রাত ১১:০৫ ; শনিবার ;  ২০ এপ্রিল, ২০১৯  

রাজধানীতে পরিবহন সংকট, বকশিশের নামে চাঁদাবাজি

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

চৌধুরী আকবর হোসেন।।

রাজধানী প্রায় ফাঁকা হওয়ায় নিত্যসঙ্গী যানজটের হাত থেকে মুক্তি মিললেও পরিবহন সংকট আর ঈদের বকশিশের নামে চাঁদাবাজিতে হয়রানির শিকার হচ্ছে যাত্রীরা। শুক্রবার চাঁদ দেখা যাওয়ায় শনিবার উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর । লাখ লাখ মানুষ পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে রাজধানী ছেড়েছেন। ঢাকায় নেই আগের মতো যানজট। তবে ব্যস্ত রাজধানীর রাস্তা-ঘাট ফাঁকা হলেও মিলছে না গণপরিবহন। এ সংকটে মধ্যে শুরু হয়েছে ভাড়ার সঙ্গে বকশিশ আদায়ের নামে চাঁদাবাজি। শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা গেছে এমন তথ্য।

রাজধানীর রাস্তাঘাট ফাঁকা হওয়া রাস্তায় মানুষের উপস্থিতি ছিল অনেক কম। পরিবহন সংকট হওয়ায় বাসের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে যাত্রীদের। রাজধানীর গুলিস্তান, নয়া পল্টন, যাত্রাবাড়ী, শাহবাগ, ফার্মগেট, পান্থপথ, কাকরাইল, শান্তিনগর, মৌচাক, রামপুরা, বাড্ডা,মগবাজার, মহাখালী, গুলশান, ধানমন্ডি এলাকার রাস্তার বাসস্টান্ডে যাত্রীদের পরিহনের জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। বাস না পেয়ে রিকশা, সিএনজি অটোরিকশা না পেয়ে পায়ে হেঁটেই চলতে দেখা গেছে। এরমধ্যে অনেক স্থানেই লোকাল বাসগুলো হঠাৎ করেই হয়ে গেছে গেটলক বা সিটিং সার্ভিস বাস। এ সুযোগে রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ভাড়া নেওয়া হচ্ছে দ্বিগুণ, তিনগুণ । যদিও পরিবহন শ্রমিকরা এটাকে বলছেন ঈদ বকশিশ। যাত্রীদের বাধ্য হয়ে দিতে হচ্ছে বেশি ভাড়া।

আসাদুজ্জান গুল‌‌িস্তানে একটি বাস থেকে নামলে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, প্রায় ৪০ মিনিট অপেক্ষার পর বাস পেয়েছি। বাসের নিয়মতি ভাড়া ২০ টাকা হলে নেওয়া হয়েছে ৫০ টাকা। বাসের কন্ডাক্টর ঈদ বকশিশ বলে এই টাকা নিয়েছে।

একই অভিযোগ করেছেন অন্যান্য রুট থেকে আসা যাত্রীরাও। গাবতলী থেকে গুল‌‌িস্তানে এসে হাবিব বলেন, আট নম্বর বাস সবসময় লোকাল সার্ভিসে চলে। আজকে তারা সিটিং সার্ভিস হয়ে গেছে। বাসে উঠার আগেই বলছে যেখানেই নামেন ৪০ টাকা ভাড়া দিতে হবে। বকশিশ কি এভাবে নেয়, এটা চাঁদাবাজি।

তবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কে চাঁদাবাজি বলতে নারাজ পরিবহন শ্রমিকরা। রফিক নামের এক গাড়িচালক বলেন, আমাদেরও পরিবার পরিজন আছে। কেউ তো আমাদের বোনাস দেয় না। আমরা দুই এক টাকা চেয়ে বেশি নেই। কাউকে জোর করি না।

এ প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী বলেন, ঈদে শ্রমিকরা বাড়ি না যেয়ে গাড়ি চালায়। এতে সবার সুবিধা হয়। তারাও পরিবার নিয়ে ঈদ করবে। ঈদের দুই একদিন কেউ কেউ চেয়ে বকশিশ নেয় যাত্রীদ‌‌‌ের কাছ থেকে । চেয়ে নিলে চাঁদাবাজি হয় কি করে।

/সিএ/ এএইচ /

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।