রাত ০৮:৪৭ ; মঙ্গলবার ;  ১৮ জুন, ২০১৯  

‘টয়েজ আর ইওর্স’

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

জাকিয়া আহমেদ।।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের দোতলার শিশুদের সার্জারি ওয়ার্ড। ভেতরে ঢুকে মনে হলো কোথাও ভুল হলো কি? কক্ষের ঠিক মাঝখানে একটা টেবিলে রাখা হয়েছে নানা আকার আর রঙের পুতুল, খেলনা গাড়ি। চারপাশের বিছানা দেখে অবশ্য মনে হলো ঠিক জায়গায় এসেছি। সেখানে শুয়ে আছে শিশুরা। রাজ্যের কৌতূহল তাদের চোখে। হাসপাতালে যারা ইনজেক্শন, ওষুধ, কাঁচি, ব্যান্ডেজ নিয়ে ঘুরে বেড়ান, তারাই কিনা হাত বাড়িয়ে আছেন পুতুল নিয়ে!

বাচ্চাদের কেউ তাতেই খুশি। একটা ছোট্র মেয়েটা যদিও ভয়ে কুঁকড়ে গেল কিছুটা। ভাবছে এ আবার কোন ছুতা? মা অবশ্য অভয় দিলেন। বললেন, ‘নাও পুতুলটা নাও’। এবার অবশ্য হাতা বাড়ালো মেয়েটি। হাসি ফুটলো তার মুখেও। হাততালিও চলল। হাসপাতালে এ এক নতুন অভিজ্ঞতা। 

একটু পর দেখা গেল ওয়ার্ডজুড়ে কারুর হাতে পুতুল, গাড়ি নিয়ে হাঁটছে কেউ। ডাক্তার, রোগী, অভিভাবক সবার মুখে খুশির ছটা। এ আনন্দ অমলিন।

কারা এ আনন্দের কারিগর? জানা গেল ফিদা হকের কাছ থেকে।  ‘একান্তই সামাজিক দায়বদ্ধতা’ থেকে এ কাজ করছেন তারা। গত শীতে তারা রংপুরের মিঠাপুকুরে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছিলে এক্স-ক্যাডেটস ফোরাম। এর ধারাবাহিকতায় গ্রীষ্মে এবার ‘টয়েজ-আর-ইওর্স’ এর আয়োজন । ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শিশুদের জন্য খেলনা নিয়ে এসেছেন তারা। এখানে ৫০ এর বেশী রুগ্ন শিশুর হাতে খেলনা তুলে দিওেয়া হয়েছে।

বাড়তি কিছু খেলনা কর্তৃপক্ষের হাতে দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেল।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বসেই এসব তথ্য দেন ফিদা হক । তিনি ‘এক্স ক্যাডেটস ফোরাম’ এর সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি টিমের দল প্রধান। তিনি বলেন, আমাদের শহরে বসবাসরত শিশুদের মাঝে পার্থক্যটা বিস্তর। কারও হাতে ট্যাব, আইপড , অন্যদের হাতে কিছু নেই। সমাজের অনেক সুবিধাবঞ্চিত শিশু রয়েছে যারা খেলনা হাতে নিতে পারে না কোনওদিন। ‘টয়েজ-আর-ইওর্স’-এর আওতায় আমাদের দেওয়া খেলনা হাতে নিয়ে তারা যদি ঈদের দিনটা খুশীতে কাটায় তাহলেই আমাদের স্বার্থকতা।

কীভাবে এই ‘টয়েজ-আর-ইওর্স’-এর উদ্যোগ নিলেন, জানতে চাইলে ফিদা বলেন, আমরা যারা বিভিন্ন ক্যাডেট কলেজে লেখাপড়া করেছি, তাদের একটা ক্লোজড্‌ গ্রুপ রয়েছে ফেসবুকে, ‘এক্স ক্যাডেট'স ফোরাম’। ওখানে একদিন মোস্তফা (মোস্তফা জামাল) আইডিয়াটা দিলেন। তারপর থেকে হয়ে গেল এটা সবার। তারিক, ফেরদৌস, জিয়াদ মিকু, বদরুল, নকীব, রিন্তি, নাসির রনি, কলি, ওয়ালীউল্লাহসহ অনেক এক্স-ক্যাডেট এর সঙ্গে জড়িত।

ফিদা যোগ করেন, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু চিকিৎসাবিদ ড. সিফাত জেরীন খানও একজন সাবেক ক্যাডেট। একদিন ফেসবুকে আমাদের আইডিয়া দেখে তিনি বলেন, এখানে (ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল) থাকা শিশুদের হাতে খেলনা তুলে দেওয়া যায় কিনা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এ আয়োজন।

তবে শুধুমাত্র ঈদ-উল-ফিতর পর্যন্ত তাদের আয়োজন চলবে, বিষয়টি এমন নয়। বরং পরে আরও জোরালভাবে এ কার্যক্রম শুরু হবে । এ জন্য সারাদেশে অবস্থাসম্পন্নদের প্রতিও আহবান জানান ফিদা হক।

তিনি বলেন, ঘরের কোণে যেসব খেলনা রয়েছে সেগুলো ফেলে না দিয়ে আমাদের দিয়ে দিলে আমরা তা তুলে দেব এসব শিশুদের হাতে। ঢাকার বিভিন্ন স্কুলের প্রতিও তিনি আহবান জানান সহযোগিতার।

তিনি বলেন, এবার যখন আমরা বিভিন্ন জায়গায় পুরাতন খেলনার জন্য বলেছি, তখন অনেক কর্পোরেট হাউজ নি‌‌‌জেরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বলেছে তারা আমাদের এ কাজে সহযোগিতা করতে চায়। অবিশ্বাস্য কিন্তু সত্য, বিভিন্ন কোম্পানি অনেক অনেক খেলনা দিয়েছে টয়েজ-আর-ইওর্সকে। ইতোমধ্যে ঢাকা ছাড়া কিশোরগঞ্জ, রংপুর, সিলেট, নরসিংদী, জামালপুর থেকেও খেলনা সংগ্রহের আয়োজন করেছি আমরা। আশা করছি ঈদের পরে এটা আরও ছড়িয়ে পড়বে।

 

/এসএস/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।