রাত ০১:০১ ; শুক্রবার ;  ২১ জুন, ২০১৯  

ফুল,স্বর্ণলতা কিংবা ঈদের চাঁদ!

প্রকাশিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট॥

কারও হাতে ফুল তো কারও হাতে স্বর্ণলতা। আবার কেউ কেউ খুঁজে নিচ্ছেন ঈদের চাঁদ। রোজার মাস শেষে ঈদের আর মাত্র বাকি কয়েকদিন। সবাই কমবেশি ব্যস্ত আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে নিজেকে সাজিয়ে নিতে। ঠিক এই সময় একঝাঁক তরুণ প্রাণ নিজেদের আনন্দটা ভাগাভাগি করে আয়োজন করেছিল মেহেদি উৎসবের। যেখানে ভালবাসার আবদারে সাড়া দিয়ে চাহিদা মতো পথশিশুদের হাতে মেহেদি দিয়ে এঁকে দিয়েছেন নানান নকশা থেকে নানান আঁকিবুকি।

রাজধানীর পথশিশুর সংখ্যা জানা কঠিন। কোথায় গেলেই বা পাওয়া যাবে তাদেরকে একসঙ্গে। এ কারণে শনিবার ধানমণ্ডির রবীন্দ্র সরোবর আর জিয়া উদ্যানে আয়োজন করা হয়েছিল মেহেদি উৎসবের। এ কাজটি করেছে পুরোপুরি তারুন্য নির্ভর স্বেচ্ছাসেবী দল রূপান্তর। যারা শুধু জানে কিভাবে নিজেদের ক্ষুদ্র সঞ্চয়টুকু ব্যবহার করে নাম না জানা শিশুগুলোর মুখে একচিলতে হাসি ফোটাতে।

৯০সদস্যের ‘রূপান্তর’ দল সেদিন ভাগ হয়ে গিয়েছিল দুই ভাগে।  সদস্যদের কাছে থাকা টিউব মেহেদি দিয়ে আশপাশের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পথশিশুদের একে একে তাদের চাহিদা মতো দেওয়া হলো মেহেদি।

আনন্দ ভাগাভাগির অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে রূপান্তরের সদস্যরা বলেন,শুরুতে ঈদ উপলক্ষে পথশিশুদের জন্য নতুন পোশাকের ব্যবস্থার কথা ভাবলেও, পরে সংগঠনের সদস্যরা সিদ্ধান্ত নেই মেহেদি উৎসব করার। কারণ,এটি শিশুদের আরও বেশি আনন্দ দেবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

তবে কোনও প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে নয়, পুরো আয়োজনটি করা হয়েছে স্বপ্রণোদিত হয়ে আনন্দ ভাগাভাগির উদ্দেশ্যে। যে কারণে তার কোনও প্রতিষ্ঠান থেকে কোনও প্রকার আর্থিক সহায়তা নেয়নি সংগঠন। তবে মানুষের কাছাকাছি বার্তাটি পৌঁছে দিতে সপ্তাহব্যাপী প্রচারণা চালিয়েছে এশিয়ান রেডিও। আর পুরো আসরে প্রায় দুইশ’ শিশুর হাত রাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে মেহেদির রংয়ে।

রূপান্তরের পথচলার শুরুর গল্পটা কিছুটা ভিন্ন। তারুণদের দলটি ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের ফার্মেসি গ্রুপের ছাত্রছাত্রীরা ছাড়াও বিভিন্ন বিভিন্ন স্কুল,কলেজ ও ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরাও সংগঠনটির সদস্য। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে কাজে কয়েক বছরের কাজের অভিজ্ঞতার নিয়ে নতুন করে যাত্রা শুরু করে এ সংগঠনটি। আর নাম তাই রূপান্তর। তবে পথ চলার শুরুর অর্জন নবীন হিসেবে মন্দ নয় তাদের। নেপালের প্রলংকারী ভূমিকম্পের ঘটনায় নেপালিদের সহায়তায় ৩৫ হাজার টাকা জোগার করে নেপালি শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিয়েছে তারা।

তবে,পথ চলাটা শুধু উৎসব বা আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছেন না রূপান্তরের সদস্যরা। সামনেই  বৃদ্ধাশ্রমের বৃদ্ধদের জন্য রাখতে যাচ্ছেন কিছু সময়।  এই ধারাবাহিকতায় অব্যাহত থাকবে তরুণদের এই কর্মদীপ্ত পথচলা।

/এআই/এফএএন/  

 

 

 

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।