে যাবেন।

/এএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।