দুপুর ০১:০২ ; বুধবার ;  ২২ মে, ২০১৯  

আমার আপা আমাকে রোজ নিয়ে যেতো পরীর বাড়ি || খালেদ হোসাইন

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

সরদার বাড়ি গ্রামের সবচে বড় বাড়ি। আমার দাদারা চার ভাই। সবার ঘরে চারটি করে ছেলে। বেশ কটি করে মেয়ে। ছেলেরা  সবাই বিয়ে-শাদি করে ছেলেপুলের বাপ। এই ছেলেপুলেই আমরা। সবাই এক বাড়িতে থাকি। তাই আমাদের সংখ্যা ছিল ভালোই। স্কুলে ভর্তি হবার আগে দুপুরের পর থেকেই সাজুগুজু করে আমরা আমার আপার পেছনে পেছনে ঘুরতাম। আপা মানে আমার ইমিডিয়েট বড় বোনটা। ও আমাদের পরীদের সঙ্গে দেখা করাতে নিয়ে যাবে। পরীদের সঙ্গে তো আর যেনতেনভাবে দেখা করা যায় না! তাই সবার সাজ-পোশাক আর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা পরখ করা হতো। এই সময়টায় আমরা সবাই ভয়ে ভয়ে থাকতাম। কারো মধ্যে কোনো খুঁত পেলে, পরী দেখা তো দূরের কথা, ও উদ্দেশ্যে পা-ই বাড়াতো না আপা। নখ, দাঁত, কান পরীক্ষা করে কারো না কারো কিছু অসুবিধে পাওয়া যেত প্রায়ই। এর জন্য যে-দায়ী, তার ওপর আমাদের খুব রাগ হতো। কিন্তু কী আর করা! পরীরা রাগ করলে নাকি সাংঘাতিক কী কাণ্ড ঘটে যেতে পারে। 

পরপর দুদিন তেমন কাণ্ড হলে, আপা বলতো, ঠিক আছে, গাট্টিদের বাড়ি নিয়ে যাবো।
গাট্টি যে কী তা আমরা জানতাম না। ভাবতাম পরীদের কাছাকাছি কেউ হবে। গরিব পরীও হতে পারে। আমরা তাতেই খুশি।  
তো, আপা কোনোদিন গ্রামের ভেতর দিয়ে বুড়িগঙ্গায় যে পথটা গেছে সেটাতে নিয়ে যেত। মনে কেমন একটা শিহরণ! দেখা হলে কী হবে জানি না। ওদের সঙ্গে কথাবার্তা হবে কি-না তা-ও জানা নাই। ওরা দেখতে কি খুবই সুন্দর, নাকি রাক্ষসের মতে? এমন কৌতূহল কতক্ষণ চেপে রাখা যায়। কেউ এ নিয়ে জিজ্ঞেস করলে আপা বলতো, দেখবিই তো! 
দেখা অবশ্য হতো না। 
‘তোরা একটু দাঁড়া!’ বলে আপা এগিয়ে যেত একটু। একবার এদিকে, একবার ওদিকে। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে কী যেন চিন্তা করতো। আমরা ভাবতাম গাট্টিদের সঙ্গে কথা বলছে হয়তো। 
ফিরে এসে বলতো, ‘না রে! আজ দেখা হলো না। ওদের কী একটা অনুষ্ঠান আছে, তাই আগেই চলে গেছে। কাল আরেকটু আগে আসতে হবে।’      
আমরা মন খারাপ করে কলকল করে ফিরে আসতাম। তখন মাঠ থেকে ফিরে আসছে গরু। খোঁয়ারে মুরগি ঢোকানো জন্য ছুটোছুটি করছে কেউ কেউ আর ‘তই তই তই’ করে চেঁচিয়ে ডেকে আনা হচ্ছে জলের গন্ধমাখা পাতিহাঁসদের। 
মাঠ থেকে ফিরে আসতো বয়সে যারা আমাদের চেয়ে বড়— ফুটবল বা ভলিবল খেলে।  
আমাদের ফিরে আসা দেখে মুরুব্বিরা মুখ টিপে হাসতেন। ততদিনে তো আমাদের উদ্দেশ্য-বিধেয়-তৎপরতা ও সাফল্য তাদের জানাই হয়ে গেছে। কিন্তু তাদের সেই হাসির মানে তখন আমরা ঠিক বুঝতে পারতাম না। এরপর হাতমুখ ধুয়ে বই-খাতা-স্লেট-পেন্সিল বসবার পালা। ভালোও লাগতো না, খারাপও লাগতো না। একটা নিয়ম। কিন্তু পড়তে বসার পরও মাথার ভেতর ঘুরতে থাকতো, ইশ! পরীদের সঙ্গে দেখাটা হলো না। এমনকি গাট্টিদের সঙ্গেও নয়। 
আমাদের বাড়ির সামনেই একটা পুকুর। বড়ই। পুকুরের পুবপাড়ে অনেকটা জায়গা জুড়ে নানা রকম গাছপালা। ওটার নাম ছাড়াবাড়ি। ছাড়াবাড়ির পুবেই ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সড়ক। তারপর একটা ইটভাটা, আমরা বলতাম ইটখোলা। তারপর বিশাল একটা চক। দূরে সামান্য উঁচু একটা রেখা। রাস্তায় দাঁড়ালে দেখতাম ওখান দিয়ে রেলগাড়ি যাচ্ছে। ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ বা নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা। ইটখোলার আশেপাশে ইটের জন্য বিশাল আকৃতির পুকুর। আমরা বলতাম, টাগার। কেন, জানি না। পরী দেখার জন্য আপা কখনো কখনো আমাদের ওদিকটায় নিয়ে যেত। আর কোনো একটা কারণে পরীদের সঙ্গে দেখাটা হতোই না। 
আমাদের বাড়ি ঘেঁষেই যমুনা তেলের ডিপো, তারপাশে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের। মাঝখানে সরু একটা রাস্তা গেছে বুড়িগঙ্গায়। নদীর সেই পাড়টায় এলাহী বক্স কোল্ড স্টোরেজ। ওটার সামনে থেকে খুব ছোট ছোট অনেকগুলো সিঁড়ি গিয়ে মিশেছে নদীতে। আপা পরী দেখাতে, কখনো কখনো সেখানেও নিয়ে যেত। নদী দিয়ে তখন বিশাল বিশাল লঞ্চ যেতো। পরী না দেখতে পারার বেদনা ভুলে আমরা সেইসব লঞ্চযাত্রীদের টা টা দিতাম। মাগরিবের আজান দিলে আমাদের ঘরে ফিরতে হতো। কিন্তু তার আগেই তো পশ্চিমের আকাশ মেঘেদের নানা রঙে মনটাকে মাতিয়ে দিত। আকাশ যেদিন বেশি লালচে হয়ে উঠতো, সবাই বলতো, ওসব নাকি হাসান-হোসেনের রক্ত।  

আপার দুটিই ছেলে। ওরা দুজনেই এখন আমেরিকায় থাকে। চাকুরি করে। বড়টা বিয়ে করেছে। আপার বাসায় গেলে জিজ্ঞেস করি, ‘পরীদের অবস্থা কী রে আপা?’     
আপা হাসে। ও সম্পর্কে কোনো কথা বলে না।   
আজ ভাবি, খুব শৈশবে আমাকে কল্পনার এক দিগন্তহীন সাম্রাজ্য উপহার দিয়েছিল এই আপাটা। 
আমাদের সবারই হাতেখড়ি হয়েছিল দাদার কাছে। স্লেটে দাদা বড় করে কোনো একটা হরফ লিখে দিতো, আমরা তার ওপর হাত ঘুরাতাম। স্লেট থেকে খাতা-পেনসিল আর তারপবে ঝরনা-কলম— এই ধাপগুলো পার হয়েছি দাদার হাত ধরেই। একবার আমার দীর্ঘ উ বর্ণটা অনেক সুন্দর হয়েছে বলে তিনি আমাকে ইয়ুথ নামে একটা ঝরনা কলম উপহার দিলেন। ডি আই টি মাঠে তখন শীতকালে সার্কাসের তাঁবু পড়তো। নানা খাঁচায় বাঘ, ভালুক থাকতো। আর হাতি ঘুরতো এ গ্রাম সে গ্রাম কলাগাছের সন্ধানে। আর আমরা হাতির পেছনে পেছনে কোথায় কোথায় যে চলে যেতাম, তার কোনো ঠিক-ঠিকানা ছিল না। যেদিন কলমটা উপহার পেয়েছিলাম, সেদিনই তা হারিয়ে ফেলেছিলাম হাতির পেছনে ঘুরতে ঘুরতে।    
বাবা ব্যবসায়ী মানুষ। ব্যস্ত থাকেন। একদিন দাদা আমারে রেডি করে নিয়ে গেল ফতুল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, ভর্তি করানোর জন্য। প্রধান শিক্ষক আফসার উদ্দিন আহমেদ নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে নৌকা-লঞ্চ সংঘর্ষে বাঁ হাতে প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছিলেন। তাই দেখতে হাতটা স্বাভাবিক ছিল না। একজন ছিলেন সেকেন্ড স্যার, সবাই ডাকতো বাঁউয়া স্যার। তিনি সব কাজ বাঁ হাতে করতেন। এ যুগে জন্মালে আর ক্রিকেট খেললে দক্ষতার পরিচয় দিতে পারতেন। কিন্তু স্কুলে যাওয়ার আগেই বেত ব্যবহারে তার দক্ষতার কথা শুনেছিলাম। আশ্চর্যের বিষয়, সবাই যে তাকে বাঁউয়া স্যার বলতেন, এতে তিনি রাগ করতেন না। আরেকজন ছিলেন মোটা স্যার। কোনোদিন তার আসল নামটা জানা হয়নি। দলিল স্যার ছিলেন খুব রাগী। তিনি চশমা পড়তেন। আর পিটি-খেলাধুলা করাতেন রতন স্যার।  
আমাকে ভর্তি করানো হলো। স্যাররা এ উপলক্ষে চা আর টোস্ট বিস্কুট খেলেন। 
পরে আমার ছোট দুই বোন আর ওর বয়সী যারা ছিল তাদের কিন্তু স্কুলে ভর্তি করিয়েছিলাম আমি। মেয়েদের পড়াশুনার ব্যাপারে কারো কোনো গরজ ছিল না বলেই মনে হয় দায়িত্বটি আমি নিয়েছিলাম।   
স্কুলটা আজব। পড়াশুনা তেমন করতাম না। কিন্তু প্রত্যেক বছর ফার্স্ট হতাম। আমার আপার (নওরাজ) ও পরে বোন দুজনেরও (আফরোজ, দিলরোজ) একই অবস্থা। স্কুলের ভেতরটা খোলা— কোনো পার্টিশান ছিল না। পুবদিকের দেয়াল ঘেঁষে একটা টেবিলে স্যার বসতেন, তিন দিক থেকে পাতা বেঞ্চিতে আমরা বসতাম। একপাশে কেবল মেয়েরা বসতো। সকালে ওয়ান আর টু। তারপরে থ্রি থেকে ফাইভ। সবাই সবাইকে দেখতে পারতাম। একজন কেউ পিটুনি খেলে সারা স্কুল জানতে পারতো। 
স্কুলে প্রতি বুধবার টিফিনের পর বিচিত্রানুষ্ঠান হতো। ছড়া, কবিতা পড়া বা নাচ গান, কৌতুক বলা। বছর শেষে একটা বড় অনুষ্ঠান হতো। সেই অনুষ্ঠানে পুরস্কার দেয়া হতো। থালা, বাটি, কাপ-পিরিচ— এইসব। অনুষ্ঠানের শুরুতে হাতে গাঁথা তাজা ফুলের মালা নিয়ে লাইন ধরে শাড়ি পরা মেয়েরা মঞ্চের দিকে এগিয়ে যেতো এই গানটি গাইতে গাইতে, ‘সারা সকালটি বসে বসে এই, সাধের মালাটি গেঁথেছি, পরাবো বলিয়া তোমারও গলে মালাটি মোরা এনেছি। এই ধরো ধরো, মালাখানি পরো ওহে সভাপতি গুণধর!’ মঞ্চে যত চেয়ার বসানো যেতো, ততজন অতিথি। সভাপতি গুণধরকে খুঁজে পাওয়া সহজ হতো না। ভুল কাউকে মালা পরিয়ে দেয়া হলে, সেই মালা খুলে শিক্ষকদের কেউ গুণধরকে মালাটি পরিয়ে দিতেন।  
আমি যখন ক্লাস ফোরে পড়ি তখন আমার ক্লাসমেট মোহাম্মদ আলীর ছোটভাই আওলাদ আমার লেখা একটা ছড়া পড়ে দ্বিতীয় হয়েছিল। হাস্যকর সেই ছড়া। কিন্তু আমার মনে আছে। মর্মানিন্তকভাবে লজ্জিত হই সেই কথা ভেবে। ছড়াটা (?) :
    মেয়ে তখন চালে 
    সন্ধ্যা হয়ে গেলে
    মা তখন বলে
    পড়তে বসলি না রে? 
    অমনি মেয়ে পড়ে 
    চিৎকার করে
    মা গো বাবা
    দাদা গো নানা!
এ পুরস্কার অসম্ভব ছিল না। কারণ আমার এক চাচা, বাবার চাচাতো ভাই, সবাই তাকে ‘বগা’ ডাকতো স্কুলে আর বাড়িতে ‘পেনা’। কেউ বলতো বকের মতো গলা লম্বা বলে, কেউ বলতো মাছ-ধরার পাগল বলে ওর নাম বগা। কিন্তু পেনা? জানা হয়নি। ও, মনে পড়েছে, সেই পেনা চাচা ওই অনুষ্ঠানে সব সময় ‘ফান্দে পড়িয়া বগায় কান্দে রে!’ গানটা গাইতেন। তাতে কোনো পুরস্কার জোটেনি। তখন রেডিওতে প্রচারিত একটা ছাতার বিজ্ঞাপনের গান ‘ও ভাই দেশে আইলো আলাউদ্দিনের ছাতা!’ গেয়ে পুরস্কার পেয়েছিলো। স্কুলের সেই বিচিত্রানুষ্ঠানে আমি অংশ নিইনি কখনো। লজ্জা পেতাম। কিন্তু বাসায় ফিরে মনে আশ মিটিয়ে বিচিত্র কর্মকাণ্ড করতাম। বাসার খাটরে মশারীর সামনের দিকটা তুলে দিলেই একটা মঞ্চ হয়ে যেতো। দর্শকের অভাব ছিল না। কাজিনরা তো ছিলই, চাচী-ফুপুরাও যোগ দিতো, মা-ও কখনো কখনো। আমি তখন নানা রকম অভিনয় করতাম, আবৃত্তি করতাম, দুষ্টুমি করতাম। ওই মঞ্চে আমিই এক-নায়ক যে! দর্শকরা মজাই পেতো। আমারও ভালোই লাগতো। বিপদ হতো, বাসায় কোনো অতিথি এলে যখন সেইসব কর্মকাণ্ড ফের করতে বলা হতো। আমি তো ভালো ছেলে! ওসবের মধ্যে আমি নাই। 
পেনা চাচার কথা অরেকটু বলা দরকার। বর্ষাকালে মাছ ধরার জন্য তিনকোনা একটা বাঁশের ফালি দিয়ে তৈরি করা ‘ওছা’ ঠেলতে ঠেলতে কোত্থেকে দূর-দূরান্তে নিয়ে যেতো। আমরা দল বেঁধে যেতাম তার পেছনে পেছনে। শাপলা তুলতাম। শালুক তুলে খেতাম। ঢেঁপ খেতাম। আর বাসায় ফিরে বকুনি। 

বাড়ি থেকে স্কুল খুব দূরে নয়। সকালে উঠে আমরা স্লেট মাজতাম। গোসল করতাম। নাস্তা খেতাম। স্কুলে রওনা হতাম আগেই। কারণ প্রায় সমস্ত রাস্তা জুড়ে গা ঘেঁষাঘেষি করে হিজলগাছ ছিল রাস্তার পাড়ের খালের ওপরে ঝুঁকে। বইপত্র রেখে আমরা অনেকক্ষণ ‘গাইছ্যা গাইছ্যা’ খেলতাম। একজন গাছে উঠতো, অন্যরা নিচে। 
—গাইছ্যা রে ভাই গাইছ্যা!
—কী রে ভাই গাইছ্যা?
—গাছে উঠছস কেন?
—বাঘের ডরে।
—বাঘ কই?
—মাটির তলে
—আমারে তুই নিবি?
—ধরতে পারলে আবি।
তারপর এগাছ ও গাছ ধাওয়া। কেউ মাটিতে নামতে পারবে না। নামলে পচ্যা। 
স্কুলে যেতে খুব ভালো লাগতো না। কিন্তু বিষ্টি-বাদলার সম্ভাবনা দেখলে আমাদের উৎসাহ বেড়ে যেতো। কারণ ভিজে নেয়ে স্কুলে গেলেই ‘রেইনি ডে’র ছুটি। আমরা আরো বেশি করে ভিজে কাদাটাদা মেখে বাসায় ফিরতাম, এটা বোঝানোর জন্য যে বিদ্যা অনুশীলনে আমাদের আগ্রহ বিদ্যাসাগরের চেয়ে কিছু কম না। ভিজেটিজে বাসায় ফিরলে আমাদের আদর-কদর বেড়ে যেত। মা-ফুপুরা গা মাথা মুছিয়ে ঘি-চিনি-মাখা মুড়ি খেতে দিতো আর আহা-উহু করতো। আহা, তখন কী আর জানতাম এ বিদ্যা তাদের অনেক আগেই জানা! 
স্কুলে মাঝে মধ্যে টিকা দেয়ার জন্য লোক আসতো। হাতে ব্যাগ, চোখে চশমা। পোড়ানো সুঁই দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে সেই টিকা দেয়া। ওরে কষ্ট! তাই স্কুলে অপরিচিত চশমাঅলা ব্যাগ হাতে কাউকে আসতে দেখলে সবাই বই-খাতা রেখেই পালিয়ে যেতো। যারা পারতো না পালাতে, তাদের আহাজারিতে স্যারদের পালাই পালাই অবস্থা হতো।    
আমার ছোট দাদার বাসায় যে রাখাল ছিল ওকে সবাই ডাকতো ‘রইস্যা পাগলা’। প্রায় সময়ই বিড়বিড় করতো। অনেক সময়ই বেশ জোরে জোরে নানা ডায়ালগ ঝাড়তো, ‘বন্দি, আমাকে রাজা বলে স্বীকার করো!’ বা এই ধরনের। সব যাত্রার ডায়ালগ। কিন্তু একাত্ম হয়ে যেত সেই বক্তব্যের সঙ্গে। সবাই মজা পেতো। আমি ওকে খেয়াল করতাম। পছন্দও করতো আমাকে। কিন্তু কিছু বললে তার জবাব সে দিতো সেই যাত্রার ভঙ্গিতেই। ‘না, না, না! এ প্রশ্ন তুমি আমাকে কোরো না! দেশ-দেশান্তরে ঘুরেও তুমি এর জবাব পাবে না!’   
তখন তো যৌথ পরিবার। রান্না-বান্নার মূল দায়িত্ব মায়ের। বলা চলে, প্রায় সকাল-সন্ধ্যা মা’টা আমার রান্নাঘরের মানুষ। তবু ফাঁক ফোঁকরে বইপত্র পড়তেন, কবিতা লিখতেন। স্টিলের আলমারিতে মরক্কো চামড়ায় বাঁধানো কিছু বই ছিল তার। আলিফ লায়লা বা হাজার রজনির গল্প, বিষাদ-সিন্ধু, আনোয়ারা— নানা পুথি। এগুলো মা আগলে রেখেছিলেন। এসবের মধ্যে যে তার মৃত বাবার স্মৃতি গাঁথা আছে। হয়তো মায়েরও। আমার বড়ভাই (শাহাদাত হোসাইন) পড়তে পেরেছিল কি-না, মনে নেই, কিন্তু মা একটা একটা করে আমাকে পড়তে দিয়েছিলেন, তখন ওইগুলো তেমনভাবে বোঝার বয়স হবার আগেই। মায়ের লেখা কবিতা ভাই গোটা গোটা হরফে লিখে ওর পড়ার টেবিলের সামনে এঁটে রাখতো। থাকতো অনেকদিন। এটাই বোধ হয় আমার মায়ের কাব্য-সাধনার একমাত্র স্বীকৃতি।  
বাসায় অনেক কটি পত্রিকা রাখা হতো। মূলত ভাইয়ের ইচ্ছায়। সাপ্তাহিক বলতে তখন ‘বিচিত্রা’ ‘চিত্রালী’ আর ‘বেগম’। কীভাবে যেন কবিতা লেখার দিকে ঝুঁকে পড়লাম। কবিতা লিখে আবু তাহের নামে যে হকার আমাদের পত্রিকা দিতেন, তার হাতে দিতাম। তিনি মুচকি হেসে তা পকেটে ঢুকাতেন। আর আমি পরদিনের পত্রিকার সর্বত্র সেই কবিতা খুঁজতে থাকতাম। আমাদের গৃহশিক্ষক ছিলেন মাহতাব স্যার। সিলেটের গোলাপগঞ্জ থানার দক্ষিণ ভাদেশ্বরে তার বাড়ি। একদিন তিনি হকারের হাতে কবিতা গুঁজে দেয়া দৃশ্য দেখে ফেললেন। আমাকে নিয়ে গেলেন পোস্টাপিসে। পঁচিশটা ইনভেলাপ কিনে দিলেন। তারপর শিখিয়ে দিলেন লেখার সঙ্গে কীভাবে সাহিত্য-সম্পাদককে চিঠি লিখতে হয়। ঠিকানা লিখতে হয়। অপেক্ষা করতে হয়। তিন চার বাক্যে স্যারের লেখা সেই গৎ আমি দীর্ঘদিন ব্যবহার করেছি। 
সেই সময় আমাদের দিনগুলো খুব বড় ছিল। কত কী যে করে বেড়াতাম! গুলতিকে আমরা বলতাম ‘ছিটকা’। ওটা নিয়ে পাখি শিকার করতে যেতাম নানা জঙ্গলে। যে রেললাইনটির কথা আগে বলেছি, আমি, অলি, তসলিম আর আনার দল বেঁধে ওই রেলাইন পেরিয়ে যেতাম বিশাল বাঁশের জঙ্গলে। বন বলাই ভালো। পাখিদের কিচিরমিচিরে কান ঝালাপালা। গুলতি দিয়ে পাখি শিকার সহজ না।
কিন্তু আমাদের মনে অ্যাডভেঞ্চারের আনন্দ উপচে পড়তো। বাড়ি ফিরবার পথে একটা পাখিকে প্রায় শিকার করেই ফেলেছিল, এই নিয়ে  গল্প হতে থাকতো। 
তবে অনেক সময় সবার সঙ্গে থেকেও আমি একা হয়ে যেতাম। আকাশে মেঘের দিকে তাকালে আমি রবীন্দ্রনাথকে দেখতে পেতাম। এমনকি রাতে শুয়ে মশারীর ভাঁজেও দেখতে পেতাম রবীন্দ্রনাথকে। কিন্তু এসব কথা বলা যেত না কাউকে। কবিতা লিখতাম, মানে ছড়া ধরনের কিছু। রূপকথার ধরনে গল্প, ছোট্ট একটা নোটবুকে। ছবি আঁকতাম। রং পেনসিল ছিল। জলরঙ ছিল। আঁকতেও ভালো লাগতো। 
তখন সাপ্তাহিক ছুটি ছিল রোববার। রেডিওতে ছোটদের অনুষ্ঠান শুনতাম নিয়মিত। মাসের দ্বিতীয় ও চতুর্থ রোববারে ‘রানারের ঝুলি’ নামে একটা অনুষ্ঠানে ছোটদের পাঠানো লেখা পড়ে শোনানো হতো। লেখা পাঠাতাম। নাম-ঠিকানাসহ যখন সেই লেখা পাঠ করা হতো অশেষ আনন্দে মন ভরে উঠতো। কিন্তু আমার এই বিষয়ে অন্য তেমন কারো আগ্রহ ছিল না, মা ছাড়া। আমি পড়াশুনা করি, এটা বাবা চাইতেন। কিন্তু লেখালেখি করি, এটা কোনোদিন পছন্দ করেননি। বাবার ধারণা ছিল, লেখকরা অতি গরিবের জীবন যাপন করে। তবে ‘রানারের ঝুলি’তে আমার একটি ছড়া পড়ার বাবা শুনেছিল। শুনে হেসেও ছিলেন। 
তখন কিন্তু ছোটদের পত্রিকা ভালোই ছিল। বাংলাদেশ বেতার থেকে ‘শাপলা-শালুক’ বাংলা একাডেমি থেকে ‘ধান শালিকের দেশ’, চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা থেকে ‘নবারুণ’, ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে ‘সবুজ পাতা’। পরে শিশু একাডেমী থেকে ‘শিশু’ আর দৈনিক বাংলা থেকে ‘কিশোর বাংলা’। দৈনিকগুলোর ছোটদের পাতাগুলোও অনেক ভালো লাগতো। বেশি ভালো লাগতো যখন আমার লেখা ছাপা হতো। 
ছেলেবেলায় উৎসব বলতে ছিল দুটি ঈদ আর বাংলা নববর্ষের মেলা। রমজানের চাঁদ দেখার আনন্দ। রোজা তো রাখতে পারতাম না। সেহরি খেতাম ঠিকই। দুপুরের দিকে জান কাহিল হয়ে যেত। সবাই মিলে তখন একটা কিছু খাইয়ে ইফতার করাতো, আর বলতো এটা হলো হাফরোজা। এমন আরেকটা হলে একটা রোজা পুরো হবে। অনেক উৎসাহের সঙ্গে এমন-কিছু হাফরোজা করে ফেলতাম। কিন্তু মূল উৎসাহ ছিল ঈদের নতুন জামা-জুতা। মজিবর নামে এক দর্জি আমাদের জামার মাপ নিয়ে যেত। একদিন আমরা গিয়ে কাপড় পছন্দ করে দিয়ে আসতাম। এসব জামা-কাপড় যেদিন দেয়ার কথা কখনো সেদিন দেয়া হতো না। বারবার গিয়ে তাগাদা দিয়ে আসা হতো। লাভ হতো না। ঈদের আগের রাতে পেলেও হতো। সেই চাঁদরাতে জামা-জুতোর প্যাকেট নিয়ে আমরা ঘোরাঘুরি করতাম, কাউকে দেখাতাম না। এ নিয়ে ঝগড়াঝাঁটি, এমনকি মারামারিও হয়ে যেতো। 
জামা সব সময় ঈদের আগে পেয়েছি এমন নয়। একবার তো রাতজাগা লাল লাল চোখ নিয়ে মজিবর সাহেব জামাটামা নিয়ে এলেন ঈদের দিন সকালে, ঈদের নামাজের খানিকটা আগে। তারপর আবার দেখা গেল, ভাইয়ের শার্টের দুই হাতার দৈর্ঘ্য দুই রকম। সে নিয়ে কী কাণ্ড, তা বলবার মতো নয়, ভুলবার মতোও নয়। 
ঈদের দিনে দামি সাবান দিয়ে গোসল করে জামায় আতর মেখে, তুলো দিয়ে কানে আতর গুঁজে মুখে সামান্য সেমাই কী পায়েস মুখে পুরে মসজিদে হাজির হতাম। ঈদের মেলা তো না, কানা মুসলিম একটা চট বিছিয়ে নানা রকম জিনিসপত্র নিয়ে বসতো। প্লাস্টিকের চশমা, ঘড়ি, মাথা-ঝুলানো বুড়ো, কাগজের সাপ, ঢোল-বাজানো মাটির চাকার গাড়ি, বেলুন (আমরা বলতাম ফোটকা), বাঁশি-বেলুন— এইসব। সেই চশমা চোখে দিলে সবকিছু ঝাপসা দেখাতো, কিন্তু তবু চোখ থেকে তা খুলতে চাইতাম না। আর ঘড়ির কাঁটা তো মুদ্রিত কাগজে অনড়। তবু সময় গড়িয়ে যেতো। এর মধ্যেই দল বেঁধে এর-ওর বাড়িতে গিয়ে খাওয়া-দাওয়া, মানে হৈ-হুল্লোড়। কোরবানির ঈদে গরু কাটা, মাংস বিলানো নিয়ে বড়রা ব্যস্ত থাকতো বলে আমাদের দিকে তেমন নজর থাকতো না। তবু আমাদের নিজেদের মতো করে মজা করতাম ঠিকই।  
আর বাংলা বছরের প্রথম দিন ফতুল্লায় যে মেলা হতো, আমরা তাকে বলতাম ‘বান্নি’। এ দিনটি পালিত হতো ঈদের মতো। বিশ্বাস ছিলো, বছরের প্রথম দিনটি যেভাবে যায়, সারা বছরে সেভাবে যাবে। এদিন আমরা নতুন জামা জুতো পরতাম, ঈদের মতোই রান্নাবানা হতো। কিন্তু আমাদের মন পড়ে থাকতো বান্নিতে। কখন যাবো, কী কী করবো, কী কী খাবো, কী কী কিনবো। আমাদের বাড়ির সামনেই তো বান্নিতে যাবার রাস্তা— দেখতাম, সকাল থেকে মিছিলের মতো মানুষ যাচ্ছে আর আসছে। প্যাঁ পোঁ বাঁশি বাজছে, ঢোল বাজছে, রঙিন হাঁড়িতে বা নক্সা-করা কলস ভরে নানা ধরনের খাবার নিয়ে যাচ্ছে। নৈমিত্তিক বাজারও কারো কারো হাতে। ছোটদের হাত ধরে রাখা হচ্ছে যেন হারিয়ে না যায়।
মেলা উপলক্ষে ফুপুরাও আসতেন। ফলে আমাদের সব মিলিয়ে ভাইবোনের যে সংখ্যা হতো, সবাইকে মেলায় নিয়ে যাওয়া যে কারো জন্যই ছিল ঝামেলার, এখন বুঝি। এ দায়িত্ব পড়তো ছোট চাচার ওপর, আমরা ডাকতাম আমজাক্কা (আমজাদ কাকা)। সকাল থেকেই তা পেছনে দল বেঁধে ঘুরতাম। কাকা ‘একটু পরে’, ‘একটু পরে’ করে, আরো নানা তালবাহানা করে যতটা পারা যায়, দেরী করতেন। যাওয়া হতো দুপুরের খাওয়া-দাওয়ার পরে। বেলার সঙ্গে সঙ্গে মেলা বাড়তে বাড়তে আমাদের বাড়ির কাছ পর্যন্ত চলে আসতো। কাকার সঙ্গে একজন দুজন কাজের লোক যেতো। যেতে যেতে দেখতাম কুলফি মালাই, শরবতের দোকান, সাজানো পানের দোকান, গাট্টা বা কটকটি, শন পাপর, বরুইয়ৈর আচার, হলুদ মশলা-মাখানো সিদ্ধ ডিম, আলুর দম, হাওয়াই মিঠাই (আমরা বলতাম তুলা), আর ভাজা হচ্ছে নিমকি, পেঁয়াজু, পিটি, জিলিপি। আছে মুড়কি, মুরুলি, বটি-কাঁচি, পিঁড়ি, ঘটি-বাটি রাজ্যের সব জিনিসপত্র। অনেক কষ্ট করে মেলায় পৌঁছুতে পারলেও ঘোরাফেরা সহজ ছিল না। বাজারের দক্ষিণ দিকটায় আমাদের দাঁড় করিয়ে কাকা কাজের লোকদের নিয়ে এটা সেটা কিনে এনে স্তূপ করতেন। এমনও হয়েছে, ভিড়ে যাতে হারিয়ে না যাই এ জন্য, দড়ি কিনে এনে একটা ঘের তৈরি করে তার ভেতরে আমাদের ঢুকিয়ে রেখেছে। ঘেমে-নেয়ে একাকার আমরা তাতেও আনন্দিত। বাড়ির ফর্দ-মাফিক জিনিসপত্র কেনা হলে আমাদেরটা শুরু। কার কী লাগবে, আমরা বলতাম ওরা কিনে এনে দিত। নানা রকম খেলনাই মূলত। বাঁশি, চশমা ওই ঈদে যা কিনতাম, তেমনই। ফিরে এসে সে কী আনন্দ!   
শীতকালে বাড়ির দক্ষিণদিকে বরুই গাছতলায় আগুন পোহানো একটা উৎসব হতো। বড়রাও তাতে যোগ দিতো। চাঁদনি রাতে আমরা মাঠে খেলাধুলা করতাম। দাড়িয়াবান্ধা, গোল্লাছুট, কাবাডি। গোসল করতে গেলেও ছোঁয়াছুঁয়ির একটা খেলা ছিল। শীতকালে পুকুর বা টাগার বা নদীরপাড়ে আমরা অনেকটা সময় ধরে বসেই থাকতাম। এক সময় কেউ কাউকে ধাক্কা দিয়ে পানিতে ফেলে দিতো। আস্তে আস্তে সবাইকে পানিতে নামতে হতো। আর একটা খেলা ছিল জল-ছিটানি। একজন আরেকজনের মুখে অনবরত পানির ঝাঁটা দেয়ার খেলা। এর শুরু হতো হাসতে হাসতে আর শেষ ঝগড়াঝাঁটিতে। 
আমাদের বাড়ি থেকে মাইল দেড়েক দূরে আছিমতলা, ওখানে একটা গায়েবি মসজিদ আছে, আমরা জানতা। মুরুব্বিরা বলতেন অনেক বছর আগে এ মসজিদটা একরাতে মাটি ভেদ করে উঠে এসেছিল। এখন ওটা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে। সেসব থাক। ওই মসজিদটা সামনে বিশাল এক বকুল গাছ ছিল। আমরা কোনো-কোনো ভোরে সেই ফুল কুড়াতে যেতাম। ফুল দিয়ে মালা গাঁথতাম। বকুল ফুলের গন্ধ তো অনেকদিনই থাকে। আমি এখনো সেই ঘ্রাণ পাই।   

সকালে মাঠাঅলা আসতো। একজনের নাম পঁচা অারেকজনের নাম মনে নাই। আমরা রোজ সকালে মাঠা-মাখন খেতাম। ওই গ্লাসে একটা রসগোল্লা দিয়ে দেয়া হতো। 
কৈশোরে আসার আগ পর্যন্ত আমাদের চুল কাটতে আসতো ‘বউক্কার বাপ’। বড় ছোট সবাই ওই নামেই ডাকতো। একটা পিঁড়িতে বসিয়ে দুই হাঁটুতে মাথা চেপে বাটিছাঁট বা ন্যাড়া। আহা, কী যে কষ্ট। ভোলার নয়।   
মার্বেল ছিল, ঘুড়ি-লাটাই ছিল। মাটি ছিল, আকাশ ছিল। গ্রীষ্ম-বর্ষা-শরৎ ছিল, হেমন্ত-শীত-বসন্ত ছিল। রঙ ছিল, রস ছিল। বন্ধু ছিল। ভয় ছিল। সাহস ছিল হাসি ছিল, কান্না ছিল। মায়া-ছিল-মমতা ছিল। অঢেল আনন্দ ছিল। সত্যি, শৈশব এক অন্তহীন আনন্দলোক। বয়স বাড়ে, মানুষ বদলে যেতে থাকে কিন্তু শৈশবটা তার মনের গহীনে মিশে থাকে। সুখে-দুঃখে আমরা তাই শৈশবের কাছে ফিরে যাই। আমিও ফিরে যাই বাসার সামনে সেই ছোট্ট বাগানটায় যেখানে দূর্বাফুল, বেলী ফুল, গন্ধরাজ আর কলাবতী ফুটে থাকতো। ফিরে যাই উঠোনের উত্তর পাশে জিগাগাছটার কাছে যার আঠা পাটখড়িতে লাগিয়ে ফড়িং ধরার জন্য ছুটতাম, বাড়ির সামনে তালগাছটায় ঝুলে থাকা বাবুই পাখিদের বাসাগুলোর সৌন্দর্যের কাছে। ফিরে যাই মায়ের মায়াভরা চোখের কাছে, বাবার নির্ভরতার কাছে। মূলত বিশাল এক প্রাকৃতিক ও মানবিক মায়াবী আয়োজনের কাছে।    

 


খালেদ হোসাইন : কবি প্রবন্ধিক ও অধ্যাপক। বাংলাদেশ। 

 

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।