রাত ০৯:০৭ ; রবিবার ;  ২১ জুলাই, ২০১৯  

স্বদেশের সহোদর || প্রশান্ত মৃধা

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

শৈশবের সীমানা কখনও কখনও খুব গোলমেলে ঠেকে। কেননা, শৈশব বলতে সব সময় শিশুকালকে বুঝি না আমরা, সেখানে বাল্যও ঢুকে যায়। আবার বাল্যের প্রান্তসীমায় দাঁড়িয়ে যে কৌশোর, সেটাকেও ছেলেবেলা হিসেবে জাহির করার রেওয়াজ আছে। ফলে, শৈশবকালীন অবস্থা নিয়ে কথা বলা, তার সীমা নির্ধারণ করা সহজ ঠেকে না। তাছাড়া শৈশব তো শৈশবই, আর স্মৃতি যে সব সময় সবার কাছে খুব অটুট তাই বা বলা যায় কী করে? মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় জোর দিয়ে বলতে পারতেন যে, তাঁর জীবনের আড়াই বছর বয়েস থেকে সবটাই স্মৃতির অন্তর্গত। সেভাবে মনে রাখতে পারলে অবশ্যি শৈশবটা অনেক খানিক দীর্ঘ হয়। আবার, নিজের জীবন তো অথবা জীবের জীবন তো প্রথম নিশ্বাস নেওয়া থেকেই শুরু। তাই মনে থাকুক কি না থাকুক, সেই অংশকেও কোনও ভাবে বাদ রাখা যায় না। 
কিন্তু সেভাবে শৈশবের কোনও স্মৃতি সত্যি হানা দেয় কই? এখন শৈশব বলেতে যদি ওই আাড়াই বছরের কাছাকাছি বয়েসকে বুঝি। নিজের মনের একেবারে গহীনে ঢুকে গিয়ে টের পাই, ওই সময়ের বা এর কাছাকাছি সময়ের প্রায় কিছুই মনে নেই।
দেশ তখন সদ্য স্বাধীন। বাবার চাকরির সুবাদে পিরোজপুরে থাকি, পৈতৃক ভিটে বাগেরহাটে; জায়গা দুটো বেশ কাছেই। যাতায়াত নদী পথে। কিন্তু সে সময়ের প্রায় কোনও স্মৃতি নেই। যা আছে শোনা কথায়, বাবা-মা আর আত্মীয় স্বজনের মুখে। চারদিকে তখনও ছড়িয়ে আছে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের স্মারক, কিন্তু ওই সময়ের কোনও স্মৃতি আমার প্রায় নেই। এর কিছুদিন পরের কিছু কিছু স্মৃতি আছে। কিন্তু, যা আড়াই বছর বয়েসি বাল্য, তার কিছুই মনে নেই। যেমন, মায়ের মুখে শুনেছি, ওই সময়ে পিরোজপুরে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান। মা আমাকে কোলে নিয়ে দেখতে গিয়েছিলেন তাঁকে, লোকে লোকারণ্য সেই সমাবেশ, কিন্তু কোনও ভাবেই মনে করতে পারি না, সেদিনের কিছুই।
কিছুদিন বাদেই, হয়তো বছর দুইয়ের ভিতরে বাবা খুলনায় বদলি হন। সেই সময়ের কিছু কিছু স্মৃতি অস্পষ্ট মনে আছে। অথবা হতে পারে প্রায় বছর আস্টেক খুলনা-বাসের সব স্মৃতি এখানে ওখানে, আগে পাছে মিশে এক জায়গায় এসে একটি আকার নিয়েছে। কখনও কখনও মনে হয়, একেবারে টাকটা স্মৃতি ছাড়া, বাদ বাকি সবই আগের স্মৃতির সঙ্গে পরেরটা পরেরটার সঙ্গে আগেরটা মিশে মিশে সে সব একাকার আয়তন পায়, আকার ধারণ করে। সেই ধারণকৃত অংশগুলোর কোনও কোনওটি প্রয়োজন মাফিক সামনে আসে। কখনও কখনও বর্তমান অতীতের কাছে নিয়ে যায়, কখনও কখনও অতীত এসে বর্তমানের ভিতরে ঢুকে পড়ে।
খুলনায় যে শৈশব, তাতে রূপসা নদী একটি বড়ো জায়গা জুড়ে আছে, একটু উত্তরের ভৈরব ততটা নয়। খুলনা দুই নদী বা নদের শহর। শহরের পুব পাড় ধরে দক্ষিণে নেমে গেছে। রূপসার খুব কাছে থাকতাম। প্রায় দিনই খুব ভোরে ঘুম ভাঙলে দাঁড়াতাম রূপসার কোলে, পাড়ার সঙ্গী সাথীদের সঙ্গে। নদীর ওপরে তাকাতাম, ওপারে তাকাতাম। দুই দিকেই অবারিত। যেন আদি অন্তহীন আকাশের নীচে আমি এক ক্ষুদ্র বিন্দু মাত্র। তবে ওই সকালের বা ভোরের আকাশের চেয়ে বিকালের আকাশ যেন ছিল অনেক বেশি আবেদনময়। ভোর-সকালের আকাশে উলটো দিক দিয়ে ধীরে ধীরে সূর্য উঠত। সে দৃশ্য কোনওদিনই ভোলার নয়। মাঝখানে প্রশস্ত প্রমত্ত নদ। কিন্তু বিকালের আকাশে অনেক পাখি। শহরের দিক থেকে নদীর মন্থর গতিতে ওপারে যাচ্ছে। আকৃতিতে বড়ো প্রায় সারস আকৃতির সেই পাখিগুলো আর কখনই যেন দেখিনি। বক পরেও দেখেছি। হংসসারি প্রায় মালার মতো হয়ে আকাশে ওড়ে। দূর পথ পাড়ি দেয়, কিন্তু বড়ো সেই পাখিগুলো, সারস হোক কি মদনটা, যাই হোক, অমন আর দেখিনি আকাশে। 
এই সময়ে একদিনের ঘটনা। বাবা বিকেলের দিকে সেদিনের দৈনিকটা নিয়ে বসে আছেন। এই সময় তার এক সহকর্মী এসে বললেন, কাজী নজরুল ইসলাম মারা গেছেন! শুনেই বাবা একটু যেন হতবিহ্বল হয়ে তার দিকে তাকালেন। জানতে চাইলেন কখন। তিনি সময়টা বলে আর দাঁড়ালেন না, নিজের বাসার দিকে চলে গেলেন। আমি গুটিগুটি পায়ে বাবার আরও কাছে এগিয়ে এলাম। একটি মৃত্যুর সংবাদ শুনেছি, মৃত্যু বিষয়টা তখন খানিকটা বুঝতে শিখেছি, তাই, বাবার ওই বিহ্বল চাহনির প্রায় কোনও অর্থ না বুঝলেও, নিজের ভিতরে হঠাৎ শোনা সংবাদের প্রতিক্রিয়া হিসেবে খুবই নিচু গলায় জানতে চাইলাম, বাবা, কে মারা গেছে? বাবা নামটি বললেন। সম্ভবত আমি তাতে প্রায় কিছুই যেন বুঝে উঠতে পারলাম না। তাই হয়তো বাবা আমার মুখখানা দেখে বললেন, ‘তোমার ভোর হলো দোর খোলো কবি—।’    
এই কথা আগেও দুই এক জায়গায় শিখেছি। সঙ্গে সঙ্গে আমি বাবার কাছে জানতে চেয়েছিলাম, তার হাতের পেপারে আছে কি না সে খবর? তিনি জানালেন, কালকের পেপারে থাকবে। সেইদিন আমার জান হল, আজ যা ঘটে তা থাকে আগামীকালের পেপারে। এই জানাটা হয়তো শৈশবের জানা নয়, তখন শৈশব থেকে বাল্যে ঢুকে পড়েছি, কিন্তু এটি অবশ্যই ওই জানাটার শৈশব। আর সেটি ঘটেছে এক মহৎ বাঙালির মৃত্যুর ঘটনার ভিতর দিয়ে।
আর একটি ঘটনা। সম্ভবত আর কিছুদিন বাদে। পাকিস্তানের রাজনৈতিক ঘটনা নিয়ে কোনও কিছু বোঝার বয়েস তখন হয়নি। কিন্তু বাবা দেখলাম সন্ধ্যার পর থেকেই খবর শোনার জন্যে খুব উদ্গ্রীব। কিন্তু বিদ্যুৎ নেই। রেডিও শোনার উপায় নেই। ফলে, বিবিসি শোনার সময় হলে তিনি ব্যাটারি কিনে আনলেন। সেদিন পাকিস্তানের এক সময়ের প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টোর ফাঁসি হয়েছিল।
এখন মিলিয়ে দেখি, সত্যি সত্যি এর আগের আর কোনও রাজনৈতিক ঘটনা মনে নেই। তাহলে শৈশবের খুব মোটা দাগের স্মৃতি বলতে এই-ই। তবে এর বাইরে আর প্রত্যেকেরই যে সব ঘটনার ভিতরে দিয়ে যেতে হয়, তার যে যে অংশ থাকে নিজস্ব স্মরণে আর বিস্মরণে সে সব তো প্রায় একই। হয়তো খুবই স্বাভাবিকভাবে যাবে বলা যায় প্রায় উনিশ আর বিশ। 
দেশ স্বাধীন হওয়ার পরের সেই শৈশব অথবা পঞ্জিকার সন তারিখ মিলিয়ে, তাই তো হওয়ার কথা ছিল, যে দেশটিতে জন্মেছি আমি তাতো এক স্বাধীনতাকামী জাতির মুক্তিযুদ্ধের দিন। তখনও অনিশ্চিত স্বাধীনতা আসবে কি না। দেশের প্রান্তরে প্রান্তরে বন্দরে নদীতে পথে, জঙ্গলে সর্বত্রই তরুণ প্রাণ মাতৃভূমিকে স্বাধীন করতে লড়াই করে যাচ্ছেন, প্রাণ দিচ্ছেন। কিন্তু তার ভিতরে জীবনের অবশম্ভাবী শর্ত হিসেবে, এই দিন গোটা পৃথিবীতে এই দেশে জন্মাবো আরও অসংখ্য শিশুর মতো একটি শিশু হিসেবেই আমার জন্ম। সেই মুহূর্তে সেই একটি শিশুকে নিয়ে যে, কোনও একটি শিশুর জন্ম মুহূর্তের মতো সুকান্ত ভট্টাচার্যের সেই অমর কবিতাটি কোনও ভাবে সত্যি ভেবে নেওয়া যায় না। কারণ, পরাধীন দেশে এক অনিশ্চিত জন্মের ভিতর দিয়ে তার দিন যাপন শুরু হয়েছে।
কিন্তু জন্মানোর পরেই সেই দেশটি স্বাধীন। যেন বাংলাদেশ আর নিজের পথ চলা একই সময়ে শুরু। কিন্তু বেড়ে উঠতে উঠতে, যেন সেই শৈশব কোনও ভাবে বাল্যের দিকে যেতে যেতে দেখতে পাই প্রতিটি সন্ধ্যা গাঢ় অন্ধকার ঢাকা। তখন রাতগুলো বড়ো অন্ধকার। খুুলনার একটি বিভাগীয় শহর, সেই শহরে রাস্তার আলোও তখন অন্ধকারময়। আর রাস্তায় অনেক পাগল। দেশের স্বাধীনতা মানুষের জীবন থেকে অনেক কিছু কেড়ে নেয়, এই পাগল মানুষগুলো সেই কেড়ে নেওয়ার স্মারক। বোঝা যায় মুক্তিযুদ্ধ তাকে এই দিয়ে গেছে যে, একমাত্র পাগলামিই তার জীবনে একমাত্র দৃশ্যমান। আর, প্রতিটি সন্ধ্যায় তখন দরজায় ভিখিরি। ফেনের জন্য প্রবল আকুতি। আর চোরের উপদ্রব। 
এর বাইরে, প্রকৃত অর্থে আর সবই তো প্রায় এক। শৈশব তো অত কিছু বোঝে না। বাল্য তো তার চেয়েও দুরন্ত। সে সময়ে একখানা ঘুড়ির পিছনে ছুটে পার করে দেওয়া যায় সারাটা বিকেল। কোথাও বন্ধুদের সঙ্গে একটি পাখির ছানার পিছনে ঘুরে ঘুরে কাটিয়ে দেয়া যায় অফুরন্ত সময়। এর কোনও কিছুতেই কোনও টান পড়ে না। সেখান থেকে ফেরাবোর জন্যে কারও কোনও তাড়া নেই। 
লেখাটার এই পর্যন্ত এসে একটু ভাবতে ইচ্ছে হল, বহু মানুষের শৈশব শোনা যায় অসাধারণ ঐশ্বর্যময়। সেটি আসলে কেমন? সেই ঐশ্বর্যময় শৈশব কি তার রাষ্ট্রীয় সামাজিক সাংস্কৃতিক অবস্থার বাইরে। বাংলাদেশের মতো মুক্তিযুদ্ধে বিধ্বস্ত একটি দেশে শুরু যে শৈশব, সেখানে কারও পারিবারিক জীবনে দারিদ্র্য কি অন্যান্য অনটন থাকতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্রীয় দারিদ্র্যকে মোচন করার কি কোনও মাত্র উপায় কারও জানা ছিল না। রাষ্ট্র এক অর্থে ঐশ্বর্যবান, সে স্বাধীন। কিন্তু সেই স্বাধীনতার জন্যে চরম মূল্য সর্বত্রই সে দিয়েছে, তাকে কীভাবে চাইলেই রাতারাতি মোচন করা যায়? সেই উপায় তো কোনও ভাবে কারও হাতে ছিল না। জানাও ছিল না কারও। সেই সময়ে বেড়ে ওঠা একটি শিশুর জন্যে অথবা সেই সময়ে বেড়ে ওঠা অসংখ্য শিশুর জন্যে আলাদা করে কোনও ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করার মতন বিষয় কি সেই সময়ে সম্ভব ছিল? এই সবই আজ ভাবা যায়, নিজের বেড়ে ওঠার কালকে আজকের সঙ্গে মিলিয়ে ভেবে নেওয়া যায়। কিন্তু সেই দিন, সেই শৈশবের দিনগুলোতে আজ একবার মুখ ফিরিয়ে তাকালে, সেখানে একমাত্র স্বাধীনতা ছাড়া সেই মুহূর্তে আর কিছুই প্রাপ্তির ছিল না। 
অথচ এক সোনালি শৈশবই তো আগামী দিনগুলোকে পথ দেখায়। এক সোনালি শৈশবের চেয়ে আর ঐশ্বর্যবান আর কি হতে পারে। সেই দিক থেকে ভাবলে স্বাধীন বাংলাদেশে বেড়ে ওঠাই সেই শৈশবের সবচেয়ে বড়ো দান। সেই দিনগুলো তাই যত আলোহীন আর যত অন্ধকার ভাবি না কেন, সেই সময়ই সবচেয়ে আলোময়। রাষ্ট্র দেশ স্বাধীনতা ইত্যাদির ধারণা সমাজে গৃহীত হবার পর  সেই তো ছিল সবচেয়ে কাক্ষিত সময়। ফলে, অত অন্ধকারের ভিতরে বেড়ে উঠে, অত বিধ্বস্ত স্মারকের ভিতরে বেড়ে উঠে আজ সেই দিনগুলোর দিকে ফিরে তাকালে তো আনন্দে আহ্লাদিতও হওয়া যায়, স্বাধীন দেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ পেয়েছিলাম। অগ্রজ প্রজন্মের মতো পরাধীনতার শৃঙ্খল পায়ে নিয়ে কোনও ভাবে মাথা নীচু করে বেড়ে উঠতে হয়নি। যদিও এই কথা বলে বা লিখে নিজের কাছে যতটুকু আত্মতৃপ্তিতে ভোগার সুযোগ ঘটত, তাও তো ঘটেনি, কারণ চারদিকে প্রবল অনটন, শুধু পারিবারিক জীবনে গ্রাসাস্বাদনের সুযোগ থাকলেই তো চলে না, সমাজকে রাষ্ট্রকেও একটি শিশুর জন্যে পরিপূরক হয়ে উঠতে হয়। হয়তো আজকের বিবেচনায় তা খুবই অপ্রতুল ছিল। অন্তত আজকের শিশুর বেড়ে ওঠার সঙ্গে মেলাতে গেলে সেই ছবি খুবই জ্বলজ্বল করে ধরা দেয়। 
আর এই সব মিলিয়ে তখন এই ভাবনাও তো সামনে সেই শৈশবে আমার নদীগুলো অটুট ছিল, দেশটা ছিল আরও যেন ফাঁকা ফাঁকা, প্রান্তরসহ সমস্ত সম্পদ নিয়ে আকাশের সঙ্গে গায়ে গা লাগিয়ে খেতগুলো যেন মিলে মিশে থাকত। হয়তো, হয়তো কেন, আসলেই রাষ্ট্রীয়, ঐশ্বর্য অর্জনের সঙ্গে সঙ্গে সেই নদী আর খাল আর ওই অবারিত প্রান্তর আমরা হারিয়ে ফেলেছি। তাই হয়তো সেই শৈশবের মতো আজকের শৈশব প্রাকৃতিকভাবে মোটেই ঐশ্বর্যশালী নয়। কিন্তু প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে কোনও প্রকার তুলনা দেওয়া এই লেখার কোনও উদ্দেশ্যে নয়। একমাত্র নিজের কথা বলতে গিয়ে হয়তো কলমের ডগায় এই কথাগুলো ঘুরে ফিরে এসেছে। হয়তো তাও আসত না, যদি না দিনযাপনের ফাঁদে আজকের বাস্তবতায় সেদিনকে মেলানোর কোনও মাত্র সুযোগ না ঘটত। তবে, সে সুযোগ তো নিজের কাছে নিজের সুযোগ করে নেয়া। সেখানে সেদিনকে আজকের আয়নায় মিলিয়ে দেখার এক অক্ষম চেষ্টা মাত্র। জানা আছে, শৈশব পকেটে না-থাকলে লেখা যায় না। শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের কথামতো তাই নিজের শৈশবকে পকেট থেকে সামনে এনে দেখা। তখন যেন বোঝা যায়, প্রতিভা আর পরিশ্রম দুটো কোথাও মিলেমিশে থাকুক কি নাই থাকুক, এক স্বাধীন দেশে লতিয়ে পেঁচিয়ে ক্লায়ক্লেশে বেড়ে ওঠা এক ঝকঝকে শৈশব তো আছে। সেখানে পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা আছেন, সর্বস্বান্ত পাগল আছেন, হাহাকার খিদে দারিদ্র্য আছে, সেই সঙ্গে জড়াজড়ি করে বহমান আছে স্বাধীনতা। হাওয়ার ভিতরে থাকলে যেমন বোঝা যায় না, হাওয়াতেই নিশ্বাস নিচ্ছি প্রতি মুহূর্তে, যেন সেই স্বাধীনতার ভিতরে বেড়ে উঠতে উঠতে তা উপলব্ধি করা যায়নি অথবা যায় না, কিন্তু সেই বেড়ে ওঠাই আমাদের আমার শৈশবের সবচেয়ে উজ্জ্বল স্মারক।
বাংলাদেশের সমান বয়েসি, বাংলাদেশের সমান শৈশব— এই কথা ভাবতে ভাবতে গোটা দেশটাকেই তখন নিজের সহোদর মনে হয়। এর চেয়ে শৈশবের আর বড়ো প্রাপ্তি কী হতে পারে! 

 


প্রশান্ত মৃধা : কথাসাহিত্যিক এবং প্রাবন্ধিক। বাংলাদেশ। 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।