সন্ধ্যা ০৬:৪৬ ; রবিবার ;  ০৮ ডিসেম্বর, ২০১৯  

ঈদে পাহাড়ি বিনোদন লাউচাপড়ায়!

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

জামালপুর প্রতিনিধি॥

ওপারে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের তুরা জেলা আর এপারে বাংলাদেশের জামালপুর জেলা। সীমান্ত ঘেঁষা জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে রয়েছে ছবির মতো গারো পাহাড়ের সারি আর বনভূমি। গারো আদিবাসীদের পাহাড়ি গ্রাম, বনভূমি, পাহাড়-টিলা, পাহাড়ের ফাঁকে ফাঁকে অজস্র ছোট-বড় স্বচ্ছ ঝর্ণা, পাখির কলকাকলি আর দিগন্ত ছোঁয়া সবুজ যা ভ্রমণ পিয়াসী মানুষকে আকর্ষণ করবেই। আর তাই যারা পাহাড়কে ভালবাসেন এই ঈদে ঘুড়ে আসতে পারেন পাহাড়ঘেরা বিনোদন কেন্দ্র  লাউচাপড়ায়।

জামালপুর জেলা সদর থেকে ৫০ কিলোমিটার উত্তরে বকশীগঞ্জ উপজেলা। এই উপজেলা সদর থেকে পাকা রাস্তায় ১০ কিলোমিটার উত্তরে এগোলেই ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্ত ঘেঁষে প্রায় ১০ হাজার একর জায়গা জুড়ে বিশাল পাহাড়ি এলাকা। গারো পাহাড়। এখানেই লাউচাপড়া পিকনিক স্পট। এলাকাটি বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নে অবস্থিত। স্থানটি জামালপুর জেলার অধীনে হলেও ঢাকা থেকে শেরপুর হয়ে যাওয়া অনেকটা সহজ। ঢাকা থেকে ডে-নাইট বাসে চলে আসতে পারেন শেরপুর। শেরপুর থেকে বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, অটোরিকশা বা ভ্যানে শ্রীবর্দি কর্ণজোড়া হয়ে যাওয়া যায় লাউচাপড়া। শেরপুর থেকে লাউচাপড়ার দূরত্ব ৩২ কিলোমিটার। আবার ঢাকা থেকে ট্রেনে জামালপুর জেলা শহরে এসে সেখান থেকে সিএনজি বা অটোয় বকশীগঞ্জ হয়ে লাউচাপড়ায় যাওয়া যায়।

পর্যটকদের কথা ভেবে জামালপুর জেলা পরিষদ ১৯৯৬ সালে ২৬ একর জায়গা জুড়ে গারো পাহাড়ের চূড়ায় নির্মাণ করেছে পিকনিক স্পট ‘ক্ষণিকা’। এখানে রাতে থাকার জন্য রয়েছে জেলা পরিষদের ডাকবাংলো। এছাড়া ব্যক্তি মালিকানায় গড়ে উঠেছে বিলাসবহুল রিসোর্ট ‘বনফুল রিসোর্ট’। এখানে আপনি আধুনিক সব সুযোগ সুবিধাই পাবেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে এখানে নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন। এই রিসোর্টে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ ছাড়াও রয়েছে সাধারণ কক্ষ। রিসোর্টে নিজস্ব বাবুর্চি দিয়ে রয়েছে রান্নার ব্যবস্থা।

লাউচাপড়ার পাহাড়ি এলাকায় হিংস্র কোনও প্রাণী নেই। তবে ধানী মৌসুমে সীমান্তের ওপারের গভীর পাহাড় থেকে নেমে আসতে পারে বন্য হাতির দল। এখানে আছে নানা জাতের পাখি। চোখে পড়বে কাঠ ঠোঁকরা, হলদে পাখি, কালিম পাখিসহ অসংখ্য পাখি। পাহাড়ের পাদদেশে রয়েছে স্বচ্ছ লেক।

পাহাড়ের খাঁজে-ভাঁজে অবস্থিত লাউচাপড়া, দিঘলাকোনা, বালুঝুড়ি, সাতানীপাড়া, পলাশতলা, মেঘাদল, শুকনাথপাড়া, গারোপাড়া, বালিজোড়া, সোমনাথপাড়া, বাবলাকোনা গ্রামের গারো, কোচ, হাজং আদিবাসী পরিবারের জীবনযাপনে মুগ্ধ হন এখানে বেড়াতে আসা মানুষ। এখানকার আদিবাসীরা বেশ সহজ-সরল ও বন্ধু বাৎসল। গারো পাহাড়ের ১৫০ ফুট উপরে নির্মিত ৬০ ফুট উঁচু টাওয়ারে উঠলেই চোখের সামনে চলে আসবে দিগন্ত বিস্তৃত সারি সারি সবুজ পাহাড়-টিলা। চোখে পড়বে সীমান্তের ওপারের মেঘালয় রাজ্যের সুবিস্তৃত পাহাড় ছাড়াও তুরা জেলার পাহাড়ি ছোট্ট থানা শহর মহেন্দ্রগঞ্জ। আর তাই দেরি না করে ঈদের ছুটিতে পরিবার পরিজন নিয়ে ঘুড়ে আসুন সবুজে ঘেরা পাহাড়ি বিনোদন কেন্দ্র লাউচাপড়ায়।

/বিএল/ এএইচ /

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।