সন্ধ্যা ০৭:২২ ; রবিবার ;  ০৮ ডিসেম্বর, ২০১৯  

ঈদের ছুটিতে হাসপাতালেও কমেছে ডাক্তার-রোগী

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

সালমান তারেক শাকিল।।

পবিত্র ইদুল ফিতর উপলক্ষে তিনদিনের সরকারি ছুটি শুরু হয়েছে আজ শুক্রবার থেকে। এর প্রভাব ইতোমধ্যে রাজধানীর হাসপাতালগুলোতেও পড়েছে। কমতে শুরু করেছে ডাক্তার-নার্স ও রোগীর সংখ্যা। একসঙ্গে তিনদিনের ছুটি মেলায় বেশিরভাগ ডাক্তাররা নিয়েছেন ছুটি। কয়েকদিন আগেও প্রতিটি হাসপাতালে ডাক্তারদের সরব উপস্থিতি থাকলেও ঈদ-ছুটিকে কেন্দ্র করে উপস্থিতি ছিল একেবারেই নগণ্য। কোনও কোনও হাসপাতালে পালাবদল করে একজন ডাক্তার ও নার্সকে চালাতে দেখা গেছে একাধিক ওয়ার্ড। পাশাপাশি খুব খারাপ পরিস্থিতি না হলে রোগীর সংখ্যাও অনেকটাই কম। ফাঁকা রয়েছে অনেক ওয়ার্ড। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রাজধানীর সরকারি-বেসরকারি অন্তত চারটি হাসপাতাল ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

এদিকে গ্রামের পরিস্থিতিও প্রায় একই। ইতোমধ্যেই ছুটি নিয়েছেন ডাক্তাররা। তাদের অনুপস্থিতিতে অন্য ধর্মের ডাক্তাররা রোগীর সেবা দেবেন। তবে ঈদের সময় সাধারণ পর্যায়ের রোগীর সংখ্যা কম থাকে বলে জানিয়েছেন হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর থানার মেডিক্যাল অফিসার ডা. আসাদুজ্জামান রকিব। তিনি জানান, ঈদের ছুটিতে আমরা বাড়ি থাকব। তবে জরুরি বিভাগ খোলা থাকবে। সেখানে অন্য ডাক্তাররা সেবা দেবেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঈদের প্রভাবে গত কয়েকদিন ধরে রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য রোগীদের ঈদের পরে আসার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে কয়েকদিন ধরেই। ফলে হাসপাতালের বহির্বিভাগেও কমেছে রোগীর সংখ্যা।

তবে দ্বিমত পোষণ করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এখলাসুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সরকারি ছুটিতে বহির্বিভাগ বন্ধ থাকার নিয়ম রয়েছে। এতে বিভিন্ন উৎসবে সংশ্লিষ্ট ধর্মের অনুসারীরা ছুটি গ্রহণ করেন। ঈদে মুসলমান ডাক্তার ও নার্স এবং পূজা বা অন্য উৎসবে অন্যান্য ধর্মের ব্যক্তিরা ছুটি নেন।

এখলাসুর রহমান আরও বলেন, জরুরি বিভাগ খোলা থাকে। যেকোনও রোগীর সেবা দিতে আমরা সবসময় প্রস্তুত থাকি।

কিন্তু হাসপাতালে নার্সের সংখ্যা কম-উত্তরে ‘এসেন্স অব পেডিয়েট্রিকস’ শিশু চিকিৎসা বিষয় গ্রন্থের এই লেখক বলেন, ‘নার্সের সংখ্যা কম, এটি তো ঈদের সমস্যা না। সারা বছরের সমস্যা। আমরা তো বারবার বলে আসছি নার্সের সংখ্যা বাড়াতে হবে।’

তবে ঢাকা মেডিক্যাল ও পঙ্গু হাসপাতালের কয়েকজন কর্তব্যরত নার্স জানান, কেউ কেউ বৃহস্পতিবারের ছুটি নিয়ে মঙ্গলবারই গ্রামের বাড়িতে চলে গেছেন। বুধবার ছিল শবে-কদরের ছুটি। আবার অনেকে গতকাল হাসপাতালে এলেও ঈদের আগে শেষ কর্মদিবস হওয়ায় আগে ভাগে চলে গেছেন।

অভিযোগ পাওয়া গেছে রোগীদের স্বজনদের থেকেও। তারা জানান, ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার আগেও রোগী ভর্তি করতে চাননি ডাক্তাররা।  মঙ্গলবার বিএসএমএমইউ হাসপাতালে ছেলের চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন বি.বাড়িয়া শহরের কাউতলীর ব্যবসায়ী তাকবিম। তিনি জানান, হাসপাতালে অনেক বেড ফাঁকা থাকার পরও তার ছেলেকে ভর্তি করা হয়নি।

জানা গেছে, এভাবে আরও অনেকেই বহির্বিভাগে এসে বিনা চিকিৎসায় ফিরে গেছেন। ওয়ার্ডের রোগীদেরও চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে।

সরেজমিনে জানা যায়, চিকিৎসার ক্ষেত্রে শুধু নয়, ঈদের ছুটিতে প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষাও প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে।  গত তিনদিনে রাজধানীর কিডনি, পঙ্গু, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটসহ বেশ কয়েকটি হাসপাতাল ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

জানতে চাইলে পঙ্গু হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মনিরুল ইসলাম দাবি করেন, প্যাথলজিক্যাল বিভাগ একেবারে বন্ধ, সেটি সঠিক নয়। কারণ এক্সরেসহ জরুরি কিছু বিভাগ খোলা রয়েছে। তবে আমাদের এখানে তো বিকল্প টেকনিশিয়ান নেই। এটি সারা বাংলাদেশের সমস্যা। তবে আমাদের প্রচেষ্টা সবসময় রোগীদের জন্য।

এদিকে ঈদের ছুটিতে শুধু সরকারি হাসপাতালই নয়, প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোয়ও ডাক্তার সংকট দেখা যায়। তবে সরকারি হাসপাতালের মতো চিত্র এতটা করুণ নয়। বেসরকারি মালিকানাধীন প্রায় সব হাসপাতালে জরুরি বিভাগ ও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালু রয়েছে। গত কয়েকদিনে পান্থপথের স্কয়ার, সাইন্সল্যাবের ল্যাবএইড, গ্রিনরোডের গ্রিনলাইফ, মগবাজারের আদ-দ্বীন, ধানমণ্ডির ইবনে সীনা, ফার্মগেটের আল রাজি, বনশ্রী’র ফরাজি হাসপাতালে এ চিত্র ছিল স্বাভাবিক।

জানা যায়, সরকারি হাসপাতালের প্রতিটি ইউনিটে একজন ডাক্তার পালাবদল করে ডিউটিতে থাকেন। বাকিরা ছুটি কাটান। কোনও রোগীর মারাত্মক সমস্যা দেখা দিলে বড় ডাক্তারদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে নেন ডিউটি ডাক্তাররা। পাশাপাশি অন্য ধর্মের ডাক্তাররা ঈদে হাসপাতালে থাকেন।

/এএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।