রাত ০৮:৫২ ; মঙ্গলবার ;  ১৬ জুলাই, ২০১৯  

সেমাই মুড়ি ও পায়েস দিয়ে বন্দিদের ঈদ

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

জামাল উদ্দিন ॥

সেমাই, মুড়ি ও পায়েস দিয়ে ঈদের দিন সকালে নাস্তা করেন বন্দিরা। দুপুরে তাদের দেওয়া হয় ভাত, মাছ ও ডিম। রাতের খাবারে রয়েছে পোলাও-মাংস, সালাদ, মিষ্টি ও পান-সুপারি। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের কারাগারগুলোতে এভাবেই বিশেষ খাবার বিতরণ করা হয়। তাছাড়া বন্দিরা কারাগারের প্রতিটি সেলে আলাদাভাবে ঈদের নামাজ আদায় করেন।

কারা অধিদফতরের ঢাকা বিভাগের ডিআইজি (প্রিজন) গোলাম হায়দার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও বন্দিদের মধ্যে ঈদের বিশেষ খাবার দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া কারও স্বজন দেখা করে খাবার দিতে চাইলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সেগুলোও দেওয়া হচ্ছে। নিরাপত্তার কারণে কারাগারগুলোতে একসঙ্গে সব বন্দিকে ঈদের জামাত করতে দেওয়া হয় না। তবে প্রত্যেকটি সেলে আলাদাভাবে ঈদের জামাত হয়েছে। ব্যবস্থা আলাদা থাকলেও ভিআইপি বন্দিদেরও নিয়মানুযায়ী বিশেষ খাবার দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের চেয়ে কাশিমপুরের কারাগারগুলোতেই সবচেয়ে বেশি ভিআইপি বন্দি রয়েছে। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার ১ ও ২ এবং হাই সিকিউরিটি কারাগারে মানবতাবিরোধী অপরাধে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাইদী, জামায়াতের আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, বিএনপি নেতা খন্দকার মোশারফ হোসেন, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সালাহ উদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী, রুহুল কবির রিজভী, আবদুস সালাম পিন্টু, সামসুজ্জামান দুদু, জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলী ও এটিএম আজহার আলীসহ অনেক রাজনৈতিক নেতা বন্দি আছেন। তাদের অনেকেই বিভিন্ন মামলায় মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। প্রত্যেকেই নিজস্ব সেলে ঈদের নামাজ আদায় করেন।

কাশিমপুরের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এর জেলার মো. নাসির উদ্দিন জানান, তারা প্রত্যেক সেলেই ঈদের জামাত আদায় করার জন্য বন্দিদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। কাশিমপুরের তিনটি কারাগারে প্রায় সাতশ'মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রয়েছে। এদের আলাদাভাবে ঈদের জামাত আদায় করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

ডিআইজি প্রিজন গোলাম হায়দার জানান, বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা অাসিফা আশরাফি পাপিয়াসহ তিন শতাধিক বন্দি রয়েছেন কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে। সবগুলো কারাগারেই বন্দিদের জন্য ঈদের জামাত আদায়ের ও বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হয়েছে। বিভিন্ন কারাগারে গরিব বন্দিদের মধ্যে লুঙ্গি, পাঞ্জাবি ও শাড়ি বিতরণ করা হয়।

/জেইউ/ এএইচ /

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।