রাত ১২:৩৭ ; রবিবার ;  ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯  

যশোরের বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে নিরিবিলি ঈদের আনন্দ

প্রকাশিত:

তৌহিদ জামান, যশোর।।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ আরও একটু বেশি ভাগাভাগি করে নিতে সবাই নিরিবিলি পরিবেশটাই খোঁজেন। যশোর শহরে চিত্তবিনোদনে তেমন কোনও আয়োজন নেই বললেই চলে। বিকেল হলেই মানুষজন একটু প্রশান্তির জন্যে যশোর বিমানবন্দর সংলগ্ন রানওয়ের পিছনে যান। সেখানে বিস্তৃত এলাকায় মানুষ পায় একটু স্বস্তি। সন্ধ্যাটা পার করে তারা ফেরেন আবার।

শহরের প্রাণকেন্দ্র দড়াটানা লাগোয়া ঐতিহাসিক যশোর কালেক্টরেটের সঙ্গে রয়েছে নিয়াজ পার্ক। সম্প্রতি পৌরসভা কর্তৃপক্ষ সেই নিয়াজ পার্কটি সংস্কার করে তা ব্যবহার উপযোগী করেছে নাগরিকদের। নতুন নাম হয়েছে কালেক্টরেট পার্ক। বিনামূল্যে প্রবেশের সুবিধা থাকলেও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে তা আর নাগরিকদের জন্যে তেমন সুখকর বিনোদনের স্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না। এই পার্কে ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবস্থা ছিল; যা এখন আর নেই।

পৌরসভার অধীনে আরেকটি পার্ক রয়েছে খোলামেলা; নাম যশোর পৌরপার্ক। সেখানে চিত্তবিনোদনে নেই কোনও খোরাক। এটির নেই কোনও প্রবেশ মূল্য। একেবারে বাধ্য হয়ে নাগরিকদের কেউ কেউ মাঝেমধ্যে সেখানে যান।

তবে, শহর থেকে সামান্য দূরে ব্যক্তি মালিকানায় আর সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে রয়েছে তিনটি পার্ক। সেখানে সাধারণ মানুষ যান নাগরিক কোলাহল থেকে কিছুটা প্রশান্তির ছোঁয়া পেতে। আর ঈদকে সামনে রেখে সেইসব পার্কে শুরু করা সংস্কার কাজও সম্পন্ন হয়েছে। দর্শণার্থীদের জন্যে আরও নতুন কিছু রাইডের পাশাপাশি ব্যবস্থা করা হচ্ছে অন্য কিছু ইভেন্ট।

 

জেস গার্ডেন পার্ক

যশোর শহরতলীর বাহাদুরপুরে গড়ে তোলা হয়েছে ‘জেস গার্ডেন পার্ক’ নামে একটি বিনোদনের স্থান। প্রায় চল্লিশ বিঘা জমির ওপর তৈরি এই পার্কটিতে যশোর শহরের নাগরিক ছাড়াও বাইরের থেকেও আসেন মানুষজন। শীত মৌসুমে এখানে গিজগিজ করে পিকনিকে আগত মানুষের ভীড়।

শহর থেকে প্রায় তিন কিমি দূরে যশোর-মাগুরা সড়কের পাশে এই পার্কটিতে আছে নানা ধরনের গাছপালা। বন্য পশুপাখিদের নিয়ে রয়েছে মিনি চিড়িয়াখানা। পার্কে আসা লোকজনের বিনোদনের জন্যে রয়েছে বেশকিছু রাইড।

পার্কের অন্যতম পরিচালক মো. ইসরাফুল হক জানান, পার্কে রয়েছে ট্রেন রাইড, ভেসপা রাইড, নাগরদোলা, হাঁস রাইড, হাঁস নৌকা, হরিণ রাইড, প্যাডেল বোট, পানির ওপরে ভাসমান বল ইত্যাদি। প্রায় প্রত্যেকটি রাইড চড়তে প্রতিজনের জন্যে লাগে ১৫ টাকা। শুধুমাত্র প্যাডেল বোট চল্লিশ আর ভাসমান বলের জন্যে ২৫ টাকা টিকিট। ভাসমান বলটা হচ্ছে অক্সিজেনভর্তি একটি বল, একজন চড়তে পারেন এটিতে; মুখ বন্ধ থাকে। আর চিড়িয়াখানায় প্রবেশ ফিও ১৫ টাকা।

পার্কে প্রবেশ ফি ২৫ টাকা থাকলেও ঈদের জন্যে করা হয়েছে ত্রিশ টাকা। পাঁচ বছরের শিশুদের জন্যে প্রবেশমূল্য ফ্রি।

যশোর শহরের দড়াটানা থেকে ইজিবাইকে প্রতিজন যাত্রীর খরচ দশ টাকা। রিজার্ভ গেলে একশ’ টাকা পার্কের গেট পর্যন্ত। আর রিকশায় খরচ ৫০ থেকে ৬০ টাকা।

 

যশোর বোট ক্লাব

শহরের কোলাহল থেকে ছায়া সুনিবিড় পরিবেশে বিশালাকার একটি লেকের ধারে গড়ে উঠেছে যশোর বোট ক্লাব। প্রায় সাত কি.মি. দূরে যশোর ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে এই ক্লাবটি হলেও তৈরি করা হয়েছে সাধারণ মানুষদের জন্যেও। এখানে সামরিক লোকদের প্রবেশ ফি ১০ টাকা হলেও সাধারণের জন্যে ২০টাকা।

এই বোট ক্লাবে চারটি স্পিড বোট রয়েছে। সেনা সদস্যরাই ড্রাইভ করেন। রাইড খরচ ২০০ টাকা। আছে মনময়ূরী নামে একটি ভাসমান বোট; এটি পরিবারের সবাই মিলে ঘুরতে পারেন মাত্র ৫০ টাকায়। আর প্যাডেল নৌকা ৬০ টাকা।

বোট ক্লাবের দায়িত্বে থাকা সিনিয়র ওয়ারেন্ট সার্জেন্ট মো. বাচ্চু মোল্যা জানান, প্রায় ৫২ একর জমিতে তাদের বোট ক্লাবটি। এরমধ্যে প্রায় ২০ একর জুড়ে লেক। এখানে বসার জন্যে, বিশ্রামের জন্যে রয়েছে বেশকিছু শেড। গোটা এলাকা নানা ধরনের বৃক্ষে সজ্জিত। আছে ওষুধি গাছও। শিশুদের বিনোদনে এখানে যেমন আছে ফুলপরীর ভাস্কর্য, তেমনি নানা পাখ-পাখালির ভাস্কর্যও। আছে দোলনা, প্লাস্টিকের ঘোড়া ইত্যাদি। নতুন করে সীমানা বাড়ানো হয়েছে। তৈরি হচ্ছে দোয়েল, ডলফিন, হরিণের ভাস্কর্যও।

মাছ শিকারীদের জন্যে নতুন সংযোজন হচ্ছে ‘মনোহরপুর অ্যাংলিং ক্লাব’। ঈদের পর থেকেই সৌখিন মাছশিকারীরা টিকিটের মাধ্যমে এখানে ছিপে মাছ ধরতে পারবেন।

বিনোদিয়া ফ্যামিলি পার্ক

যশোর সেনানিবাসের মধ্যে আরেকটি বিনোদন কেন্দ্র হচ্ছে বিনোদিয়া ফ্যামিলি পার্ক। ভৈরব নদের ধার ঘেঁষে বেশ খানিকটা জায়গা নিয়ে তৈরি এই পার্কটিও সাধারণ মানুষের বিনোদনের অন্যতম স্থান। শীত মৌসুমেও এখানে বেশ ভিড় হয়। বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে আসেন মানুষ কিছুটা বিনোদিত হতে। শহর থেকে প্রায় চার কিমি দূরে এই পার্কটির অবস্থান। এখানেও প্রবেশ ফি ২০ টাকা। যশোর-ঝিনাইদহ সড়কের গা ঘেঁষে এই পার্কের অবস্থান। এই পার্কেও রয়েছে বেশকিছু রাইড। আছে সাত বীরশ্রেষ্ঠের ভাস্কর্য।

 /এএ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।