সকাল ০৯:২৩ ; সোমবার ;  ২২ জুলাই, ২০১৯  

প্রবাসে ঈদ: স্মৃতিগুলোতে প্রাণ জুড়ায়

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

 নাফিজ ইমতিয়াজ, কানাডার টরেন্টো থেকে ।।

প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের অভাবটা সবচেয়ে বেশি অনুভব করেন খুব সম্ভবত ঈদের সময়টাতে। শুধু কাছের মানুষগুলো দূরে আছে তা নয়, বরং ঈদের অনেক অনুষঙ্গ যেমন, সকাল বেলায় সবাই মিলে একটা উৎসব উৎসব আমেজে নামাজ পড়তে যাওয়া, ঈদের কেনাকাটা, চাঁদরাতে বন্ধুদের সঙ্গে প্রাণভরে আড্ডাবাজি। আর চাঁদ দেখা গেলে সব জায়গায় বাজতে থাকা কবি নজরুলের সেই অমর ‍সৃষ্টি - ‘ ও মন রমজানেরই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’ – কোনও কিছুই মেলে না এখানে। কাজেই দেশের ঈদ আর প্রবাসের ঈদ – এ দু’য়ের মধ্যে যেনও যোজন যোজন তফাৎ। এখানে বাংলাদেশিদের কাছে ঈদের দিনটা জুড়ে থাকে একটা অনুভূতি 'কারা যেনও নেই, কি যেনও নেই’।  

পুরো কানাডাতে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশিদের বসবাস টরেন্টোতে । এখানে আধাযুগের বেশি সময় ধরে বসবাসকারি জুবায়ের কায়সার কয়েকদিন আগে বলছিলেন, যদি ছুটির দিন না হয় তাহলে ঈদের দিনটা অন্যান্য খেটে খাওয়া দিনগুলোর মতোই।

বেশিরভাগ মানুষকে বেশ কিছুটা দূরের মসজিদে গিয়ে কোনও রকমে ঈদের নামাজ শেষ করে ছুটতে হয় কাজে। কারণ আমাদের দেশের মতো এখানে ঈদের দিনে আলাদাভাবে কোনও সরকারি ছুটি পাওয়া যায় না। তবে আসল ঈদের আনন্দ কিছুটা হলেও পাওয়া যায় যদি সৌভাগ্যক্রমে ঈদের দিনটি হয় শনি বা রবিবার। বন্ধু-স্বজনদের বাসায় যাওয়া, পরিবারের সবাইকে নিয়ে বেড়াতে যাওয়াসহ পারিবারিক আবহে দিনগুলো ‍উদযাপনের সুযোগ পাওয়া যায় এ দুদিনে। আর বাঙালি পাড়ায় তো বিভিন্ন সংগঠনের নানান আয়োজন তো থাকেই। আন্তর্জাতিক মুসলিম সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও বিভিন্ন জায়গায় আয়োজন করা হয় মুসলিম ফেস্টিভাল। এসময় বিশেষভাবে দৃষ্টিকাড়ে নানা দেশের হালাল খাবারের জমজমাট মেলা। টরেন্টোর মতো মন্ট্রিল, অটোয়াসহ কানাডার অন্যন্য শহরগুলোর চিত্রও ঈদে মোটামুটি প্রায় একই রকম থাকে।

ঈদে প্রবাসীদের অনেকেই পছন্দ করেন বিভিন্ন স্থানে বেড়াতে যেতে। নায়াগ্রা জলপ্রপাত, হেমিল্টন, সন্টোর আইল্যান্ড, হারবারফ্রন্ট, ওসাকাবিচ, ব্রুসপেনুনসুলার মতো জায়গাগুলো এসময় তাই হয়ে ওঠে বাংলাদেশিদের মিলন মেলা। আর ঈদ যদি হয় তীব্র ঠান্ডা মৌসুমে তাহলে কেউ কেউ চলে যায় ব্লুমাউন্টনের মতো জায়গাগুলোতে স্কি করতে। তবে সামার ভ্যাকেশন থাকলে অনেকেই ঈদের সময়টাকে বেছে নেনে দেশে যাবার শ্রেষ্ঠ সময় হিসেবে।

তবে এত কিছুর পরও বাঙালির মন পড়ে থাকে সেই ছেলেবেলার ঈদ এর দিনে। দিনের সকালে মায়ের হাতে রান্না করা সেমাই আর নামাজ ফেরত স্বজনদের কাছ থেকে সালামি আদায়ের মতো পারিবারিক আর সামাজিক আবহ যেনও জীবনের যে কোনও উৎসবের এক শ্রেষ্ঠ স্মৃতি। তবে নতুন প্রজন্মের একটি অংশ যারা প্রবাসে বড় হয়ে উঠছে তাদের বেশির ভাগই বঞ্চিত ঈদের সেই অনাবিল আনন্দ থেকে।

সবাইকে ঈদ মোবারক।

/এআই/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।